রাজধানীর দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকার জামতলা গলিতে নারী দন্তচিকিৎসক সারাহ রোকসানা পিনু হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড় নিয়েছে। ক্লুলেস মনে হওয়া এই মামলায় সিআইডির হাতে উঠে আসা একটি মাত্র ‘জুতার ছাপ’-এর সূত্র ধরে সিআইডি ও পুলিশ নিহতের স্বামী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করেছে।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ডাকাতির নাটক নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড?
গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণখানের নিজ বাসা থেকে দন্তচিকিৎসক সারাহ রোকসানা পিনুর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে মনে হয়েছিল। পরিবারের দাবি ছিল:
- পাশের কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে দুর্বৃত্তরা ভেতরে ঢোকে।
- বাসা থেকে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
- স্বামী সোহেল রানার দাবি অনুযায়ী, বিকেলে মেয়ের স্কুল থেকে ফোন পেয়ে তিনি বাসায় ফিরে স্ত্রীর মুখের ওপর বালিশ চাপা দেওয়া নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
যেভাবে ধরা পড়লেন স্বামী
মামলা দায়েরের পর ক্রাইম সিন থেকে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে নেমে সিআইডির তদন্ত দল একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পায়। যে জানালার গ্রিল কাটা হয়েছিল, তার ভেতরের বারান্দায় একটি জুতার ছাপ পান তারা। পরবর্তীতে ওই বাসার ভেতর থেকে উদ্ধার করা একজোড়া জুতার ছাপের সঙ্গে বারান্দার ছাপের হুবহু মিল পাওয়া যায়—যা ছিল স্বামী সোহেল রানার।
রহস্যজনক এই মিলের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহের তির ওঠে সোহেল রানার দিকে। এর আগে গত শুক্রবার নিহত পিনুর বোন সারাহ সুলতানা পলি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার তদন্তে নেমেই সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আদালত সূত্র জানায়, আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের মূল নেপথ্য কারণ এবং লুট হওয়া মালামাল সম্পর্কিত প্রকৃত তথ্য বের হয়ে আসবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 














