দেশের বাজারে প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে (৭৬.৫ শতাংশ) ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই কমিটিকে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
স্বাস্থ্য সচিব ও বিএসটিআই কর্তৃপক্ষকে এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে তিন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি থাকবেন:
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর একজন বিশেষজ্ঞ
সায়েন্স ল্যাবরেটরির একজন বিশেষজ্ঞ
বিএসটিআই-এর একজন বিশেষজ্ঞ
টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক রোধে কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব,পরিবেশ সচিব,বাণিজ্য সচিব ও বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)-র এক গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এই রিট দায়ের করেন।
বাজার থেকে সংগৃহীত ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই) ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়।
দেশীয় উৎপাদিত ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভিয়েতনামের ২টি নমুনার ২টিতেই, থাইল্যান্ডের ২টি নমুনার ১টিতে, ভারতের ৫টি নমুনার ১টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।
প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩২০টি কণা পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল’-এ।
শিশুদের জন্য বাজারজাত ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতে (৬৬.৭ শতাংশ) মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪০টি কণা মিলেছে ‘কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা’-তে।
আদালত প্রতিবেদক 

















