ঢাকা ১২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট

নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতের এমপি বহিষ্কার: তাঁর সংসদ সদস্য পদের কী হবে?

বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, কেবলমাত্র দল থেকে বহিষ্কার হলেই কোনো সংসদ সদস্যের (এমপি) পদ সরাসরি বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না।

সংবিধানের এই সংক্রান্ত জটিলতা এবং পদটির আইনি ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে মূলত কয়েকটি অনুচ্ছেদ ও প্রক্রিয়ার ওপর:

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কী বলে?

সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন এমপি কেবল দুইটি কারণে তাঁর আসন হারাবেন:

  • যদি তিনি স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগ করেন।
  • যদি তিনি সংসদে তাঁর নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করেন।

সংবিধানে দল কর্তৃক কোনো সদস্যকে ‘বহিষ্কার’ করা হলে এমপি পদ বাতিল হবে কি না—এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই। ফলে দলীয় পদে না থাকলেও তিনি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বা দল-বহির্ভূত হিসেবে সংসদে থেকে যেতে পারেন।

কখন পদ বাতিল হতে পারে?

সংসদ সদস্য পদ হারানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে প্রধানত দুটি উপায়ে:

ক) সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ (অযোগ্যতা) ও আদালতের সাজা: যদি নৈতিক স্খলন-সংক্রান্ত বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধে আদালত তাঁকে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন তবে সংবিধানের ৬৬ (২) (গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা হারাবেন।

খ) যদি সংশ্লিষ্ট এমপি নিজেই সংসদ স্পিকারের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন, তবে স্পিকার তা গ্রহণ করলে তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হবে।

বিগত সংসদীয় নজির

আবু হেনা (বিএনপি, ২০০৫): দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন স্পিকার রায় দেন যে তিনি পদত্যাগ করেননি বা দলের বিপক্ষে ভোট দেননি, তাই তাঁর এমপি পদ বহাল ছিল।

আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী (আওয়ামী লীগ, ২০১৫): বহিষ্কারের পর আইনি জটিলতা তৈরি হলে কোনো সিদ্ধান্ত আসার আগেই তিনি নিজেই সংসদে ইস্তফা দেন।

জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় তিনি আর ওই দলের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হবেন না। তবে আইনি ও সাংবিধানিক বিধিনিষেধ অনুযায়ী, যতক্ষণ না তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন অথবা আদালতের রায়ে সাজার মুখোমুখি হচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর পদ বজায় রাখার সুযোগ রয়েছে। পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।

 

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ

নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতের এমপি বহিষ্কার: তাঁর সংসদ সদস্য পদের কী হবে?

আপডেট সময় ০২:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, কেবলমাত্র দল থেকে বহিষ্কার হলেই কোনো সংসদ সদস্যের (এমপি) পদ সরাসরি বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না।

সংবিধানের এই সংক্রান্ত জটিলতা এবং পদটির আইনি ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে মূলত কয়েকটি অনুচ্ছেদ ও প্রক্রিয়ার ওপর:

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কী বলে?

সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন এমপি কেবল দুইটি কারণে তাঁর আসন হারাবেন:

  • যদি তিনি স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগ করেন।
  • যদি তিনি সংসদে তাঁর নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করেন।

সংবিধানে দল কর্তৃক কোনো সদস্যকে ‘বহিষ্কার’ করা হলে এমপি পদ বাতিল হবে কি না—এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই। ফলে দলীয় পদে না থাকলেও তিনি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বা দল-বহির্ভূত হিসেবে সংসদে থেকে যেতে পারেন।

কখন পদ বাতিল হতে পারে?

সংসদ সদস্য পদ হারানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে প্রধানত দুটি উপায়ে:

ক) সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ (অযোগ্যতা) ও আদালতের সাজা: যদি নৈতিক স্খলন-সংক্রান্ত বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধে আদালত তাঁকে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন তবে সংবিধানের ৬৬ (২) (গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা হারাবেন।

খ) যদি সংশ্লিষ্ট এমপি নিজেই সংসদ স্পিকারের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন, তবে স্পিকার তা গ্রহণ করলে তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হবে।

বিগত সংসদীয় নজির

আবু হেনা (বিএনপি, ২০০৫): দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন স্পিকার রায় দেন যে তিনি পদত্যাগ করেননি বা দলের বিপক্ষে ভোট দেননি, তাই তাঁর এমপি পদ বহাল ছিল।

আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী (আওয়ামী লীগ, ২০১৫): বহিষ্কারের পর আইনি জটিলতা তৈরি হলে কোনো সিদ্ধান্ত আসার আগেই তিনি নিজেই সংসদে ইস্তফা দেন।

জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় তিনি আর ওই দলের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হবেন না। তবে আইনি ও সাংবিধানিক বিধিনিষেধ অনুযায়ী, যতক্ষণ না তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন অথবা আদালতের রায়ে সাজার মুখোমুখি হচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর পদ বজায় রাখার সুযোগ রয়েছে। পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।