ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ফের ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) পাওয়ার বিধান সীমিত করতে আবারও নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক সপ্তাহ আগেই তাঁর আগের একই চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আটকে গেলেও বৃহস্পতিবার তিনি এ সংক্রান্ত দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। সূত্র: বিবিসি।

হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম নির্বাহী আদেশটিতে নির্দিষ্ট কিছু অ-নাগরিকের আওতা বা সংজ্ঞা আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। ফলে এ ধরনের ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ হারাবে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশটির লক্ষ্য হলো তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’—অর্থাৎ সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে গর্ভবতী নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা ভ্রমণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।

ওভাল অফিসে আদেশে স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এই পদক্ষেপটি বহু আগেই নেওয়া উচিত ছিল; আমরা সেটাই এখন বাস্তবায়ন করছি।” একই সাথে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের পূর্বের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

নতুন নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর মা-বাবা উভয়েই যদি অ-নাগরিক হন এবং তাদের অন্তত একজন—

  • কোনো বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হন,
  • কোনো বিদেশি সরকারের কর্মচারী হন,
  • প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অভিবাসন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিংবা
  • এমন কোনো মার্কিন ভূখণ্ডে বাস করেন যেখানে ফেডারেল আইনে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব প্রযোজ্য নয়—

তবে সেই শিশুর জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ রুদ্ধ হতে পারে। তবে পুয়ের্তো রিকোর মতো যেসব মার্কিন ভূখণ্ডে ফেডারেল আইনের আওতায় নাগরিকত্ব বহাল রয়েছে, সেখানে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কেবল সন্তানকে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক বানানোর উদ্দেশ্যে বহু বিদেশি নাগরিক অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং এই সুযোগের ব্যাপক অপব্যবহার হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার জানান, অনেকেই পর্যটকের পোশাকে এসে প্রকৃত অর্থে নাগরিকত্ব নেওয়ার সুযোগটি নেন, যা প্রেসিডেন্টের বিদ্যমান অভিবাসন আইনের আওতায় প্রতিরোধ করার পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে।

তবে পরিসংখ্যান কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে। অভিবাসন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট’ (MPI)-এর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর বার্থ ট্যুরিজমের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ২২ হাজার থেকে ২৬ হাজার শিশুর জন্ম হয়। অন্যদিকে সরকারি তথ্যমতে, ২০২৪ সালে বিদেশি ঠিকানা ব্যবহারকারী মায়েদের গর্ভে প্রায় ৯ হাজার ৬০০টি শিশুর জন্ম নিবন্ধিত হয়েছিল।

ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর আওতায় থাকা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তা আটকে দেওয়ায় সাংবিধানিক সুরক্ষা বজায় থাকে। নতুন এই নির্বাহী আদেশও একইভাবে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডেভিস) আইন বিভাগের অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল চিনের মতে, সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা বিদেশিদের প্রবেশ ঠেকানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের কিছুটা প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না—তা এককভাবে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বদলে ফেলা সাংবিধানিকভাবে চরম বিতর্কিত।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আগের মতোই ট্রাম্পের এই আদেশটি আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি লড়াই ও বিতর্ক আরও দীর্ঘায়িত হবে।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ফের ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ

আপডেট সময় ০৪:৪২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) পাওয়ার বিধান সীমিত করতে আবারও নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক সপ্তাহ আগেই তাঁর আগের একই চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আটকে গেলেও বৃহস্পতিবার তিনি এ সংক্রান্ত দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। সূত্র: বিবিসি।

হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম নির্বাহী আদেশটিতে নির্দিষ্ট কিছু অ-নাগরিকের আওতা বা সংজ্ঞা আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। ফলে এ ধরনের ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ হারাবে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশটির লক্ষ্য হলো তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’—অর্থাৎ সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে গর্ভবতী নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা ভ্রমণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।

ওভাল অফিসে আদেশে স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এই পদক্ষেপটি বহু আগেই নেওয়া উচিত ছিল; আমরা সেটাই এখন বাস্তবায়ন করছি।” একই সাথে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের পূর্বের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

নতুন নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর মা-বাবা উভয়েই যদি অ-নাগরিক হন এবং তাদের অন্তত একজন—

  • কোনো বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হন,
  • কোনো বিদেশি সরকারের কর্মচারী হন,
  • প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অভিবাসন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিংবা
  • এমন কোনো মার্কিন ভূখণ্ডে বাস করেন যেখানে ফেডারেল আইনে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব প্রযোজ্য নয়—

তবে সেই শিশুর জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ রুদ্ধ হতে পারে। তবে পুয়ের্তো রিকোর মতো যেসব মার্কিন ভূখণ্ডে ফেডারেল আইনের আওতায় নাগরিকত্ব বহাল রয়েছে, সেখানে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কেবল সন্তানকে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক বানানোর উদ্দেশ্যে বহু বিদেশি নাগরিক অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং এই সুযোগের ব্যাপক অপব্যবহার হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার জানান, অনেকেই পর্যটকের পোশাকে এসে প্রকৃত অর্থে নাগরিকত্ব নেওয়ার সুযোগটি নেন, যা প্রেসিডেন্টের বিদ্যমান অভিবাসন আইনের আওতায় প্রতিরোধ করার পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে।

তবে পরিসংখ্যান কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে। অভিবাসন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট’ (MPI)-এর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর বার্থ ট্যুরিজমের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ২২ হাজার থেকে ২৬ হাজার শিশুর জন্ম হয়। অন্যদিকে সরকারি তথ্যমতে, ২০২৪ সালে বিদেশি ঠিকানা ব্যবহারকারী মায়েদের গর্ভে প্রায় ৯ হাজার ৬০০টি শিশুর জন্ম নিবন্ধিত হয়েছিল।

ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর আওতায় থাকা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তা আটকে দেওয়ায় সাংবিধানিক সুরক্ষা বজায় থাকে। নতুন এই নির্বাহী আদেশও একইভাবে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডেভিস) আইন বিভাগের অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল চিনের মতে, সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা বিদেশিদের প্রবেশ ঠেকানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের কিছুটা প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না—তা এককভাবে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বদলে ফেলা সাংবিধানিকভাবে চরম বিতর্কিত।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আগের মতোই ট্রাম্পের এই আদেশটি আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি লড়াই ও বিতর্ক আরও দীর্ঘায়িত হবে।