ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

নিলামে বিক্রীত স্থাবর সম্পত্তির ওপর ১৫% ভ্যাট অবৈধ ঘোষণা করলেন হাইকোর্ট

অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে নিলামে কেনা স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপকে অবৈধ ও আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এই সংক্রান্ত জারি করা রুল ও সম্পূরক রুল চূড়ান্ত ঘোষণা করে বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এই রায় দেওয়া হয়, যা আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নিশ্চিত করেছেন রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব।

একটি ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান কার্যকরী মূলধন ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অর্থঋণ মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে ‘অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩’-এর ৩৩(১) ধারার অধীনে বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে তোলা হলে আবেদনকারীরা সর্বোচ্চ ২৪ কোটি টাকায় সম্পত্তিটি কেনেন। সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের পর অর্থঋণ আদালত নিলামমূল্যের ওপর ১৫শতাংশ ভ্যাট ও প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প ডিউটি জমার নির্দেশ দেন। উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে নিলাম ক্রেতারা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলে গত ৮ এপ্রিল প্রাথমিক শুনানির পর আদালত রুল নিশি জারি করেন এবং ভ্যাট আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।

হাইকোর্টে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তানিম খান।

হাইকোর্টের রায়ের মূল পর্যবেক্ষণ

১. আইনি কার্যকারিতাহীন আদেশ: নিলাম ক্রেতাদের নিলামমূল্যের ওপর উৎস কর হিসেবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেওয়ার যে নির্দেশ অর্থঋণ আদালত দিয়েছিল, তা সম্পূর্ণ আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বাতিলযোগ্য। ২. এনবিআর-এর এসআরও বাতিল: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিতর্কিত এসআরও (SRO)-এর যে অংশে স্থাবর সম্পত্তির ক্রেতাকে ‘পণ্যের নিলাম ক্রেতা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, সেই অংশটিকেও বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। ৩. আইনের নীতি স্পষ্টকরণ: রায়ে আদালত স্পষ্ট করেন যে, জাতীয় সংসদ যদি কোনো সম্পত্তির বিক্রয় বা হস্তান্তরকে আইনের মাধ্যমে ভ্যাটমুক্ত রাখে, তবে কেবল অধস্তন বা অর্পিত আইনি আদেশের (এসআরও) মাধ্যমে নতুন করে কোনো করদায় চাপানো যাবে না।

আইনজীবীরা জানান, হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে দেশের বিভিন্ন অর্থঋণ আদালতে বিচারিক নিলামের মাধ্যমে স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের ক্ষেত্রে নিলাম ক্রেতাদের আর বাড়তি ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে না, যা ভবিষ্যতে ডিক্রি বাস্তবায়নে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

নিলামে বিক্রীত স্থাবর সম্পত্তির ওপর ১৫% ভ্যাট অবৈধ ঘোষণা করলেন হাইকোর্ট

আপডেট সময় ১২:৩৫:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে নিলামে কেনা স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপকে অবৈধ ও আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এই সংক্রান্ত জারি করা রুল ও সম্পূরক রুল চূড়ান্ত ঘোষণা করে বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এই রায় দেওয়া হয়, যা আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নিশ্চিত করেছেন রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব।

একটি ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান কার্যকরী মূলধন ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অর্থঋণ মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে ‘অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩’-এর ৩৩(১) ধারার অধীনে বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে তোলা হলে আবেদনকারীরা সর্বোচ্চ ২৪ কোটি টাকায় সম্পত্তিটি কেনেন। সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের পর অর্থঋণ আদালত নিলামমূল্যের ওপর ১৫শতাংশ ভ্যাট ও প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প ডিউটি জমার নির্দেশ দেন। উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে নিলাম ক্রেতারা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলে গত ৮ এপ্রিল প্রাথমিক শুনানির পর আদালত রুল নিশি জারি করেন এবং ভ্যাট আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।

হাইকোর্টে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তানিম খান।

হাইকোর্টের রায়ের মূল পর্যবেক্ষণ

১. আইনি কার্যকারিতাহীন আদেশ: নিলাম ক্রেতাদের নিলামমূল্যের ওপর উৎস কর হিসেবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেওয়ার যে নির্দেশ অর্থঋণ আদালত দিয়েছিল, তা সম্পূর্ণ আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বাতিলযোগ্য। ২. এনবিআর-এর এসআরও বাতিল: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিতর্কিত এসআরও (SRO)-এর যে অংশে স্থাবর সম্পত্তির ক্রেতাকে ‘পণ্যের নিলাম ক্রেতা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, সেই অংশটিকেও বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। ৩. আইনের নীতি স্পষ্টকরণ: রায়ে আদালত স্পষ্ট করেন যে, জাতীয় সংসদ যদি কোনো সম্পত্তির বিক্রয় বা হস্তান্তরকে আইনের মাধ্যমে ভ্যাটমুক্ত রাখে, তবে কেবল অধস্তন বা অর্পিত আইনি আদেশের (এসআরও) মাধ্যমে নতুন করে কোনো করদায় চাপানো যাবে না।

আইনজীবীরা জানান, হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে দেশের বিভিন্ন অর্থঋণ আদালতে বিচারিক নিলামের মাধ্যমে স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের ক্ষেত্রে নিলাম ক্রেতাদের আর বাড়তি ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে না, যা ভবিষ্যতে ডিক্রি বাস্তবায়নে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।