বিচার বিভাগের শুধু বাহ্যিক স্বাধীনতাই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি নিয়োগ, প্রশাসন, অর্থায়ন ও সাংগঠনিক ব্যবস্থাসহ সার্বিক ক্ষেত্রসমূহে প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে আইন অনুষদ আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে ‘Beyond Judicial Independence: Constitutional Identity and the Quest for Institutional Autonomy in Bangladesh’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি।
ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ উল্লেখ করেন, বিচারক কর্তৃক মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বাহ্যিক হস্তক্ষেপমুক্ত থাকাই পূর্ণ বিচারিক স্বাধীনতা নয়। এর পাশাপাশি নিয়োগ, প্রশাসন ও অর্থায়নে স্বায়ত্তশাসন জরুরি। স্বাধীনতা একটি সাংবিধানিক অঙ্গীকার হলে, প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন হলো তা টেকসই করার আসল কাঠামো।
জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতার বৈষম্য দূর করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিমূলক ও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংস্কার হতে হবে টেকসই; কেবল নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতির ওপর নির্ভর না করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও যেন প্রতিষ্ঠানের নৈতিকতা ও সক্ষমতা টিকে থাকে।
তিনি স্পষ্ট করেন যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকা বোঝায় না। বরং স্বচ্ছতা, পেশাগত নৈতিকতা এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থার মাধ্যমে আইন ও সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতা সভ্য সমাজের মৌলিক ভিত্তি। তিনি প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দেন।
আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অনুষদের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আইনবার্তা২৪ ডেস্ক 














