ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে ব্যবসায়ী এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের মতামত নিয়েই ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪’ সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর তৃতীয় সংশোধন-২০২৬’-এর খসড়া নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “আইনটি মূলত ব্যবসায়ীরাই ব্যবহার করবেন। তাই তাদের প্রয়োজন, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ চাহিদার ভিত্তিতেই এটিকে যুগোপযোগী করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানি আইনে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি, অথচ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও প্রযুক্তিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।” তিনি স্পষ্ট জানান, সরকার তাড়াহুড়ো না করে অংশীজনদের মতামতের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেবে। খসড়া পর্যালোচনার জন্য ব্যবসায়ীদের ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনবোধে ৬০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
কোম্পানি আইন সংস্কারকে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল হাতিয়ার উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও জানান, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত ও সহজ ব্যবসাবান্ধব দেশের আইন পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কার্যকর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে।
এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নিজস্ব শেয়ার কেনার (বাইব্যাক) সুযোগ প্রদানসহ বার্ষিক প্রতিবেদন ডিজিটালাইজেশন এবং আইনের পরিভাষা আধুনিক করার প্রস্তাব দেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা এজিএমের সময়সূচি অর্থবছরের সঙ্গে সমন্বয় ও গ্রুপের সংজ্ঞা স্পষ্ট করার দাবি জানান।
এফবিসিসিআই প্রশাসক আগামী সাত দিনের মধ্যে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে লিখিত সুপারিশ জমা দেওয়ার অনুরোধ জানান এবং উল্লেখ করেন যে এসব প্রস্তাব বিবেচনা করে এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সংশোধিত খসড়া প্রকাশ করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 













