আপিল বিভাগসহ সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। সাংবাদিক নেতারা বলছেন, আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ থাকা জরুরি।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে আইন ও আদালতবিষয়ক সাংবাদিকদের পাশাপাশি সম্পাদক পরিষদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নেতারাও অংশ নেন।
কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে আপিল বিভাগের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের কাছে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের সরাসরি শুনানি পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আদালতের শুনানি উন্মুক্ত রাখার পাশাপাশি বিচারিক কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও রয়েছে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগ সীমিত করা হলে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
তাদের দাবি, সাংবাদিকরা আদালতে ব্যক্তিগত কোনো সুবিধা নেওয়ার জন্য যান না; বিচারাধীন মামলার শুনানি পর্যবেক্ষণ, আদালতের আদেশ ও বক্তব্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং তা জনগণের সামনে তুলে ধরাই তাদের পেশাগত দায়িত্ব।
সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে অসন্তোষ নতুন নয়। এর আগে ২০২৬ সালের মে মাসেও গণমাধ্যমকর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। তখন সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে শুনানি পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ সংগ্রহ করে আসছিলেন।
এদিকে ১২ আগস্টের কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো যৌথভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের যৌথ সভা থেকে ১২ আগস্ট অবস্থান কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই সভায় সাংবাদিকরা দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশ ও আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রীতি।
সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আদালত কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে সুপ্রিম কোর্ট ভবনে বিচারপ্রার্থী ও অপ্রত্যাশিত ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার বিষয়ে একটি অফিস আদেশও প্রকাশ করা হয়েছিল।
তবে সাংবাদিকদের দাবি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করেও পেশাগত পরিচয় ও দায়িত্ব বিবেচনায় গণমাধ্যমকর্মীদের আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের জন্য নির্দিষ্ট প্রবেশপথ, পরিচয়পত্র যাচাই, আসন নির্ধারণ বা অন্যান্য নিরাপত্তা প্রটোকল চালু করে নিরাপত্তা ও সংবাদ সংগ্রহের অধিকার—দুইয়ের মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে সাংবাদিক নেতারা দ্রুত আপিল বিভাগসহ সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবি জানান। তারা বলেন, দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ না নেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সুপ্রিম কোর্টের শুনানি শুধু বিচারপ্রার্থী বা আইনজীবীদের বিষয় নয়; আদালতের সিদ্ধান্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকারও রয়েছে। সেই তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম গণমাধ্যম।
অন্যদিকে আদালতের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং বিচারকার্য নির্বিঘ্ন রাখার প্রয়োজনীয়তাও অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
আদালত রিপোর্টার 














