ঢাকা ১০:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট Logo ৩৫ বছর বয়সের পর আর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

গার্মেন্টসকর্মী সাইমুন হত্যা মামলায় ৩ ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিক সাইমুনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে ছিনতাই করা মোবাইল ফোন কেনার অপরাধে অপর এক আসামিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১৩-এর বিচারক জাহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন— ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে পোশাকশ্রমিক সাইমুন বেতন পেয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে পোশাক কিনতে মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় যান। পথিমধ্যে তিন ছিনতাইকারী কৌশলে তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে বেতনের নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় সাইমুনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা তদন্তকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাইমুনের ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন ও বিক্রির টাকা উদ্ধার করে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার আসামিরা আদালতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ আসামিদের বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করলেন।

বিশ্লেষণ: এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় পেনাল কোড (দণ্ডবিধি, ১৮৬০) এবং ফৌজদারি কার্যবিধির (১৮৯৮) কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা প্রতিফলিত হয়েছে:

ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করার অপরাধ পেনাল কোডের ধারা ৩০২ (মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড) অনুযায়ী সরাসরি ‘খুন’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। পূর্বপরিকল্পনা ও নৃশংসতার মাত্রা বিবেচনায় আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। আঘাত বা হত্যা করে সম্পত্তি (টাকা ও মোবাইল ফোন) ছিনিয়ে নেওয়া আইনের দৃষ্টিতে ‘দস্যুতা’ । হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি সম্পত্তি আত্মসাতের বিষয়টি অপরাধের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ছিনতাই করা বা চোরাই মোবাইল ফোন জানা সত্ত্বেও তা কেনার অপরাধে চতুর্থ আসামিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪১১ ধারা অনুযায়ী চোরাই মাল অসাধু উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা একটি পৃথক ও দণ্ডনীয় অপরাধ। আসামিদের গ্রেপ্তার পরবর্তী পুলিশি জেরার পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ বিচার প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য হিসেবে কাজ করেছে।

আলামত হিসেবে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন ও বিক্রির টাকা জব্দ করা এবং ১৮ জন সাক্ষীর বয়ান উপস্থাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ ছাড়াই অপরাধীদের দোষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ

গার্মেন্টসকর্মী সাইমুন হত্যা মামলায় ৩ ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০১:৫৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিক সাইমুনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে ছিনতাই করা মোবাইল ফোন কেনার অপরাধে অপর এক আসামিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১৩-এর বিচারক জাহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন— ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে পোশাকশ্রমিক সাইমুন বেতন পেয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে পোশাক কিনতে মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় যান। পথিমধ্যে তিন ছিনতাইকারী কৌশলে তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে বেতনের নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় সাইমুনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা তদন্তকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাইমুনের ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন ও বিক্রির টাকা উদ্ধার করে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার আসামিরা আদালতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ আসামিদের বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করলেন।

বিশ্লেষণ: এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় পেনাল কোড (দণ্ডবিধি, ১৮৬০) এবং ফৌজদারি কার্যবিধির (১৮৯৮) কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা প্রতিফলিত হয়েছে:

ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করার অপরাধ পেনাল কোডের ধারা ৩০২ (মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড) অনুযায়ী সরাসরি ‘খুন’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। পূর্বপরিকল্পনা ও নৃশংসতার মাত্রা বিবেচনায় আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। আঘাত বা হত্যা করে সম্পত্তি (টাকা ও মোবাইল ফোন) ছিনিয়ে নেওয়া আইনের দৃষ্টিতে ‘দস্যুতা’ । হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি সম্পত্তি আত্মসাতের বিষয়টি অপরাধের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ছিনতাই করা বা চোরাই মোবাইল ফোন জানা সত্ত্বেও তা কেনার অপরাধে চতুর্থ আসামিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪১১ ধারা অনুযায়ী চোরাই মাল অসাধু উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা একটি পৃথক ও দণ্ডনীয় অপরাধ। আসামিদের গ্রেপ্তার পরবর্তী পুলিশি জেরার পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ বিচার প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য হিসেবে কাজ করেছে।

আলামত হিসেবে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন ও বিক্রির টাকা জব্দ করা এবং ১৮ জন সাক্ষীর বয়ান উপস্থাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ ছাড়াই অপরাধীদের দোষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।