বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের মামলায় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক উপাচার্য (ভিসি) নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর জামিননামা দাখিল করা হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করায় তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর আইনজীবীরা।
সোমবার (২৭ জুলাই) শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির জামিননামা গ্রহণের অনুমোদন দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মহসিন রেজা জানান, উচ্চ আদালত আগেই ১ লাখ টাকা মুচলেকা ও নিজস্ব পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে অধ্যাপক কলিমউল্লাহর জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। সেই শর্তাবলী পূরণ করে জামিননামা দাখিল করা হয়েছে। অন্য কোনো মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা অভিযোগ না থাকায় কারাগার থেকে তাঁর মুক্তিতে কোনো আইনি জটিলতা নেই।
উল্লেখ্য, সোমবার মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও আসামির হাজিরা দেওয়ার দিন ধার্য থাকায় কলিমউল্লাহকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাঁকে সাময়িকভাবে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। আদালত আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর মামলাটির পরবর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন।
গত বছরের ১৮ জুন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কলিমউল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ৭ আগস্ট ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলাটির অন্য আসামিরা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম নূর-উন-নবী, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদার মো. আ. সালাম বাচ্চু এবং এম এম হাবিবুর রহমান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে মূল ডিপিপি (Development Project Proposal) লঙ্ঘন করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই নকশা বদলে ৩০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের নতুন চুক্তি করা হয়।
ঠিকাদারের রানিং বিল থেকে কেটে রাখা নিরাপত্তা জামানত এফডিআর হিসেবে রেখে, সেই এফডিআরের বিপরীতে ঋণ নিতে গ্যারান্টার হয়ে চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
চুক্তিতে কোনো অগ্রিম অর্থ প্রদানের বিধান না থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদারকে অগ্রিম বিল দেওয়া এবং সমন্বয়ের আগেই ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করা হয়।
প্রথম পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নকশা উপেক্ষা করে নতুন দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান নিয়োগ এবং সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর-২০০৮) না মেনে অস্বাভাবিক দর বা ফ্রন্ট লোডিং সত্ত্বেও দরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ এনেছে তদন্তকারী সংস্থা।
আদালত প্রতিবেদক 

















