ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:ভোটদান প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক বিশ্লেষণ

আগামীকাল ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ—রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া দেশের সাধারণ সংসদীয় বা স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সংবিধানে পরোক্ষ নির্বাচনের বিধান রাখা হয়েছে, যেখানে জাতীয় সংসদ সদস্যরা নির্বাচকমণ্ডলী হিসেবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সম্পূর্ণ নির্বাচন পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ও ভোটের মৌলিক কাঠামো: রাষ্ট্রপতি পদটি কোনো সরাসরি ভোটে নির্বাচিত পদ নয়। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ এবং ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’-এর আওতায় নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুসরণ করা হয়।

একক বৈধ প্রার্থী থাকলে কোনো ভোটাভুটির প্রয়োজন হয় না; কমিশন তাঁকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে। প্রার্থী একাধিক হলে নির্ধারিত দিনে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়।

গোপন নয়, প্রকাশ্য ভোটদান ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আইনি দিকটি হলো ভোটের গোপনীয়তা। ১৯৯১ সালের আইনি কাঠামোর অধীনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হলেও ভোটগ্রহণের ধরনটি গোপনীয় থাকে না; বরং এটি প্রকাশ্য পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, একজন সংসদ সদস্য কাকে ভোট দিচ্ছেন তা সুস্পষ্ট থাকে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ ও সংসদ সদস্যের পদের ঝুঁকি বর্তমান আইনি আলোচনায় সবচেয়ে জটিল প্রশ্নটি হলো—কোনো সংসদ সদস্য যদি নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট দেন, তবে কি তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হবে?

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে কিংবা দল থেকে পদত্যাগ করলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়।

আইনি মতদ্বৈধতা:

যেহেতু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদ অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এবং ভোট প্রকাশ্যে প্রদান করা হয়, তাই দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট দেওয়াকে ‘দলের বিপক্ষে ভোট’ হিসেবে গণ্য করে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য করার সুযোগ রয়েছে।

আইনজ্ঞদের একাংশের মতে, ৭০ অনুচ্ছেদের মূল উদ্দেশ্য সংসদে বিল পাস বা সরকার গঠন/পতনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা রাখা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি পৃথক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া যা নির্দিষ্ট আলাদা আইন দ্বারা পরিচালিত। ফলে এখানে ভিন্ন ভোট দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ শূন্য হবে কি না—তা এককভাবে সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, বরং উচ্চ আদালতের ব্যাখ্যা সাপেক্ষ।

এক নজরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর্যায়ক্রমিক ধাপ

  • তফসিল ঘোষণা: নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনের তারিখ ও সময়সূচি নির্ধারণ।
  • মনোনয়নপত্র জমা ও বাছাই: আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিল এবং রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
  • সংসদে ভোটগ্রহণ: একাধিক প্রার্থী থাকলে নির্ধারিত দিনে জাতীয় সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ।
  • ভোট গণনা ও ফলাফল: উন্মুক্ত গণনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা এবং কমিশন কর্তৃক অফিশিয়াল গেজেট প্রকাশ।

সংবিধানের ১২৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কোনো প্রক্রিয়া বা ফলাফল সাধারণ দেওয়ানি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায় না; নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হয়। প্রকাশ্য ভোটদানের কারণে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার পরিণতি কী হতে পারে—তা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ ও ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:ভোটদান প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক বিশ্লেষণ

আপডেট সময় ১২:৩৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

আগামীকাল ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ—রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া দেশের সাধারণ সংসদীয় বা স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সংবিধানে পরোক্ষ নির্বাচনের বিধান রাখা হয়েছে, যেখানে জাতীয় সংসদ সদস্যরা নির্বাচকমণ্ডলী হিসেবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সম্পূর্ণ নির্বাচন পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ও ভোটের মৌলিক কাঠামো: রাষ্ট্রপতি পদটি কোনো সরাসরি ভোটে নির্বাচিত পদ নয়। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ এবং ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’-এর আওতায় নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুসরণ করা হয়।

একক বৈধ প্রার্থী থাকলে কোনো ভোটাভুটির প্রয়োজন হয় না; কমিশন তাঁকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে। প্রার্থী একাধিক হলে নির্ধারিত দিনে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়।

গোপন নয়, প্রকাশ্য ভোটদান ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আইনি দিকটি হলো ভোটের গোপনীয়তা। ১৯৯১ সালের আইনি কাঠামোর অধীনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হলেও ভোটগ্রহণের ধরনটি গোপনীয় থাকে না; বরং এটি প্রকাশ্য পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, একজন সংসদ সদস্য কাকে ভোট দিচ্ছেন তা সুস্পষ্ট থাকে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ ও সংসদ সদস্যের পদের ঝুঁকি বর্তমান আইনি আলোচনায় সবচেয়ে জটিল প্রশ্নটি হলো—কোনো সংসদ সদস্য যদি নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট দেন, তবে কি তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হবে?

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে কিংবা দল থেকে পদত্যাগ করলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়।

আইনি মতদ্বৈধতা:

যেহেতু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদ অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এবং ভোট প্রকাশ্যে প্রদান করা হয়, তাই দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট দেওয়াকে ‘দলের বিপক্ষে ভোট’ হিসেবে গণ্য করে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য করার সুযোগ রয়েছে।

আইনজ্ঞদের একাংশের মতে, ৭০ অনুচ্ছেদের মূল উদ্দেশ্য সংসদে বিল পাস বা সরকার গঠন/পতনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা রাখা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি পৃথক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া যা নির্দিষ্ট আলাদা আইন দ্বারা পরিচালিত। ফলে এখানে ভিন্ন ভোট দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ শূন্য হবে কি না—তা এককভাবে সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, বরং উচ্চ আদালতের ব্যাখ্যা সাপেক্ষ।

এক নজরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর্যায়ক্রমিক ধাপ

  • তফসিল ঘোষণা: নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনের তারিখ ও সময়সূচি নির্ধারণ।
  • মনোনয়নপত্র জমা ও বাছাই: আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিল এবং রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
  • সংসদে ভোটগ্রহণ: একাধিক প্রার্থী থাকলে নির্ধারিত দিনে জাতীয় সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ।
  • ভোট গণনা ও ফলাফল: উন্মুক্ত গণনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা এবং কমিশন কর্তৃক অফিশিয়াল গেজেট প্রকাশ।

সংবিধানের ১২৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কোনো প্রক্রিয়া বা ফলাফল সাধারণ দেওয়ানি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায় না; নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হয়। প্রকাশ্য ভোটদানের কারণে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার পরিণতি কী হতে পারে—তা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ ও ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে।