চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে নতুন করে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। এর ফলে এই আসনের ভোটাররা আবারও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেতে পারেন।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) ওই আসন থেকে নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর শপথ গ্রহণ ও প্রার্থিতা নিয়ে আপিল বিভাগের দেওয়া এক চূড়ান্ত রায়ের পর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল এই তথ্য জানান।
ঋণখেলাপি হওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত (আপিল বিভাগ)। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এই ঐতিহাসিক রায় দেন। এই রায়ের ফলে আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আর কোনো আইনি সুযোগ থাকছে না।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, সংসদ নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ ওঠে। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আপিল শুনানির শেষ দিনে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করা হলে, হাইকোর্ট আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখার আদেশ দেন। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগটি পুনরায় সামনে এনে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ জামায়াত প্রার্থীর করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। সেই সময়ের আদেশে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেন— নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হলেও এই আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আসনের ফলাফল স্থগিত থাকবে।
আজ আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতাই বাতিল হয়ে যাওয়ায় আসনটি এখন শূন্য হিসেবে গণ্য হবে। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনকে এখন চট্টগ্রাম-৪ আসনে নতুন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















