ঢাকা ০২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট
তীব্র গুঞ্জন

সোমবারই পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তীব্র দলীয় চাপ ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা স্যার কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবার (২২ জুন) পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ক্ষমতা ছাড়ার ক্ষেত্রে তিনি একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি (টাইমটেবিল) ঘোষণা করতে পারেন বলেও ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলোতে খবর বেরিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভার-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রিসভার সদস্য, দলীয় শীর্ষ নেতা, দাতা এবং ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর স্টারমার বুঝতে পেরেছেন যে তার পক্ষে আর দলীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ধরে রাখা সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিয়ার স্টারমার এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও, চলতি উইকএন্ডে (সাপ্তাহিক ছুটি) তার সরকারি গ্রামীণ বাসভবন ‘চ্যাকার্স’-এ স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করছেন। লেবার পার্টির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, সোমবারের মধ্যেই তিনি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি স্পষ্ট ও চূড়ান্ত বিবৃতি দিতে পারেন।

অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র এখনও এই খবরগুলোকে ‘জল্পনা-কল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, স্টারমার এখনও দেশ পরিচালনার কাজেই মনোনিবেশ করে আছেন। এর আগে গত শুক্রবারও স্টারমার জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি যেকোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করবেন এবং দলকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে না জড়ানোর আহ্বান জানান।

অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জয় ও স্টারমারের ওপর চাপ
২০২৪ সালে লেবার পার্টিকে বিশাল জয় এনে দিলেও, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক স্ক্যান্ডাল, নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন এবং স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির কারণে স্টারমারের জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে।

বিশেষ করে গত শুক্রবার (১৯ জুন) মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে স্টারমারের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তথা গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বিদায়ী মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর স্টারমারের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই জয়ের ফলে বার্নহ্যামের জন্য সরাসরি লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার আইনি পথ উন্মুক্ত হলো।

বার্নহ্যামের সমর্থকদের দাবি: ৪০০-এর বেশি আসনের লেবার পার্টির মধ্যে ইতিমধ্যেই ২০১ জনেরও বেশি আইনপ্রণেতা (এমপি) বার্নহ্যামের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে হাউস অব কমন্সে স্টারমারের নিজের অবস্থান চরমভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

নতুন নেতৃত্বের দাবি শ্রমিক সংগঠনের
লেবার পার্টির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ও প্রভাবশালী শ্রমিক সংগঠন ‘ইউনাইটেড’-এর প্রধান শ্যারন গ্রাহাম সাফ জানিয়েছেন, কিয়ার স্টারমারের এখন সরে দাঁড়ানো উচিত এবং দলের স্বার্থেই একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমার যদি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন বা অনাস্থা ভোটের মুখে পড়েন, তবে গত এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্য তার সপ্তম প্রধানমন্ত্রী দেখতে যাচ্ছে। ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকেই ব্রিটিশ রাজনীতিতে যে ধারাবাহিক অস্থিতিশীলতা চলছে, এই সংকট তারই নতুন অধ্যায়। আগামী কয়েক দিন যুক্তরাজ্যের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ

তীব্র গুঞ্জন

সোমবারই পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

আপডেট সময় ১১:৪৩:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তীব্র দলীয় চাপ ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা স্যার কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবার (২২ জুন) পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ক্ষমতা ছাড়ার ক্ষেত্রে তিনি একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি (টাইমটেবিল) ঘোষণা করতে পারেন বলেও ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলোতে খবর বেরিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভার-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রিসভার সদস্য, দলীয় শীর্ষ নেতা, দাতা এবং ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর স্টারমার বুঝতে পেরেছেন যে তার পক্ষে আর দলীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ধরে রাখা সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিয়ার স্টারমার এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও, চলতি উইকএন্ডে (সাপ্তাহিক ছুটি) তার সরকারি গ্রামীণ বাসভবন ‘চ্যাকার্স’-এ স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করছেন। লেবার পার্টির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, সোমবারের মধ্যেই তিনি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি স্পষ্ট ও চূড়ান্ত বিবৃতি দিতে পারেন।

অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র এখনও এই খবরগুলোকে ‘জল্পনা-কল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, স্টারমার এখনও দেশ পরিচালনার কাজেই মনোনিবেশ করে আছেন। এর আগে গত শুক্রবারও স্টারমার জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি যেকোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করবেন এবং দলকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে না জড়ানোর আহ্বান জানান।

অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জয় ও স্টারমারের ওপর চাপ
২০২৪ সালে লেবার পার্টিকে বিশাল জয় এনে দিলেও, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক স্ক্যান্ডাল, নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন এবং স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির কারণে স্টারমারের জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে।

বিশেষ করে গত শুক্রবার (১৯ জুন) মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে স্টারমারের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তথা গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বিদায়ী মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর স্টারমারের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই জয়ের ফলে বার্নহ্যামের জন্য সরাসরি লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার আইনি পথ উন্মুক্ত হলো।

বার্নহ্যামের সমর্থকদের দাবি: ৪০০-এর বেশি আসনের লেবার পার্টির মধ্যে ইতিমধ্যেই ২০১ জনেরও বেশি আইনপ্রণেতা (এমপি) বার্নহ্যামের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে হাউস অব কমন্সে স্টারমারের নিজের অবস্থান চরমভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

নতুন নেতৃত্বের দাবি শ্রমিক সংগঠনের
লেবার পার্টির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ও প্রভাবশালী শ্রমিক সংগঠন ‘ইউনাইটেড’-এর প্রধান শ্যারন গ্রাহাম সাফ জানিয়েছেন, কিয়ার স্টারমারের এখন সরে দাঁড়ানো উচিত এবং দলের স্বার্থেই একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমার যদি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন বা অনাস্থা ভোটের মুখে পড়েন, তবে গত এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্য তার সপ্তম প্রধানমন্ত্রী দেখতে যাচ্ছে। ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকেই ব্রিটিশ রাজনীতিতে যে ধারাবাহিক অস্থিতিশীলতা চলছে, এই সংকট তারই নতুন অধ্যায়। আগামী কয়েক দিন যুক্তরাজ্যের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।