ঢাকা ১০:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট Logo ৩৫ বছর বয়সের পর আর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

আইনি জিজ্ঞাসা ও পরামর্শ

সমস্যা: বরিশাল থেকে সালমা আকতার জানতে চেয়েছেন-

আরিফ ও সালমার বিবাহিত জীবন ৫ বছরের। তাঁদের ৩ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক বনিবনা না হওয়ায় আরিফ স্ত্রীকে না জানিয়ে এবং শালিসি পরিষদকে কোনো নোটিশ না দিয়েই মৌখিকভাবে “তিন তালাক” দিয়ে সালমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

এরপর আরিফ দ্বিতীয় বিয়ে করার ঘোষণা দেয় এবং সন্তানের খোরপোষ (ভরণপোষণ) দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

সালমার প্রশ্ন: ১. শুধু মৌখিকভাবে ‘তিন তালাক’ বললেই কি আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হয়ে যায়? ২. সন্তানকে কাছে রাখার আইনি অধিকার কার (হেফাজত বা জিম্মাদারি) এবং সন্তানের ভরণপোষণ আরিফ দিতে বাধ্য কি না? ৩. সালমা কি নিজের দেনমোহর ও খোরপোষ আদায়ের জন্য কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে?

আইনি সমাধান:

১. বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হওয়া সংক্রান্ত সমাধান:

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৭ ধারা অনুযায়ী, কেবল মুখে ‘তালাক’ বললেই বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হয় না। তালাক দিতে চাইলে স্বামীকে লিখিতভাবে ইউপি চেয়ারম্যান/মেয়র/কাউন্সিলরকে নোটিশ দিতে হবে এবং তার একটি নকল (কপি) স্ত্রীকেও পাঠাতে হবে। নোটিশ পাওয়ার পর চেয়ারম্যান একটি শালিসি পরিষদ গঠন করবেন এবং ৯০ দিন সময় দেবেন আপস-রফার জন্য।

যেহেতু আরিফ কোনো আইনি নোটিশ দেয়নি, তাই আইনত তাদের বিবাহবিচ্ছেদ এখনো কার্যকর হয়নি। সালমা এখনো আরিফের বৈধ স্ত্রী। যদি আরিফ নোটিশ ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করে, তবে তা আইনত অপরাধ (৮ ধারা অনুযায়ী ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে)।

২. সন্তানের জিম্মাদারি (Custody) ও খোরপোষের সমাধান:

সন্তানের জিম্মাদারি (Custody): মুসলিম আইন অনুযায়ী, সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে, শিশু বয়সে মায়ের কাছেই থাকবে। মেয়েসন্তানের ক্ষেত্রে মা বয়ঃসন্ধিকাল হওয়া পর্যন্ত তাকে কাছে রাখার অধিকার পান। তাই ৩ বছরের কন্যাসন্তান সম্পূর্ণভাবে সালমার কাছেই থাকবে।

সন্তানের খোরপোষ (Maintenance): বাবার আর্থিক অবস্থা যেমনই হোক, সন্তানের ভরণপোষণ (খাবার, পোশাক, চিকিৎসা, শিক্ষা) দেওয়া বাবার আইনি বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। বাবা সন্তানকে নিজের কাছে না রাখলেও খোরপোষ দিতে বাধ্য।

৩. দেনমোহর, ভরণপোষণ ও আইনি পদক্ষেপ:

সালমা তার অধিকার আদায়ের জন্য পারিবারিক আদালতে  মামলা দায়ের করতে পারবেন।

দেনমোহর : বিবাহকালে বা বিবাহের পর আরিফ যদি দেনমোহর পরিশোধ না করে থাকে, তবে সালমা পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে সম্পূর্ণ দেনমোহরের টাকা আদায়ের আবেদন করতে পারবেন।

স্ত্রীর খোরপোষ: যেহেতু আরিফ জোরপূর্বক সালমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় তালাকও দেয়নি, তাই এই সময়কালের জন্য সালমা নিজের খোরপোষ দাবি করতে পারবেন।

আইনি প্রতিকার: সালমা স্থানীয় সহকারী জজ আদালত (পারিবারিক আদালত)-এ গিয়ে একই সাথে ৩টি বিষয়ে মামলা করতে পারবেন: ১. দেনমোহর আদায়, ২. নিজের ও সন্তানের খোরপোষ আদায়, এবং ৩. সন্তানের জিম্মাদারি নিশ্চিতকরণ।

পরামর্শ: মুখে বলা তালাক আইনগতভাবে অকার্যকর। সালমা অবিলম্বে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করে দেনমোহর ও সন্তানের মাসিক খোরপোষ নির্ধারণের আবেদন করতে পারেন। আদালত আরিফকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেবেন; অনাদায়ে আরিফের সম্পত্তি ক্রোক বা তার কারাদণ্ডের আদেশ হতে পারে।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ

