ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট Logo ৩৫ বছর বয়সের পর আর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

নেত্রকোনায় ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশু পেল বাবার পরিচয়, আসামির যাবজ্জীবন

নেত্রকোনার বারহাট্টায় এক বিধবা নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া এক শিশু দীর্ঘ ১৩ বছর পর আদালতের রায়ে তার পিতৃপরিচয় ফিরে পেয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে শিশুটির আসল পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এই ঐতিহাসিক ও মানবিক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ৩৫ বছর বয়সী আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নূরুল কবীর বলেন, এই যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার হয়ে জন্ম নেওয়া শিশুটি তার সামাজিক ও আইনি পিতৃপরিচয়ের অধিকার ফিরে পেল। আদালত তাঁর রায়ে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন:‘ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া এই কন্যাসন্তানটি এখন থেকে তার বাবার পরিচয়ের আইনগত স্বীকৃতি পাওয়ার পাশাপাশি পিতার যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিতে আইনানুগ উত্তরাধিকার ও অধিকার ভোগ করবে।’

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১ মার্চ বারহাট্টা উপজেলার একটি গ্রামে ওই বিধবা নারী আসামির দ্বারা ধর্ষণের শিকার হন। ঘটনার ১০ দিন পর অর্থাৎ ১০ মার্চ ভুক্তভোগীর বোন বাদী হয়ে নেত্রকোনার আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর পুলিশ আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।

মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়েই ভুক্তভোগী ওই নারী একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পরবর্তীতে শিশুটির পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে আদালত ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। ল্যাবরেটরি থেকে প্রাপ্ত ডিএনএ প্রোফাইলিং প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয় যে আসামিই ওই শিশুর প্রকৃত জন্মদাতা পিতা।

পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার জমা দেওয়া অভিযোগপত্র, ডিএনএ রিপোর্টের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এবং মোট ৮ জন সাক্ষীর দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে আদালত আজ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। এর মাধ্যমে অবসান ঘটল একটি শিশুর দীর্ঘ ১৩ বছরের পরিচয়হীনতার গ্লানি।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ

নেত্রকোনায় ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশু পেল বাবার পরিচয়, আসামির যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০৫:৩৭:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

নেত্রকোনার বারহাট্টায় এক বিধবা নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া এক শিশু দীর্ঘ ১৩ বছর পর আদালতের রায়ে তার পিতৃপরিচয় ফিরে পেয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে শিশুটির আসল পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এই ঐতিহাসিক ও মানবিক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ৩৫ বছর বয়সী আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নূরুল কবীর বলেন, এই যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার হয়ে জন্ম নেওয়া শিশুটি তার সামাজিক ও আইনি পিতৃপরিচয়ের অধিকার ফিরে পেল। আদালত তাঁর রায়ে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন:‘ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া এই কন্যাসন্তানটি এখন থেকে তার বাবার পরিচয়ের আইনগত স্বীকৃতি পাওয়ার পাশাপাশি পিতার যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিতে আইনানুগ উত্তরাধিকার ও অধিকার ভোগ করবে।’

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১ মার্চ বারহাট্টা উপজেলার একটি গ্রামে ওই বিধবা নারী আসামির দ্বারা ধর্ষণের শিকার হন। ঘটনার ১০ দিন পর অর্থাৎ ১০ মার্চ ভুক্তভোগীর বোন বাদী হয়ে নেত্রকোনার আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর পুলিশ আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।

মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়েই ভুক্তভোগী ওই নারী একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পরবর্তীতে শিশুটির পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে আদালত ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। ল্যাবরেটরি থেকে প্রাপ্ত ডিএনএ প্রোফাইলিং প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয় যে আসামিই ওই শিশুর প্রকৃত জন্মদাতা পিতা।

পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার জমা দেওয়া অভিযোগপত্র, ডিএনএ রিপোর্টের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এবং মোট ৮ জন সাক্ষীর দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে আদালত আজ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। এর মাধ্যমে অবসান ঘটল একটি শিশুর দীর্ঘ ১৩ বছরের পরিচয়হীনতার গ্লানি।