ঢাকা ১১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট Logo ৩৫ বছর বয়সের পর আর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি: আলোচনায় যাঁরা

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী এবং জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর চর্চা চলছে। সংক্ষেপে পরিস্থিতিটি নিচে তুলে ধরা হলো:

মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদটি শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলীয় প্রার্থীরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

রাজনৈতিক অঙ্গন ও দলের নীতিনির্ধারণী মহলে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে:

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: বিএনপির মহাসচিব হিসেবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়ার দৌড়ে তাঁর নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই জ্যেষ্ঠ নেতার নামও রাজনৈতিক মহলে আলোচিত।

ড. মঈন খান: স্থায়ী কমিটির এই বিজ্ঞ সদস্যকে নিয়েও আলোচনা চলছে।

নজরুল ইসলাম খান: সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন স্থায়ী কমিটির এই জ্যেষ্ঠ নেতাও।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে তাঁর নামও উঠে এসেছে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী: বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও তালিকায় রয়েছে।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তাই এমন কাউকেই বেছে নেওয়া উচিত যিনি পরীক্ষিত, দলের প্রতি বিশ্বস্ত এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের অনুসারী। পাশাপাশি, রাজনৈতিক নৈতিকতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ বজায় রাখতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকেই এই পদে কাউকে আসীন করার পক্ষে জোর দিচ্ছেন দলীয় নেতারা।

স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জানান, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নেবে দল। বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে প্রার্থীও অবশ্যই দলীয় হবেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় রাজনৈতিক বলয়ের বাইরের কোনো অরাজনৈতিক ব্যক্তির রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ও সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন স্থায়ী কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি: আলোচনায় যাঁরা

আপডেট সময় ১১:৩৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী এবং জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর চর্চা চলছে। সংক্ষেপে পরিস্থিতিটি নিচে তুলে ধরা হলো:

মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদটি শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলীয় প্রার্থীরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

রাজনৈতিক অঙ্গন ও দলের নীতিনির্ধারণী মহলে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে:

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: বিএনপির মহাসচিব হিসেবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়ার দৌড়ে তাঁর নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই জ্যেষ্ঠ নেতার নামও রাজনৈতিক মহলে আলোচিত।

ড. মঈন খান: স্থায়ী কমিটির এই বিজ্ঞ সদস্যকে নিয়েও আলোচনা চলছে।

নজরুল ইসলাম খান: সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন স্থায়ী কমিটির এই জ্যেষ্ঠ নেতাও।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে তাঁর নামও উঠে এসেছে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী: বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও তালিকায় রয়েছে।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তাই এমন কাউকেই বেছে নেওয়া উচিত যিনি পরীক্ষিত, দলের প্রতি বিশ্বস্ত এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের অনুসারী। পাশাপাশি, রাজনৈতিক নৈতিকতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ বজায় রাখতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকেই এই পদে কাউকে আসীন করার পক্ষে জোর দিচ্ছেন দলীয় নেতারা।

স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জানান, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নেবে দল। বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে প্রার্থীও অবশ্যই দলীয় হবেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় রাজনৈতিক বলয়ের বাইরের কোনো অরাজনৈতিক ব্যক্তির রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ও সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন স্থায়ী কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন।