ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

বিদেশে যেতে দালালের ফাঁদে পড়েছেন, আইনি প্রতিকার কি?

ভালো বেতন, আকর্ষণীয় চাকরি আর সহজে ভিসা পাওয়ার আশায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বিদেশে পাড়ি জমান। কিন্তু বিদেশযাত্রার স্বপ্ন দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালচক্র।

কেউ জমি বিক্রি করে, কেউ ঋণ করে দালালের হাতে টাকা তুলে দেন। পরে দেখা যায়—ভিসা নেই, চাকরি নেই; এমনকি যার কাছে টাকা দিয়েছেন, সেই দালালও উধাও।

তবে প্রতারণার শিকার হলে অসহায় হয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এ বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণার বিরুদ্ধে শাস্তি এবং ভুক্তভোগীর প্রতিকারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কারও কাছ থেকে টাকা বা মূল্যবান জিনিস নেওয়া, বেশি বেতন বা বাড়তি সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে যেতে বা চাকরির চুক্তিতে রাজি করানো—এসব কাজ আইনের আওতায় প্রতারণা হিসেবে গণ্য হতে পারে।

যেমন, কোনো দালাল বা এজেন্সি যদি—

  • ভুয়া ভিসা দেখিয়ে টাকা নেয়;
  • অস্তিত্বহীন চাকরির কথা বলে;
  • মিথ্যা বেতন বা সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেয়;
  • বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়;

তাহলে ঘটনার ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

প্রতারণার শাস্তি  কি?

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ৩১ ধারায় এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া রিক্রুটিং এজেন্সি লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করলে তদন্ত ও শুনানির সুযোগ দিয়ে সংশ্লিষ্ট এজেন্টকে ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যেতে পারে।

আইনের নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের বিচার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমেও হতে পারে। আর সাধারণ মামলার ক্ষেত্রে অভিযোগ গঠনের পর চার মাসের মধ্যে বিচার শেষ করার বিধান রয়েছে; বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সময় আরও দুই মাস বাড়ানো যায়।

আইনে অভিবাসী কর্মীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধিকার রাখা হয়েছে।

তথ্য জানার অধিকার :বিদেশে যাওয়ার আগে অভিবাসন প্রক্রিয়া, কর্মসংস্থান চুক্তি, কাজের পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানার অধিকার রয়েছে।

আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার: প্রতারণার শিকার হলে যুক্তিসঙ্গত আইনগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ক্ষতিপূরণ চাওয়ার অধিকার: আইন বা কর্মসংস্থান চুক্তি লঙ্ঘনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণের জন্য দেওয়ানি মামলা করা যেতে পারে। অর্থাৎ পরিস্থিতি অনুযায়ী ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ আদায়ের দেওয়ানি প্রতিকারের পথও খোলা রয়েছে।

কোনো রিক্রুটিং এজেন্টের অবহেলা বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে কোনো কর্মী বিদেশে বিপদে পড়লে সরকার সংশ্লিষ্ট এজেন্টকে ওই কর্মীকে দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বহনের নির্দেশ দিতে পারে। এজেন্ট সেই অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে সরকারি পাওনার মতো তা আদায়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।

প্রতারিত হলে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-তে অভিযোগ করা যেতে পারে। সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি বিএমইটির অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থাও রয়েছে। জেলা পর্যায়েও জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (DEMO)-এর মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে।

অভিযোগের সঙ্গে কী কী প্রমান দিতে হবে?

