ঢাকা ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধে হাইকোর্টের রুল

ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি)সহ নতুন ধরনের তামাকজাত পণ্য এবং নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ ও বাজার থেকে অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে মানবজীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব পণ্য বাজার থেকে অপসারণ এবং প্রয়োজনে নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট। জোট জানায়, বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

রুলে মানবজীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সব ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট—বিশেষ করে ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট—এবং নিকোটিন পাউচ বাজার থেকে অপসারণ অথবা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বিবাদীদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

আদালতে করা আবেদনে বলা হয়, এসব পণ্যের ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ ধরনের পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়ে সতর্ক করেছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, এসব পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ, অপসারণ বা নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আবেদনে সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রাথমিক দায়িত্ব।

অন্যদিকে, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে মানবজীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের বিস্তার রোধে রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে বলে আবেদনে দাবি করা হয়।

বাদীপক্ষের আরও বক্তব্য, ক্ষতিকর এসব পণ্যের অবাধ বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। তাই ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো ও নিকোটিন পাউচের বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আবেদনে ‘ভয়েজ অব ডিসকভারি’ মামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। ওই মামলার ধারাবাহিকতায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ তামাক শিল্প বা বিড়ি কারখানা স্থাপনের জন্য লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

একই সঙ্গে বিদ্যমান তামাক ও বিড়ি কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট ও যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে তামাকজাত পণ্য উৎপাদন থেকে সরে এসে বিকল্প শিল্পে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।

বাদীপক্ষের মতে, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে ওই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। একই নীতির আলোকে নতুন ধরনের নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্যের বিস্তার রোধেও রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

মামলার বাদীরা হলেন এ কে এম মাকসুদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ, হেলাল আহমেদ ও মো. আমিনুল ইসলাম। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে তামাকবিরোধী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।

জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো ও নিকোটিন পাউচের মতো ক্ষতিকর পণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করার দাবিতে তাঁরা হাইকোর্টে আবেদন করেন।

আদালতে বাদীপক্ষে মামলাটির শুনানি করেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ। তাঁরা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, সংবিধানের ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদ এবং ক্ষতিকর ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়গুলো আদালতের সামনে তুলে ধরেন।

হাইকোর্টের এই রুলের ফলে দেশে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো ও নিকোটিন পাউচের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের জবাবের পর আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে নজর থাকবে।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধে হাইকোর্টের রুল

আপডেট সময় ০২:১৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি)সহ নতুন ধরনের তামাকজাত পণ্য এবং নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ ও বাজার থেকে অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে মানবজীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব পণ্য বাজার থেকে অপসারণ এবং প্রয়োজনে নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট। জোট জানায়, বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

রুলে মানবজীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সব ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট—বিশেষ করে ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট—এবং নিকোটিন পাউচ বাজার থেকে অপসারণ অথবা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বিবাদীদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

আদালতে করা আবেদনে বলা হয়, এসব পণ্যের ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ ধরনের পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়ে সতর্ক করেছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, এসব পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ, অপসারণ বা নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আবেদনে সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রাথমিক দায়িত্ব।

অন্যদিকে, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে মানবজীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের বিস্তার রোধে রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে বলে আবেদনে দাবি করা হয়।

বাদীপক্ষের আরও বক্তব্য, ক্ষতিকর এসব পণ্যের অবাধ বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। তাই ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো ও নিকোটিন পাউচের বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আবেদনে ‘ভয়েজ অব ডিসকভারি’ মামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। ওই মামলার ধারাবাহিকতায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ তামাক শিল্প বা বিড়ি কারখানা স্থাপনের জন্য লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

একই সঙ্গে বিদ্যমান তামাক ও বিড়ি কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট ও যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে তামাকজাত পণ্য উৎপাদন থেকে সরে এসে বিকল্প শিল্পে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।

বাদীপক্ষের মতে, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে ওই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। একই নীতির আলোকে নতুন ধরনের নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্যের বিস্তার রোধেও রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

মামলার বাদীরা হলেন এ কে এম মাকসুদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ, হেলাল আহমেদ ও মো. আমিনুল ইসলাম। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে তামাকবিরোধী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।

জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো ও নিকোটিন পাউচের মতো ক্ষতিকর পণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করার দাবিতে তাঁরা হাইকোর্টে আবেদন করেন।

আদালতে বাদীপক্ষে মামলাটির শুনানি করেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ। তাঁরা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, সংবিধানের ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদ এবং ক্ষতিকর ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়গুলো আদালতের সামনে তুলে ধরেন।

হাইকোর্টের এই রুলের ফলে দেশে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো ও নিকোটিন পাউচের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের জবাবের পর আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে নজর থাকবে।