পূর্ববর্তী একাধিক বিবাহ ও তালাকের তথ্য গোপন রেখে নিজেকে ‘অবিবাহিতা’ বা কুমারী পরিচয়ে বিয়ে করার অভিযোগে স্ত্রীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী স্বামী। প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষতিসাধনের দাবি এনে ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং ওই বিবাহ ও কাবিননামা অবৈধ ঘোষণার প্রার্থনা করা হয়েছে মামলায়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার তৃতীয় সিনিয়র সিভিল জজ খাদিজা আক্তারের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন বাদী উদয় জালাল দীপ। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিবাদী শেখ অবন্তী ঐশীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।
মামলার বিবরণী ও মূল অভিযোগ
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বিবাদী শেখ অবন্তী ঐশী তার পূর্ববর্তী বিয়ে ও তালাকের তথ্য সম্পূর্ণ গোপন করে নিজেকে অবিবাহিতা দাবি করেন। সেই তথ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে বাদী উদয় জালাল দীপ ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ২০ লাখ টাকা দেনমোহরে তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় দেনমোহরের অংশ হিসেবে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নগদ প্রদান করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বাদী জানতে পারেন যে বিবাদী এর আগেও একাধিকবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। দাম্পত্য জীবন চলাকালে বিশ্বাসের ভিত্তিতে দেনমোহরের অপরিশোধিত অংশ, পারিবারিক প্রয়োজন ও ব্যক্তিগত আর্থিক সংকট মেটাতে স্ত্রীকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ও সাড়ে ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার দেন বাদী।
আদালতে বাদী নিজে উপস্থিত থেকে শুনানিতে অংশ নেন। বাদীপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। শুনানিতে তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী নাসিদুস জামান ও তানজিলা আহমেদ লিসা।
শুনানি শেষে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, “বাদীর স্ত্রী নিজেকে কুমারী পরিচয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাঁর পূর্ববর্তী একাধিক বিয়ের তথ্য প্রকাশ্যে আসে এবং আমরা দুটি কাবিননামা সংগ্রহ করেছি। ভবিষ্যতে যাতে অন্য কেউ এইভাবে তথ্য গোপন ও প্রতারণা করে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হতে না পারে, সেই দৃষ্টান্ত স্থাপনেই আইনের আশ্রয়ে ২৫ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা করা হয়েছে।”
আইনজীবীদের মতে, পারিবারিক আইনি ব্যবস্থায় প্রতারণামূলক বিয়ের ক্ষেত্রে এই ধরণের ক্ষতিপূরণ ও বিবাহ বাতিলের মামলা একটি গুরুত্ববহ আইনি নজির তৈরি করবে।
আইনবার্তা ২৪ ডেস্ক: 













