ব্যবসায়িক পার্টনারের প্রায় ১৬ কোটি টাকা প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাতের মামলায় ফাস্ট গ্রুপের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) আব্দুল্লাহ আল রাফে-এর জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তবে একই মামলায় তার দুই বোনসহ অপর তিন আসামির জামিন বহাল রাখা হয়েছে।
গত বুধবার (০১ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মামুনুর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফাস্ট টেপস অ্যান্ড কেমিক্যাল লিমিটেড এবং ফাস্ট করপোরেশন (প্রা.) লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হাফিজ আহমেদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল রাফে। মামলায় তার বাবা হাফিজ আহমেদ এবং মা সাইফুন নাহার মাহেনুও আসামি, তবে তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
২০২৩ সালের ২ মে মতিঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন প্রতিষ্ঠানের অংশীদার মনিরুল ইসলাম। মামলায় মোট ৬ জনকে আসামি করা হয়:
১. হাফিজ আহমেদ (এমডি)
২. সাইফুন নাহার মাহেনু
৩. আব্দুল্লাহ আল রাফে (সিইও)
৪. ফাবিহা জাহিন রাইদা (রাফের বোন)
৫. সাইমা সাদিয়া (রাফের বোন)
৬. নাসির আহমেদ জারজিস
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ফাস্ট গ্রুপের প্রতিষ্ঠান দুটি ধারাবাহিক মন্দা, চরম আর্থিক সংকট ও ব্যাংক ঋণের কারণে দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হলে, আসামিরা মনিরুল ইসলামের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন।
ব্যবসায়িক সহায়তার অংশ হিসেবে মনিরুল ইসলাম ৮ কোটি ৯০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৬৭ টাকা বিনিয়োগ করেন। বিনিময়ে ফাস্ট টেপস থেকে ২০% এবং ফাস্ট করপোরেশন থেকে ৬০% শেয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু আসামিরা কোনো মুনাফা বা শেয়ার না দিয়ে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেন।
এছাড়া ৫৪ শতাংশ জমি বিক্রির কথা বলে বায়না চুক্তি বাবদ আরও ৩০ লাখ টাকা নেন আসামিরা। পরবর্তীতে তারা জমিও রেজিস্ট্রি করে দেননি এবং টাকাও ফেরত দেননি।
মূল বিনিয়োগ এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী লভ্যাংশ (৭ কোটি ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৫ টাকা) মিলিয়ে সর্বমোট ১৫ কোটি ৯২ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।
বাদী মনিরুল ইসলাম ২০২৩ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে আসামিদের বাসা ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে অজ্ঞাতনামা লোকজনের মাধ্যমে তাকে টাকা দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়।
আদালত প্রাঙ্গণে যা ঘটলো
গত বুধবার মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। চার আসামি—রাফে, রাইদা, সাদিয়া ও জারজিস আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন স্থায়ী করার আবেদন করেন। তাদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট রিয়াসাত আযমী। অন্যদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী জামিন বাতিলের জোর দাবি জানান।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সিইও রাফের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং বাকি ৩ জনের জামিন বহাল রাখেন।
আদালত থেকে রাফেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় ছবি তুলতে গেলে তার আইনজীবী সাংবাদিকদের হেনস্থা করেন এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান।
উল্লেখ্য, গত ৩১ মে মতিঝিল থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম তদন্ত শেষে এই ৬ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















