ঢাকা ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট Logo ৩৫ বছর বয়সের পর আর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ

সরকারি খরচে আইনি সহায়তার মাধ্যমে অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের অনুকূলে ৪২৫ কোটি ২০ লাখ ৬৪ হাজার ৪৮২ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিস এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে এসব ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের অনুকূলে মামলা-পূর্ববর্তী ও মামলা-পরবর্তী পর্যায়ে মোট ৪২৫ কোটি ২০ লাখ ৬৪ হাজার ৪৮২ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।

এর মধ্যে দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে ৪১৮ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭২ টাকা। অন্যদিকে, ঢাকা ও চট্টগ্রামের শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে আদায় হয়েছে ৭ কোটি ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬১০ টাকা।

সরকারি খরচে আইনি সহায়তা পাওয়া উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬২০ জন।

কারা পাবেন সরকারি খরচে আইনি সহায়তা?

আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও বিচারকার্য পরিচালনায় অক্ষম ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দিতে সরকার এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর আওতায় যোগ্য ব্যক্তিরা সরকারি খরচে আইনি পরামর্শ, মামলা পরিচালনাসহ প্রযোজ্য অন্যান্য সহায়তা পেতে পারেন।

আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের পক্ষে আইনজীবীর খরচ বহন করা কঠিন, তাঁদের জন্য সরকারি আইনি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কোথায় পাওয়া যাবে আইনি সহায়তা?

জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে এ সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের কারাগারগুলোতেও আইনি সহায়তা কার্যক্রম চালু রয়েছে।

সরকারি আইনি সহায়তা সম্পর্কে তথ্য জানতে জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টারের টোল ফ্রি নম্বর ১৬৬৯৯-এ যোগাযোগ করা যায়।

তবে সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট জেলা লিগ্যাল এইড অফিস বা জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বিরোধ নিষ্পত্তি ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রেও এ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ।

আইনি সহায়তার মাধ্যমে ১৬ লাখের বেশি মানুষের উপকৃত হওয়া এবং ৪২৫ কোটি টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ আদায়ের তথ্য অসচ্ছল মানুষের বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি তুলে ধরে। তবে এ সহায়তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সেবার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সহজ আবেদনপ্রক্রিয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ

অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ

আপডেট সময় ০৭:৫৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি খরচে আইনি সহায়তার মাধ্যমে অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের অনুকূলে ৪২৫ কোটি ২০ লাখ ৬৪ হাজার ৪৮২ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিস এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে এসব ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের অনুকূলে মামলা-পূর্ববর্তী ও মামলা-পরবর্তী পর্যায়ে মোট ৪২৫ কোটি ২০ লাখ ৬৪ হাজার ৪৮২ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।

এর মধ্যে দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে ৪১৮ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭২ টাকা। অন্যদিকে, ঢাকা ও চট্টগ্রামের শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে আদায় হয়েছে ৭ কোটি ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬১০ টাকা।

সরকারি খরচে আইনি সহায়তা পাওয়া উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬২০ জন।

কারা পাবেন সরকারি খরচে আইনি সহায়তা?

আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও বিচারকার্য পরিচালনায় অক্ষম ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দিতে সরকার এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর আওতায় যোগ্য ব্যক্তিরা সরকারি খরচে আইনি পরামর্শ, মামলা পরিচালনাসহ প্রযোজ্য অন্যান্য সহায়তা পেতে পারেন।

আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের পক্ষে আইনজীবীর খরচ বহন করা কঠিন, তাঁদের জন্য সরকারি আইনি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কোথায় পাওয়া যাবে আইনি সহায়তা?

জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে এ সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের কারাগারগুলোতেও আইনি সহায়তা কার্যক্রম চালু রয়েছে।

সরকারি আইনি সহায়তা সম্পর্কে তথ্য জানতে জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টারের টোল ফ্রি নম্বর ১৬৬৯৯-এ যোগাযোগ করা যায়।

তবে সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট জেলা লিগ্যাল এইড অফিস বা জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বিরোধ নিষ্পত্তি ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রেও এ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ।

আইনি সহায়তার মাধ্যমে ১৬ লাখের বেশি মানুষের উপকৃত হওয়া এবং ৪২৫ কোটি টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ আদায়ের তথ্য অসচ্ছল মানুষের বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি তুলে ধরে। তবে এ সহায়তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সেবার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সহজ আবেদনপ্রক্রিয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা জরুরি।