প্রতারণার শিকার হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব সব কাগজপত্র ও যোগাযোগের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন। অভিযোগের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী দিতে পারেন—

  • নিজের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ;
  • পাসপোর্টের কপি;
  • ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট বা এনওসি—যদি থাকে;
  • নিয়োগপত্র বা কর্মসংস্থান চুক্তি;
  • টাকা দেওয়ার রসিদ;
  • ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের প্রমাণ;
  • দালাল বা এজেন্সির সঙ্গে কথোপকথনের স্ক্রিনশট;
  • প্রাসঙ্গিক অডিও-ভিডিও বা অন্যান্য নথি।

মূল কাগজপত্র নিজের কাছে রেখে প্রয়োজনীয় কপি জমা দেওয়াই নিরাপদ।

আইনে বেআইনিভাবে নেওয়া অর্থ উদ্ধারের ব্যবস্থা রয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আদেশের মাধ্যমে অর্থ উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেওয়ার বিধানও রয়েছে।

এর পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য দেওয়ানি আদালতের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী থানায় অভিযোগ বা মামলা করার পাশাপাশি আইনের অধীনে আদালতেরও আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে।

তবে কোন ঘটনায় কোন আইনি ধারা প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে প্রতারণার ধরন, অভিযুক্ত ব্যক্তির ভূমিকা এবং হাতে থাকা প্রমাণের ওপর। গুরুতর প্রতারণার ঘটনায় আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া ভালো।

বিদেশ যাওয়ার আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

প্রতারণার শিকার হয়ে পরে আইনি প্রতিকার নেওয়ার চেয়ে শুরুতেই সতর্ক থাকা ভালো। বিদেশ যাওয়ার আগে—

১. বিএমইটি নিবন্ধিত ও বৈধ লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যোগাযোগ করুন।

২. এজেন্সির লাইসেন্স নম্বর ও বৈধতা যাচাই করুন।

৩. চাকরির পদ, বেতন, কর্মস্থল, চুক্তির মেয়াদ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা লিখিত নথিতে নিন।

৪. টাকা দেওয়ার সময় অবশ্যই রসিদ নিন।

৫. সম্ভব হলে ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করুন এবং প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।

৬. শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করে বড় অঙ্কের টাকা দেবেন না।

৭. ভিসা ও চাকরির কাগজপত্র যাচাই না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না।

বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন যেন প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারানোর কারণ না হয়। ভুয়া এজেন্সি বা দালালের প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত সব প্রমাণ সংরক্ষণ করুন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে অভিযোগ করুন। প্রতারণা ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আগেই সতর্ক থাকা।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

বিদেশে যেতে দালালের ফাঁদে পড়েছেন, আইনি প্রতিকার কি?

আপডেট সময় ১২:১৫:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ভালো বেতন, আকর্ষণীয় চাকরি আর সহজে ভিসা পাওয়ার আশায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বিদেশে পাড়ি জমান। কিন্তু বিদেশযাত্রার স্বপ্ন দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালচক্র।

কেউ জমি বিক্রি করে, কেউ ঋণ করে দালালের হাতে টাকা তুলে দেন। পরে দেখা যায়—ভিসা নেই, চাকরি নেই; এমনকি যার কাছে টাকা দিয়েছেন, সেই দালালও উধাও।

তবে প্রতারণার শিকার হলে অসহায় হয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এ বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণার বিরুদ্ধে শাস্তি এবং ভুক্তভোগীর প্রতিকারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কারও কাছ থেকে টাকা বা মূল্যবান জিনিস নেওয়া, বেশি বেতন বা বাড়তি সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে যেতে বা চাকরির চুক্তিতে রাজি করানো—এসব কাজ আইনের আওতায় প্রতারণা হিসেবে গণ্য হতে পারে।

যেমন, কোনো দালাল বা এজেন্সি যদি—

  • ভুয়া ভিসা দেখিয়ে টাকা নেয়;
  • অস্তিত্বহীন চাকরির কথা বলে;
  • মিথ্যা বেতন বা সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেয়;
  • বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়;

তাহলে ঘটনার ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

প্রতারণার শাস্তি  কি?

