ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস

সন্তানকে সম্পত্তি দান করার পরও জীবদ্দশায় পিতা-মাতার সেই সম্পত্তি আজীবন ভোগ-দখল করার অধিকার নিশ্চিত করে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সংসদ অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

নতুন পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ যদি তাঁদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা নাতি-নাতনি পিতা-মাতামহকে) কিংবা স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সম্পত্তি দান করেন, তবে দানকারী ব্যক্তি নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ-দখল করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তি গ্রহণকারীর (গ্রহীতা) মৃত্যু হলেও দাতার সেই ভোগাধিকার বহাল থাকবে এবং দাতার মৃত্যুর পর আইন অনুযায়ী তা গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে হস্তান্তরিত হবে।

আইনটির উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বিধান ছিল না। এটি সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে যুক্ত হলো, যা সব ধর্মের অনুসারীদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, এই বিধান প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন ‘হেবা’ বা প্রচলিত অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না বা সেগুলোকে প্রভাবিত করবে না। অসহায় ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের অধিকার রক্ষার্থেই এই আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিলটি পাসের আগে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ বিরোধী সদস্যরা বিলটিকে কোরআন ও সুন্নাহর মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।

কোরআনিক নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা প্রশ্ন তোলেন, ধর্মীয় মূল নীতি বাদ দেওয়ার বা পরিবর্তন করার অধিকার কারও নেই। আইনটি নিয়ে তৈরি হওয়া বেশ কিছু অস্পষ্টতা ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

পরবর্তীতে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ বিলটি পাসের জন্য ভোটে দিলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ভোটদানে অংশ না নিয়ে সংসদ কক্ষ থেকে বের (ওয়াকআউট) হয়ে যান। তাদের অনুপস্থিতিতেই বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস

আপডেট সময় ১১:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সন্তানকে সম্পত্তি দান করার পরও জীবদ্দশায় পিতা-মাতার সেই সম্পত্তি আজীবন ভোগ-দখল করার অধিকার নিশ্চিত করে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সংসদ অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

নতুন পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ যদি তাঁদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা নাতি-নাতনি পিতা-মাতামহকে) কিংবা স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সম্পত্তি দান করেন, তবে দানকারী ব্যক্তি নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ-দখল করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তি গ্রহণকারীর (গ্রহীতা) মৃত্যু হলেও দাতার সেই ভোগাধিকার বহাল থাকবে এবং দাতার মৃত্যুর পর আইন অনুযায়ী তা গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে হস্তান্তরিত হবে।

আইনটির উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বিধান ছিল না। এটি সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে যুক্ত হলো, যা সব ধর্মের অনুসারীদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, এই বিধান প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন ‘হেবা’ বা প্রচলিত অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না বা সেগুলোকে প্রভাবিত করবে না। অসহায় ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের অধিকার রক্ষার্থেই এই আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিলটি পাসের আগে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ বিরোধী সদস্যরা বিলটিকে কোরআন ও সুন্নাহর মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।

কোরআনিক নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা প্রশ্ন তোলেন, ধর্মীয় মূল নীতি বাদ দেওয়ার বা পরিবর্তন করার অধিকার কারও নেই। আইনটি নিয়ে তৈরি হওয়া বেশ কিছু অস্পষ্টতা ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

পরবর্তীতে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ বিলটি পাসের জন্য ভোটে দিলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ভোটদানে অংশ না নিয়ে সংসদ কক্ষ থেকে বের (ওয়াকআউট) হয়ে যান। তাদের অনুপস্থিতিতেই বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।