ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

মামলা বা রিট প্রত্যাহার না করলে মিলবে না ব্যাংক খাতের বিশেষ প্রণোদনা

সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে আদালতে করা কোনো রিট বা মামলা প্রত্যাহার না করলে এখন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত কোনো প্রণোদনা প্যাকেজ বা নীতিসহায়তার সুবিধা পাবেন না গ্রাহকরা। এই মর্মে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে একটি নতুন ও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা এক সার্কুলারে এই নতুন শর্তের কথা জানানো হয়।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেশের উৎপাদনশীল খাতে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ও নীতিসহায়তা কার্যকর রয়েছে।

এই উদ্যোগগুলোর মূল লক্ষ্য হলো—

বন্ধ হয়ে যাওয়া রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা পুনরায় সচল করা

কৃষি খাতকে সমৃদ্ধ করা

কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই)-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিশেষ আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে যে, কিছু গ্রাহক একযোগে প্রণোদনা ও বিশেষ নীতিসহায়তার জন্য আবেদন করছেন, অথচ একই সঙ্গে সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আদালতে করা তাঁদের রিট ও মামলাগুলো বহাল রাখছেন। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতি ও আইনি জটিলতা এড়াতেই নতুন করে এই কঠোর শর্ত আরোপ করা হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী প্রণোদনা পেতে হলে গ্রাহকদের নিচের শর্তগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে:

মামলা প্রত্যাহার বাধ্যতামূলক: কোনো প্রণোদনা প্যাকেজ বা নীতিসহায়তার জন্য আবেদন করার আগেই আবেদনকারীর দায়ের করা রিট পিটিশন বা অন্য যেকোনো আইনি কার্যক্রম যদি বিচারাধীন থাকে, তবে তা অবশ্যই আইনগতভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা: আবেদনের সঙ্গে অবশ্যই মামলা বা রিট প্রত্যাহারের মূল প্রমাণপত্র এবং প্রত্যাহার করা মামলার একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা সংযুক্ত করতে হবে।

হলফনামা পেশ: আবেদনকারীর বিরুদ্ধে আদালতে বর্তমানে আর কোনো মামলা বা অনিষ্পন্ন আইনি কার্যক্রম নেই—এ মর্মে একটি যথাযথ হলফনামা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকের জমা দেওয়া এসব প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করার পরই কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো প্রণোদনা বা নীতিসহায়তার আবেদনটি বিবেচনা করার অনুমতি পাবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

মামলা বা রিট প্রত্যাহার না করলে মিলবে না ব্যাংক খাতের বিশেষ প্রণোদনা

আপডেট সময় ০৯:২৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে আদালতে করা কোনো রিট বা মামলা প্রত্যাহার না করলে এখন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত কোনো প্রণোদনা প্যাকেজ বা নীতিসহায়তার সুবিধা পাবেন না গ্রাহকরা। এই মর্মে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে একটি নতুন ও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা এক সার্কুলারে এই নতুন শর্তের কথা জানানো হয়।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেশের উৎপাদনশীল খাতে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ও নীতিসহায়তা কার্যকর রয়েছে।

এই উদ্যোগগুলোর মূল লক্ষ্য হলো—

বন্ধ হয়ে যাওয়া রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা পুনরায় সচল করা

কৃষি খাতকে সমৃদ্ধ করা

কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই)-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিশেষ আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে যে, কিছু গ্রাহক একযোগে প্রণোদনা ও বিশেষ নীতিসহায়তার জন্য আবেদন করছেন, অথচ একই সঙ্গে সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আদালতে করা তাঁদের রিট ও মামলাগুলো বহাল রাখছেন। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতি ও আইনি জটিলতা এড়াতেই নতুন করে এই কঠোর শর্ত আরোপ করা হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী প্রণোদনা পেতে হলে গ্রাহকদের নিচের শর্তগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে:

মামলা প্রত্যাহার বাধ্যতামূলক: কোনো প্রণোদনা প্যাকেজ বা নীতিসহায়তার জন্য আবেদন করার আগেই আবেদনকারীর দায়ের করা রিট পিটিশন বা অন্য যেকোনো আইনি কার্যক্রম যদি বিচারাধীন থাকে, তবে তা অবশ্যই আইনগতভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা: আবেদনের সঙ্গে অবশ্যই মামলা বা রিট প্রত্যাহারের মূল প্রমাণপত্র এবং প্রত্যাহার করা মামলার একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা সংযুক্ত করতে হবে।

হলফনামা পেশ: আবেদনকারীর বিরুদ্ধে আদালতে বর্তমানে আর কোনো মামলা বা অনিষ্পন্ন আইনি কার্যক্রম নেই—এ মর্মে একটি যথাযথ হলফনামা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকের জমা দেওয়া এসব প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করার পরই কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো প্রণোদনা বা নীতিসহায়তার আবেদনটি বিবেচনা করার অনুমতি পাবে।