ঢাকা ১০:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট Logo ৩৫ বছর বয়সের পর আর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা

বাংলাভাষী এক ভারতীয় মুসলিম নারী—মুমতাজ বেগমকে নিয়মবহির্ভূতভাবে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনায় আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গুয়াহাটি হাইকোর্ট। আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশে বহিষ্কারের ঘটনায় এই প্রথম কোনো আদালত রাজ্য সরকারের ওপর সরাসরি জরিমানার আদেশ দিলেন।

একইসঙ্গে ওই নারীকে বাংলাদেশে খুঁজে বের করে ভারতে ফিরিয়ে আনার জোরালো প্রয়াস চালাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

১৯৯৭ সালে আসামে ‘ডি’ (সন্দেহভাজন) ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হন মুমতাজ বেগম। ২০১৭ সালে নগাঁও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করলেও গুয়াহাটি হাইকোর্ট নথিগুলো পুনরায় পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়ে ট্রাইব্যুনালে ফেরত পাঠান।

গত ৩০ মে ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিতে গেলে কোনো আদেশ হস্তান্তরের সুযোগ না দিয়ে আধা ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ দিয়ে মুমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করানো হয়। পরবর্তীতে আইনি আপিল আবেদনের সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে তাঁকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়।

এরপর পরিবার হেবিয়াস কর্পাস রিট দায়ের করলে বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্দের বেঞ্চ ঘটনাটিকে আইনের সুস্পষ্ট অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত করেন।

আদালত উল্লেখ করেন, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিপুল কুমার নাথ ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে অসৎ উদ্দেশ্যে রায় আড়াল করে মুমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তারের সুযোগ করে দেন। এটি ‘ইমিগ্র্যান্টস এক্সপালশন ফ্রম আসাম অ্যাক্ট-১৯৫০’-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। ৩০ মে ট্রাইব্যুনালের বিচারকের আদেশের সঠিক সময় ও তারিখ বের করতে আসামের হোম অ্যান্ড পলিটিক্যাল ডিপার্টমেন্টকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিচারকের কম্পিউটার জব্দ করার আদেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের নজির টেনে বলেন, ভারতীয় সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ নাগরিক ও বিদেশি—উভয়েরই জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়। এখন থেকে কোনো ‘ঘোষিত বিদেশি’কে গ্রেপ্তার বা অন্য কোনো জেলায় স্থানান্তরের আগে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের রায়ের কপি দেওয়া বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে স্থানান্তরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত চার বছরে আসামের ট্রাইব্যুনালগুলো অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে নাগরিকত্ববঞ্চিত করেছে। গত বছরের মে মাস থেকে রাজ্য সরকার ঘোষিত ‘বিদেশি’ চিহ্নিতদের রাতের আঁধারে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর যে অভিযান শুরু করেছিল, উচ্চ আদালতের এই ঐতিহাসিক রায় তার ওপর বড় ধরনের আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ

বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা

আপডেট সময় ০৩:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাভাষী এক ভারতীয় মুসলিম নারী—মুমতাজ বেগমকে নিয়মবহির্ভূতভাবে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনায় আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গুয়াহাটি হাইকোর্ট। আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশে বহিষ্কারের ঘটনায় এই প্রথম কোনো আদালত রাজ্য সরকারের ওপর সরাসরি জরিমানার আদেশ দিলেন।

একইসঙ্গে ওই নারীকে বাংলাদেশে খুঁজে বের করে ভারতে ফিরিয়ে আনার জোরালো প্রয়াস চালাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

১৯৯৭ সালে আসামে ‘ডি’ (সন্দেহভাজন) ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হন মুমতাজ বেগম। ২০১৭ সালে নগাঁও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করলেও গুয়াহাটি হাইকোর্ট নথিগুলো পুনরায় পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়ে ট্রাইব্যুনালে ফেরত পাঠান।

গত ৩০ মে ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিতে গেলে কোনো আদেশ হস্তান্তরের সুযোগ না দিয়ে আধা ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ দিয়ে মুমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করানো হয়। পরবর্তীতে আইনি আপিল আবেদনের সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে তাঁকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়।

এরপর পরিবার হেবিয়াস কর্পাস রিট দায়ের করলে বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্দের বেঞ্চ ঘটনাটিকে আইনের সুস্পষ্ট অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত করেন।

আদালত উল্লেখ করেন, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিপুল কুমার নাথ ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে অসৎ উদ্দেশ্যে রায় আড়াল করে মুমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তারের সুযোগ করে দেন। এটি ‘ইমিগ্র্যান্টস এক্সপালশন ফ্রম আসাম অ্যাক্ট-১৯৫০’-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। ৩০ মে ট্রাইব্যুনালের বিচারকের আদেশের সঠিক সময় ও তারিখ বের করতে আসামের হোম অ্যান্ড পলিটিক্যাল ডিপার্টমেন্টকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিচারকের কম্পিউটার জব্দ করার আদেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের নজির টেনে বলেন, ভারতীয় সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ নাগরিক ও বিদেশি—উভয়েরই জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়। এখন থেকে কোনো ‘ঘোষিত বিদেশি’কে গ্রেপ্তার বা অন্য কোনো জেলায় স্থানান্তরের আগে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের রায়ের কপি দেওয়া বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে স্থানান্তরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত চার বছরে আসামের ট্রাইব্যুনালগুলো অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে নাগরিকত্ববঞ্চিত করেছে। গত বছরের মে মাস থেকে রাজ্য সরকার ঘোষিত ‘বিদেশি’ চিহ্নিতদের রাতের আঁধারে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর যে অভিযান শুরু করেছিল, উচ্চ আদালতের এই ঐতিহাসিক রায় তার ওপর বড় ধরনের আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।