ঢাকা ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

অসুস্থ স্ত্রীকে হোটেলে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

চিকিৎসার দোহাই দিয়ে অসুস্থ স্ত্রীকে চট্টগ্রাম শহরের একটি হোটেলে এনে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নেজাম উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে শাহনাজ বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর ঈদে কেনাকাটা করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন শাহনাজ। পরবর্তীতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বামী নেজাম উদ্দিন তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।

২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে শাহনাজকে চট্টগ্রাম নগরে নিয়ে আসেন নেজাম। তবে তিনি স্ত্রীকে কোনো হাসপাতালে না নিয়ে বহদ্দারহাটের ‘হোটেল আল-রেজা’র ৩১৯ নম্বর কক্ষে ওঠেন। পরবর্তীতে সেখান থেকেই শাহনাজের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনার পর শাহনাজের বড় ভাই আজগর আলী বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ আসামি নেজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত আজ এ রায় দিলেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহতের ভাই ও মামলার বাদী আজগর আলী বলেন, “আমার বোনকে চিকিৎসার কথা বলে হোটেলে এনে পাশবিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছিল। ঘটনার সময় শাহনাজ আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। আমরা এ রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।”

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

অসুস্থ স্ত্রীকে হোটেলে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০৭:১৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

চিকিৎসার দোহাই দিয়ে অসুস্থ স্ত্রীকে চট্টগ্রাম শহরের একটি হোটেলে এনে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নেজাম উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে শাহনাজ বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর ঈদে কেনাকাটা করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন শাহনাজ। পরবর্তীতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বামী নেজাম উদ্দিন তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।

২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে শাহনাজকে চট্টগ্রাম নগরে নিয়ে আসেন নেজাম। তবে তিনি স্ত্রীকে কোনো হাসপাতালে না নিয়ে বহদ্দারহাটের ‘হোটেল আল-রেজা’র ৩১৯ নম্বর কক্ষে ওঠেন। পরবর্তীতে সেখান থেকেই শাহনাজের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনার পর শাহনাজের বড় ভাই আজগর আলী বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ আসামি নেজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত আজ এ রায় দিলেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহতের ভাই ও মামলার বাদী আজগর আলী বলেন, “আমার বোনকে চিকিৎসার কথা বলে হোটেলে এনে পাশবিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছিল। ঘটনার সময় শাহনাজ আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। আমরা এ রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।”