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ৩১ ধারায় এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া রিক্রুটিং এজেন্সি লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করলে তদন্ত ও শুনানির সুযোগ দিয়ে সংশ্লিষ্ট এজেন্টকে ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যেতে পারে।

আইনের নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের বিচার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমেও হতে পারে। আর সাধারণ মামলার ক্ষেত্রে অভিযোগ গঠনের পর চার মাসের মধ্যে বিচার শেষ করার বিধান রয়েছে; বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সময় আরও দুই মাস বাড়ানো যায়।

আইনে অভিবাসী কর্মীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধিকার রাখা হয়েছে।

তথ্য জানার অধিকার :বিদেশে যাওয়ার আগে অভিবাসন প্রক্রিয়া, কর্মসংস্থান চুক্তি, কাজের পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানার অধিকার রয়েছে।

আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার: প্রতারণার শিকার হলে যুক্তিসঙ্গত আইনগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ক্ষতিপূরণ চাওয়ার অধিকার: আইন বা কর্মসংস্থান চুক্তি লঙ্ঘনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণের জন্য দেওয়ানি মামলা করা যেতে পারে। অর্থাৎ পরিস্থিতি অনুযায়ী ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ আদায়ের দেওয়ানি প্রতিকারের পথও খোলা রয়েছে।

কোনো রিক্রুটিং এজেন্টের অবহেলা বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে কোনো কর্মী বিদেশে বিপদে পড়লে সরকার সংশ্লিষ্ট এজেন্টকে ওই কর্মীকে দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বহনের নির্দেশ দিতে পারে। এজেন্ট সেই অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে সরকারি পাওনার মতো তা আদায়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।

প্রতারিত হলে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-তে অভিযোগ করা যেতে পারে। সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি বিএমইটির অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থাও রয়েছে। জেলা পর্যায়েও জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (DEMO)-এর মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে।

অভিযোগের সঙ্গে কী কী প্রমান দিতে হবে?

প্রতারণার শিকার হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব সব কাগজপত্র ও যোগাযোগের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন। অভিযোগের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী দিতে পারেন—

  • নিজের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ;
  • পাসপোর্টের কপি;
  • ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট বা এনওসি—যদি থাকে;
  • নিয়োগপত্র বা কর্মসংস্থান চুক্তি;
  • টাকা দেওয়ার রসিদ;
  • ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের প্রমাণ;
  • দালাল বা এজেন্সির সঙ্গে কথোপকথনের স্ক্রিনশট;
  • প্রাসঙ্গিক অডিও-ভিডিও বা অন্যান্য নথি।

মূল কাগজপত্র নিজের কাছে রেখে প্রয়োজনীয় কপি জমা দেওয়াই নিরাপদ।

আইনে বেআইনিভাবে নেওয়া অর্থ উদ্ধারের ব্যবস্থা রয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আদেশের মাধ্যমে অর্থ উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেওয়ার বিধানও রয়েছে।

এর পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য দেওয়ানি আদালতের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী থানায় অভিযোগ বা মামলা করার পাশাপাশি আইনের অধীনে আদালতেরও আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে।

তবে কোন ঘটনায় কোন আইনি ধারা প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে প্রতারণার ধরন, অভিযুক্ত ব্যক্তির ভূমিকা এবং হাতে থাকা প্রমাণের ওপর। গুরুতর প্রতারণার ঘটনায় আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া ভালো।

বিদেশ যাওয়ার আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

প্রতারণার শিকার হয়ে পরে আইনি প্রতিকার নেওয়ার চেয়ে শুরুতেই সতর্ক থাকা ভালো। বিদেশ যাওয়ার আগে—

১. বিএমইটি নিবন্ধিত ও বৈধ লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যোগাযোগ করুন।

২. এজেন্সির লাইসেন্স নম্বর ও বৈধতা যাচাই করুন।

৩. চাকরির পদ, বেতন, কর্মস্থল, চুক্তির মেয়াদ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা লিখিত নথিতে নিন।

৪. টাকা দেওয়ার সময় অবশ্যই রসিদ নিন।

৫. সম্ভব হলে ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করুন এবং প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।

৬. শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করে বড় অঙ্কের টাকা দেবেন না।

৭. ভিসা ও চাকরির কাগজপত্র যাচাই না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না।

বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন যেন প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারানোর কারণ না হয়। ভুয়া এজেন্সি বা দালালের প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত সব প্রমাণ সংরক্ষণ করুন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে অভিযোগ করুন। প্রতারণা ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আগেই সতর্ক থাকা।