নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন কিংবা যৌতুক নিরোধ আইনের অপব্যবহার রোধ এবং পুরুষদের সুরক্ষায় ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে নতুন একটি আইন প্রণয়নের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে অযথা হয়রানি থেকে পুরুষদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য রিটটি অন্তর্ভুক্ত হয়।
গত মে মাসে ‘বাটারফ্লাই হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী ইলিয়াসুর রহমান এবং সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. খলিলুর রহমান জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন।
রিটে প্রধানত দুটি বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে:
১. নতুন আইন প্রণয়ন: পুরুষদের সুরক্ষায় ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন গঠনের নির্দেশ প্রদান।
২. হয়রানি থেকে সুরক্ষা: রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় পুরুষদের যেন অন্যায্য ও অপ্রয়োজনীয় হয়রানি না করা হয়, সে বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা জারি।
মামলায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব এবং আইন কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী (রেসপনডেন্ট) করা হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী কাজী ইলিয়াসুর রহমান জানান, দেশের সংবিধানে সব নাগরিকের সমঅধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও পুরুষদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। তিনি বলেন, “নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় কঠোর আইন রয়েছে, কিন্তু নির্যাতিত পুরুষদের প্রতিকার পাওয়ার মতো কোনো আইনি কাঠামো নেই। মিথ্যা মামলা ও অপব্যবহারের কারণে বহু পুরুষ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরা একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইনি ব্যবস্থা চাই, যেন কোনো পক্ষই আইনের অপব্যবহার করতে না পারে।”
এটি বর্তমানে একটি প্রাথমিক রিট আবেদন পর্যায়ে রয়েছে। হাইকোর্ট এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত রায় বা সিদ্ধান্ত দেননি। আদালতের পরবর্তী শুনানির পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
আদালত প্রতিবেদক 


















