ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট Logo ৩৫ বছর বয়সের পর আর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

জুয়া প্রতিরোধে সংসদে নতুন বিল, সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের কারাদন্ড

ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও অনলাইন জুয়ার আগ্রাসন রুখতে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। এই বিলে অপরাধের ধরনভেদে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন এই বিলটি পাস হলে দীর্ঘ ১৫৯ বছরের পুরোনো ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ রহিত হয়ে যাবে। যুগোপযোগী এই খসড়া আইনে ঐতিহ্যগত জুয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধগুলোকে কঠোরভাবে দমনের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। বিলে জুয়া, অনলাইন জুয়া, বাজি (বেটিং), ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের অপরাধের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং অপরাধের তারতম্য অনুযায়ী ১৪ ধরনের সাজার বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন বিলে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেন এবং ভিপিএন বা মিরর সাইট ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনাকেও শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। অপরাধ অনুযায়ী শাস্তির মূল ধারাগুলো নিচে দেওয়া হলো:

সাধারণ জুয়া: কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া: অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অনলাইন বেটিং (বাজি): কেউ অনলাইন বেটিংয়ে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং: ক্রীড়াঙ্গনে ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড।

আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গড়ে ওঠা জুয়ার নেটওয়ার্ক ও এর অর্থায়নকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতেই সরকার এই কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংসদীয় সূত্রে জানা গেছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ

জুয়া প্রতিরোধে সংসদে নতুন বিল, সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের কারাদন্ড

আপডেট সময় ০৭:১৪:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও অনলাইন জুয়ার আগ্রাসন রুখতে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। এই বিলে অপরাধের ধরনভেদে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন এই বিলটি পাস হলে দীর্ঘ ১৫৯ বছরের পুরোনো ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ রহিত হয়ে যাবে। যুগোপযোগী এই খসড়া আইনে ঐতিহ্যগত জুয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধগুলোকে কঠোরভাবে দমনের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। বিলে জুয়া, অনলাইন জুয়া, বাজি (বেটিং), ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের অপরাধের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং অপরাধের তারতম্য অনুযায়ী ১৪ ধরনের সাজার বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন বিলে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেন এবং ভিপিএন বা মিরর সাইট ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনাকেও শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। অপরাধ অনুযায়ী শাস্তির মূল ধারাগুলো নিচে দেওয়া হলো:

সাধারণ জুয়া: কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া: অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অনলাইন বেটিং (বাজি): কেউ অনলাইন বেটিংয়ে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং: ক্রীড়াঙ্গনে ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড।

আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গড়ে ওঠা জুয়ার নেটওয়ার্ক ও এর অর্থায়নকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতেই সরকার এই কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংসদীয় সূত্রে জানা গেছে।