ঢাকা ১০:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট Logo ৩৫ বছর বয়সের পর আর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

সন্তানকে জমি দিয়েও আজীবন ভোগদখলের অধিকার পাবেন বাবা-মা

বৃদ্ধ বাবা-মা অনেক সময় জীবিত থাকতেই সন্তানদের নামে জমি, বাড়ি বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি লিখে দেন। কিন্তু হস্তান্তরের পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই সেই সম্পত্তির ভোগদখল থেকে বঞ্চিত হন। এমন পরিস্থিতিতে বয়স্ক সম্পত্তিদাতার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে সরকার।

সম্প্রতি Transfer of Property (Amendment) Act, 2026 প্রণয়ন করা হয়েছে, যা ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

নতুন সংশোধনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় নির্দিষ্ট শর্তে সম্পত্তিদাতা নিজের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। ফলে সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তর করলেও বাবা-মায়ের জন্য সেখানে বসবাস বা ভোগদখলের সুরক্ষা রাখা সম্ভব হবে।

কেন এই পরিবর্তন?

বয়স্ক বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি দেওয়ার পর সেই সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ বা বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ ছিল। নতুন সংশোধনের উদ্দেশ্য হিসেবে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পত্তিদাতার সুরক্ষার বিষয়টি সামনে এসেছে।

আইনমন্ত্রীও বলেছেন, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সুরক্ষার জন্য ১৮৮২ সালের Transfer of Property Act-এ এই সংশোধন আনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নতুন বিধানটি হেবা, দান, উইল বা অন্য আইনি পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে না।

কীভাবে বাবা–মা ভোগদখলের অধিকার ধরে রাখতে পারবেন?

নতুন ব্যবস্থার মূল বিষয় হলো সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় দলিলেই সম্পত্তিদাতার আজীবন ব্যবহার বা ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করা।

অর্থাৎ, কোনো বাবা তার সন্তানকে বাড়ি বা জমি দিতে চাইলে শুধু মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা না করে দলিলে তার নিজের জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তিটি ব্যবহার ও ভোগ করার অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে রাখা যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে দলিলের ভাষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কী অধিকার সম্পত্তিদাতা রাখছেন, কতদিন তা থাকবে এবং সম্পত্তিটি কীভাবে ব্যবহার করা যাবে—এসব বিষয় আইনজীবী বা দলিল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত।

ধরা যাক, একজন বাবা তার ১০ কাঠা জমি ছেলের নামে হস্তান্তর করতে চান, কিন্তু জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই জমির ওপর থাকা বাড়িতে বসবাস করতে চান। এ ক্ষেত্রে হস্তান্তরের সময় এমনভাবে শর্ত নির্ধারণ করা যেতে পারে, যাতে মালিকানা হস্তান্তরের পরও বাবা জীবদ্দশায় বাড়িতে বসবাস ও ভোগের অধিকার ধরে রাখেন। ফলে দলিল ও প্রযোজ্য আইনের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে সন্তান বাবার সংরক্ষিত অধিকার উপেক্ষা করে তাকে সম্পত্তি থেকে সরিয়ে দিতে পারবে না।

সংশোধনটিকে কেবল বাবা-মায়ের জন্য একটি পারিবারিক ব্যবস্থা হিসেবে দেখলে বিষয়টি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। সংশোধিত আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সম্পত্তিদাতার জীবনকালীন ব্যবহার বা ভোগের অধিকার সংরক্ষণের একটি দেওয়ানি আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অন্য সম্পত্তিদাতার ক্ষেত্রেও এর প্রয়োগের প্রশ্ন আসতে পারে।

সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পরও কি বিক্রি করা যাবে?

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ভোগদখলের অধিকার এবং মালিকানার অধিকার এক বিষয় নয়। কেউ সম্পত্তির মালিকানা অন্যের কাছে হস্তান্তর করলেও নিজের জন্য জীবনকালীন ব্যবহার বা ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করতে পারেন, কিন্তু সেই সংরক্ষিত অধিকার তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পত্তির পূর্ণ মালিক বানিয়ে রাখে না। তাই হস্তান্তরের আগে দলিলে কোন অধিকার হস্তান্তর হচ্ছে এবং কোন অধিকার সম্পত্তিদাতা নিজের কাছে রাখছেন—তা স্পষ্ট করা জরুরি।

হেবা নিয়ে যা জানা জরুরি

আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশোধনটি হেবা আইনকে বাতিল বা পরিবর্তন করছে না। হেবা আইনসহ বিদ্যমান অন্যান্য আইনি ব্যবস্থার অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নতুন সংশোধন কোনো বাধা তৈরি করে না। তাই মুসলিম আইনের অধীনে হেবা করতে চাইলে এবং একইসঙ্গে নিজের ভোগদখল সংরক্ষণ করতে চাইলে, কোন আইন ও কোন ধরনের দলিল প্রযোজ্য হবে তা ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনজীবীর কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত।

জমি বা বাড়ি সন্তানকে দেওয়ার আগে ৭টি বিষয় খেয়াল রাখুন

দলিলের ধরন বুঝুন: দান, হেবা, বিক্রয়, উইল বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে হস্তান্তর হচ্ছে কি না, নিশ্চিত হোন।

নিজের অধিকার লিখিতভাবে রাখুন: জীবদ্দশায় বসবাস বা ভোগের অধিকার চাইলে তা দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।

মৌখিক প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করবেন না: আইনসম্মত দলিলে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে রাখাই নিরাপদ।

দলিলের খসড়া যাচাই করুন: অভিজ্ঞ আইনজীবী দিয়ে সম্পাদনের আগে খসড়া দেখিয়ে নিন।

জমির কাগজপত্র যাচাই করুন: খতিয়ান, নামজারি, খাজনা, দখল ও আগের দলিল পরীক্ষা করুন।

উত্তরাধিকার নিয়ে আলাদা হিসাব করুন: জীবদ্দশায় হস্তান্তর ও মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার দুটি ভিন্ন আইনি বিষয়।

ব্যক্তিগত আইনের বিষয়টি বিবেচনা করুন: ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইন বা উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত প্রশ্ন থাকলে তা-ও বিবেচনায় নিন।?

নতুন সংশোধনের ফলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—সম্পত্তি দিয়ে দিলেই সম্পত্তিদাতাকে তার জীবনকালীন ভোগ বা ব্যবহারের অধিকার হারাতেই হবে, এমন নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক বাবা-মা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই অধিকার পাবেন—কোন ধরনের হস্তান্তর হয়েছে, দলিলে কী শর্ত আছে এবং আইনের বিধান কী, তার ওপরই তা নির্ভর করবে।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ

সন্তানকে জমি দিয়েও আজীবন ভোগদখলের অধিকার পাবেন বাবা-মা

আপডেট সময় ১২:০৭:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃদ্ধ বাবা-মা অনেক সময় জীবিত থাকতেই সন্তানদের নামে জমি, বাড়ি বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি লিখে দেন। কিন্তু হস্তান্তরের পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই সেই সম্পত্তির ভোগদখল থেকে বঞ্চিত হন। এমন পরিস্থিতিতে বয়স্ক সম্পত্তিদাতার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে সরকার।

সম্প্রতি Transfer of Property (Amendment) Act, 2026 প্রণয়ন করা হয়েছে, যা ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

নতুন সংশোধনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় নির্দিষ্ট শর্তে সম্পত্তিদাতা নিজের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। ফলে সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তর করলেও বাবা-মায়ের জন্য সেখানে বসবাস বা ভোগদখলের সুরক্ষা রাখা সম্ভব হবে।

কেন এই পরিবর্তন?

বয়স্ক বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি দেওয়ার পর সেই সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ বা বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ ছিল। নতুন সংশোধনের উদ্দেশ্য হিসেবে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পত্তিদাতার সুরক্ষার বিষয়টি সামনে এসেছে।

আইনমন্ত্রীও বলেছেন, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সুরক্ষার জন্য ১৮৮২ সালের Transfer of Property Act-এ এই সংশোধন আনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নতুন বিধানটি হেবা, দান, উইল বা অন্য আইনি পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে না।

কীভাবে বাবা–মা ভোগদখলের অধিকার ধরে রাখতে পারবেন?

