ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি: ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে মামলা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত জনসন অ্যান্ড জনসনের Logo বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড Logo বেরোবি’র সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহর জামিননামা মঞ্জুর, মুক্তিতে বাধা নেই Logo টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক: উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo বিকাশ, নগদ ও রকেটের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল Logo সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই করেই সিদ্ধান্ত: আইনমন্ত্রী Logo সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনি ভিত্তি দেখছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সাবেক রাষ্ট্রপতিকে কি গ্রেপ্তার করা সম্ভব? সাংবিধানিক দায়মুক্তি ও আইনি বিতর্কের ব্যবচ্ছেদ Logo সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হলো ২৩৪৬টি মামলা

ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক কেনাবেচায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধ মাদকের কারবার রুখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এই ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’।

গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। এরপর জনমত যাচাই, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ ও সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। সংশোধিত এই আইনে মূলত প্রযুক্তিনির্ভর মাদক-সংক্রান্ত সব অপরাধকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা কিংবা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন বা এ সংক্রান্ত কোনো অবৈধ যোগাযোগ ও সহায়তা করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

একই সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে মাদক লেনদেনের চেষ্টা করলেও তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদক অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে অভিযুক্তের কাছ থেকে সরাসরি মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ ও ট্র্যাকিংয়ের ভিত্তিতেই বিচার করা যাবে। এই ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মাধ্যমে এই অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধীকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

অপরাধে ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইস, অ্যাকাউন্ট, পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ, অপসারণ বা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ট্রাইব্যুনালকে।

নতুন বিলে মাদকপ্রবণ এলাকায় স্বতন্ত্র ‘মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের বিধান পুনর্বহাল করার পাশাপাশি নিয়মিত আদালতেও বিচার চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া কার্যকর অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে নিজস্ব ‘ডগ স্কোয়াড’ গঠন এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে পাস হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২০০ গ্রামের বেশি ইয়াবা অথবা ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন বা কোকেন বহনের দায়ে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। এবার সেই আইনের পরিধি বাড়িয়ে ডিজিটাল মাধ্যমকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

Tag :

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক কেনাবেচায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ১০:১০:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধ মাদকের কারবার রুখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এই ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’।

গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। এরপর জনমত যাচাই, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ ও সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। সংশোধিত এই আইনে মূলত প্রযুক্তিনির্ভর মাদক-সংক্রান্ত সব অপরাধকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা কিংবা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন বা এ সংক্রান্ত কোনো অবৈধ যোগাযোগ ও সহায়তা করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

একই সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে মাদক লেনদেনের চেষ্টা করলেও তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদক অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে অভিযুক্তের কাছ থেকে সরাসরি মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ ও ট্র্যাকিংয়ের ভিত্তিতেই বিচার করা যাবে। এই ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মাধ্যমে এই অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধীকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

অপরাধে ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইস, অ্যাকাউন্ট, পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ, অপসারণ বা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ট্রাইব্যুনালকে।

নতুন বিলে মাদকপ্রবণ এলাকায় স্বতন্ত্র ‘মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের বিধান পুনর্বহাল করার পাশাপাশি নিয়মিত আদালতেও বিচার চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া কার্যকর অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে নিজস্ব ‘ডগ স্কোয়াড’ গঠন এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে পাস হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২০০ গ্রামের বেশি ইয়াবা অথবা ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন বা কোকেন বহনের দায়ে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। এবার সেই আইনের পরিধি বাড়িয়ে ডিজিটাল মাধ্যমকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হলো।