ইউরোপের ভূস্বর্গ ইতালিতে গিয়ে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন ফেনীর দাগনভূঞার যুবক ফরিদুর রহমান বুলবুল (৩২)। দালালের মিষ্টি কথায় বিশ্বাস করে ১৮ লাখ টাকার বড় অঙ্কের চুক্তিও করেছিলেন, শর্ত ছিল সরাসরি বিমানে ইতালি নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ডানা মেলার আগেই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হলো তাকে। ইউরোপের দুর্গম পথ আর দালালচক্রের প্রবঞ্চনায় হাঙ্গেরির এক হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই প্রবাসী।
পুলিশ সদর দপ্তরের বরাতে দাগনভূঞা থানা পুলিশ রবিবার তার স্বজনদের নিকট নিহতের খবর পৌঁছে দেয়। নিহত ফরিদুর রহমান বুলবুল উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের পূর্ব বারাহীগুনী এলাকার মৃত মফিজুর রহমানের মেজো ছেলে। সাত বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বুলবুলের ঘরে পাঁচ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং তার স্ত্রী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অর্থাভাব দূর করে একটু সুখের মুখ দেখতে গিয়ে স্বামীর এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুলবুল ইতিপূর্বে সৌদি আরবের একটি রেস্তোরাঁয় চাকরি করতেন। এক বছর আগে দেশে ফিরে ইতালি যাওয়ার পরিকল্পনা করার সময় ফেনীর বিরিঞ্চি এলাকার মানব পাচারকারী দুলালের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সরাসরি বিমানে পৌঁছে দেওয়ার চুক্তিতে ১৮ লাখ টাকা গ্রহণ করে দুলাল। কিন্তু গত ১৬ জুন ঢাকা ছাড়ার পর বুলবুলকে সরাসরি ইতালি না পাঠিয়ে প্রথমে দুবাই নেওয়া হয়। সেখান থেকে সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়া হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সড়কপথে তাকে হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করানো হয়।
দীর্ঘ দুর্গম পথ ও জঙ্গলের প্রতিকূল পরিবেশে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বুলবুল। পরে সেখানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজনরা জানান, গত ২৪ জুনের পর থেকে তার সাথে আর কোনো সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে পাচারকারী দুলালের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সে বিষয়টি এড়িয়ে যায় ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়।
সর্বশেষ দাগনভূঞা থানা পুলিশ নিহতের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে পরিচয় যাচাই ও প্রাথমিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।
ঘটনার বিষয়ে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম জানান, নিহত যুবকের মরদেহ বর্তমানে হাঙ্গেরির একটি হাসপাতালে রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় নিহতের পরিচয় ও ঠিকানার সত্যতা যাচাই করে পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলাম ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
নিহতের পরিবারের দাবি—অবিলম্বে যেন বুলবুলের মরদেহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তাদের প্রতারিত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া মানব পাচারকারী দুলাল ও তার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বিশেষ প্রতিনিধি 



