নতুন ব্যবস্থার মূল বিষয় হলো সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় দলিলেই সম্পত্তিদাতার আজীবন ব্যবহার বা ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করা।

অর্থাৎ, কোনো বাবা তার সন্তানকে বাড়ি বা জমি দিতে চাইলে শুধু মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা না করে দলিলে তার নিজের জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তিটি ব্যবহার ও ভোগ করার অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে রাখা যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে দলিলের ভাষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কী অধিকার সম্পত্তিদাতা রাখছেন, কতদিন তা থাকবে এবং সম্পত্তিটি কীভাবে ব্যবহার করা যাবে—এসব বিষয় আইনজীবী বা দলিল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত।

ধরা যাক, একজন বাবা তার ১০ কাঠা জমি ছেলের নামে হস্তান্তর করতে চান, কিন্তু জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই জমির ওপর থাকা বাড়িতে বসবাস করতে চান। এ ক্ষেত্রে হস্তান্তরের সময় এমনভাবে শর্ত নির্ধারণ করা যেতে পারে, যাতে মালিকানা হস্তান্তরের পরও বাবা জীবদ্দশায় বাড়িতে বসবাস ও ভোগের অধিকার ধরে রাখেন। ফলে দলিল ও প্রযোজ্য আইনের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে সন্তান বাবার সংরক্ষিত অধিকার উপেক্ষা করে তাকে সম্পত্তি থেকে সরিয়ে দিতে পারবে না।

সংশোধনটিকে কেবল বাবা-মায়ের জন্য একটি পারিবারিক ব্যবস্থা হিসেবে দেখলে বিষয়টি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। সংশোধিত আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সম্পত্তিদাতার জীবনকালীন ব্যবহার বা ভোগের অধিকার সংরক্ষণের একটি দেওয়ানি আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অন্য সম্পত্তিদাতার ক্ষেত্রেও এর প্রয়োগের প্রশ্ন আসতে পারে।

সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পরও কি বিক্রি করা যাবে?

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ভোগদখলের অধিকার এবং মালিকানার অধিকার এক বিষয় নয়। কেউ সম্পত্তির মালিকানা অন্যের কাছে হস্তান্তর করলেও নিজের জন্য জীবনকালীন ব্যবহার বা ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করতে পারেন, কিন্তু সেই সংরক্ষিত অধিকার তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পত্তির পূর্ণ মালিক বানিয়ে রাখে না। তাই হস্তান্তরের আগে দলিলে কোন অধিকার হস্তান্তর হচ্ছে এবং কোন অধিকার সম্পত্তিদাতা নিজের কাছে রাখছেন—তা স্পষ্ট করা জরুরি।

হেবা নিয়ে যা জানা জরুরি

আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশোধনটি হেবা আইনকে বাতিল বা পরিবর্তন করছে না। হেবা আইনসহ বিদ্যমান অন্যান্য আইনি ব্যবস্থার অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নতুন সংশোধন কোনো বাধা তৈরি করে না। তাই মুসলিম আইনের অধীনে হেবা করতে চাইলে এবং একইসঙ্গে নিজের ভোগদখল সংরক্ষণ করতে চাইলে, কোন আইন ও কোন ধরনের দলিল প্রযোজ্য হবে তা ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনজীবীর কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত।

জমি বা বাড়ি সন্তানকে দেওয়ার আগে ৭টি বিষয় খেয়াল রাখুন

দলিলের ধরন বুঝুন: দান, হেবা, বিক্রয়, উইল বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে হস্তান্তর হচ্ছে কি না, নিশ্চিত হোন।

নিজের অধিকার লিখিতভাবে রাখুন: জীবদ্দশায় বসবাস বা ভোগের অধিকার চাইলে তা দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।

মৌখিক প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করবেন না: আইনসম্মত দলিলে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে রাখাই নিরাপদ।

দলিলের খসড়া যাচাই করুন: অভিজ্ঞ আইনজীবী দিয়ে সম্পাদনের আগে খসড়া দেখিয়ে নিন।

জমির কাগজপত্র যাচাই করুন: খতিয়ান, নামজারি, খাজনা, দখল ও আগের দলিল পরীক্ষা করুন।

উত্তরাধিকার নিয়ে আলাদা হিসাব করুন: জীবদ্দশায় হস্তান্তর ও মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার দুটি ভিন্ন আইনি বিষয়।

ব্যক্তিগত আইনের বিষয়টি বিবেচনা করুন: ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইন বা উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত প্রশ্ন থাকলে তা-ও বিবেচনায় নিন।?

নতুন সংশোধনের ফলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—সম্পত্তি দিয়ে দিলেই সম্পত্তিদাতাকে তার জীবনকালীন ভোগ বা ব্যবহারের অধিকার হারাতেই হবে, এমন নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক বাবা-মা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই অধিকার পাবেন—কোন ধরনের হস্তান্তর হয়েছে, দলিলে কী শর্ত আছে এবং আইনের বিধান কী, তার ওপরই তা নির্ভর করবে।