আইনি জিজ্ঞাসা ও পরামর্শ

আপডেট সময় ০৩:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

সমস্যা: বরিশাল থেকে সালমা আকতার জানতে চেয়েছেন-

আরিফ ও সালমার বিবাহিত জীবন ৫ বছরের। তাঁদের ৩ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক বনিবনা না হওয়ায় আরিফ স্ত্রীকে না জানিয়ে এবং শালিসি পরিষদকে কোনো নোটিশ না দিয়েই মৌখিকভাবে “তিন তালাক” দিয়ে সালমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

এরপর আরিফ দ্বিতীয় বিয়ে করার ঘোষণা দেয় এবং সন্তানের খোরপোষ (ভরণপোষণ) দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

সালমার প্রশ্ন: ১. শুধু মৌখিকভাবে ‘তিন তালাক’ বললেই কি আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হয়ে যায়? ২. সন্তানকে কাছে রাখার আইনি অধিকার কার (হেফাজত বা জিম্মাদারি) এবং সন্তানের ভরণপোষণ আরিফ দিতে বাধ্য কি না? ৩. সালমা কি নিজের দেনমোহর ও খোরপোষ আদায়ের জন্য কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে?

আইনি সমাধান:

১. বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হওয়া সংক্রান্ত সমাধান:

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৭ ধারা অনুযায়ী, কেবল মুখে ‘তালাক’ বললেই বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হয় না। তালাক দিতে চাইলে স্বামীকে লিখিতভাবে ইউপি চেয়ারম্যান/মেয়র/কাউন্সিলরকে নোটিশ দিতে হবে এবং তার একটি নকল (কপি) স্ত্রীকেও পাঠাতে হবে। নোটিশ পাওয়ার পর চেয়ারম্যান একটি শালিসি পরিষদ গঠন করবেন এবং ৯০ দিন সময় দেবেন আপস-রফার জন্য।

যেহেতু আরিফ কোনো আইনি নোটিশ দেয়নি, তাই আইনত তাদের বিবাহবিচ্ছেদ এখনো কার্যকর হয়নি। সালমা এখনো আরিফের বৈধ স্ত্রী। যদি আরিফ নোটিশ ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করে, তবে তা আইনত অপরাধ (৮ ধারা অনুযায়ী ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে)।

২. সন্তানের জিম্মাদারি (Custody) ও খোরপোষের সমাধান:

সন্তানের জিম্মাদারি (Custody): মুসলিম আইন অনুযায়ী, সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে, শিশু বয়সে মায়ের কাছেই থাকবে। মেয়েসন্তানের ক্ষেত্রে মা বয়ঃসন্ধিকাল হওয়া পর্যন্ত তাকে কাছে রাখার অধিকার পান। তাই ৩ বছরের কন্যাসন্তান সম্পূর্ণভাবে সালমার কাছেই থাকবে।

সন্তানের খোরপোষ (Maintenance): বাবার আর্থিক অবস্থা যেমনই হোক, সন্তানের ভরণপোষণ (খাবার, পোশাক, চিকিৎসা, শিক্ষা) দেওয়া বাবার আইনি বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। বাবা সন্তানকে নিজের কাছে না রাখলেও খোরপোষ দিতে বাধ্য।

৩. দেনমোহর, ভরণপোষণ ও আইনি পদক্ষেপ:

সালমা তার অধিকার আদায়ের জন্য পারিবারিক আদালতে  মামলা দায়ের করতে পারবেন।

দেনমোহর : বিবাহকালে বা বিবাহের পর আরিফ যদি দেনমোহর পরিশোধ না করে থাকে, তবে সালমা পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে সম্পূর্ণ দেনমোহরের টাকা আদায়ের আবেদন করতে পারবেন।

স্ত্রীর খোরপোষ: যেহেতু আরিফ জোরপূর্বক সালমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় তালাকও দেয়নি, তাই এই সময়কালের জন্য সালমা নিজের খোরপোষ দাবি করতে পারবেন।

আইনি প্রতিকার: সালমা স্থানীয় সহকারী জজ আদালত (পারিবারিক আদালত)-এ গিয়ে একই সাথে ৩টি বিষয়ে মামলা করতে পারবেন: ১. দেনমোহর আদায়, ২. নিজের ও সন্তানের খোরপোষ আদায়, এবং ৩. সন্তানের জিম্মাদারি নিশ্চিতকরণ।

পরামর্শ: মুখে বলা তালাক আইনগতভাবে অকার্যকর। সালমা অবিলম্বে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করে দেনমোহর ও সন্তানের মাসিক খোরপোষ নির্ধারণের আবেদন করতে পারেন। আদালত আরিফকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেবেন; অনাদায়ে আরিফের সম্পত্তি ক্রোক বা তার কারাদণ্ডের আদেশ হতে পারে।