পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিক সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি ভারতের পক্ষ থেকে একতরফা স্থগিত করা হলেও এর মূল বিধানগুলো দিল্লিকে মেনে চলতে হবে বলে রায় দিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের স্থায়ী সালিশি আদালত । একই সঙ্গে কাশ্মীর অঞ্চলে ভারতের নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সীমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থায়ী সালিশি আদালতের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও রায়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। এক প্রতিক্রিয়ায় দিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ‘তথাকথিত ও অবৈধ’ আদালতের এমন নির্দেশ দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।
গত সোমবার (৩১ আগস্ট) স্থায়ী সালিশি আদালতের পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক নির্দেশটি ঘোষণা করা হয়।
আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, রাজনৈতিক উত্তেজনার অজুহাতে ভারত একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দিলেও এর আওতাধীন পানি বণ্টনের আইনি বাধ্যবাধকতা বহাল রয়েছে। চুক্তিটি বাতিল বা স্থগিতের ক্ষেত্রে ভারতের কোনো যৌক্তিক আইনি ভিত্তি ছিল না, ফলে পশ্চিমের নদীগুলোতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে আগের নিয়ম মেনে চলতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের মনোনীত একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে কাশ্মীরের বিতর্কিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। ওই সিদ্ধান্তের পূর্ববর্তী ৯০ দিন পর্যন্ত ‘রাটলে’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধের দেয়াল ও পানি প্রবেশের কাঠামো নির্ধারিত উচ্চতার চেয়ে বেশি উঁচু করতে পারবে না ভারত।
রায় প্রকাশের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আদালতের এই আদেশ পুরোপুরি খারিজ করে দেয়। বিবৃতিতে ভারত দাবি করে: ১. বিশ্বব্যাংক চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে এই সালিশি আদালত গঠন করেছে, যা শুরু থেকেই ভারতের কাছে অগ্রহণযোগ্য।
২. এই ট্রাইব্যুনাল অবৈধ হওয়ায় ভারত এর কোনো কার্যক্রমে অংশ নেয়নি এবং এর দেওয়া কোনো সিদ্ধান্তও মানতে বাধ্য নয়।
১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তিটি পাকিস্তানের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমির সেচ ও পানি নিশ্চিত করে আসছে। তবে গত বছরের এপ্রিলে কাশ্মীরে এক হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারতের পক্ষ থেকে চুক্তিটি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয় (যদিও পাকিস্তান এই হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে)। পরবর্তীতে কাশ্মীরের দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারতের জলাধার বাড়ানোর উদ্যোগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি লড়াই শুরু করে পাকিস্তান। গত তিন দশকের রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে চুক্তিটি টিকে থাকলেও সাম্প্রতিক এই আদেশের পর উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র রূপ নিল।
আর্ন্তজাতিক ডেস্ক 














