ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি: ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে মামলা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত জনসন অ্যান্ড জনসনের Logo বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড Logo বেরোবি’র সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহর জামিননামা মঞ্জুর, মুক্তিতে বাধা নেই Logo টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক: উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo বিকাশ, নগদ ও রকেটের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল Logo সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই করেই সিদ্ধান্ত: আইনমন্ত্রী Logo সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনি ভিত্তি দেখছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সাবেক রাষ্ট্রপতিকে কি গ্রেপ্তার করা সম্ভব? সাংবিধানিক দায়মুক্তি ও আইনি বিতর্কের ব্যবচ্ছেদ Logo সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হলো ২৩৪৬টি মামলা

আইনি জিজ্ঞাসা ও সমাধান

স্ত্রী চাকরিজীবী হলেই কি স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণের অধিকার হারান?

📝 পাঠকের প্রশ্ন

দিলরুবা (ছদ্মনাম), যশোর থেকে লিখেছেন

আমি একটি এমপিওভুক্ত কলেজে বাংলা বিষয়ের শিক্ষিকা। শিক্ষকতা ছিল আমার স্বপ্ন। অনেক কষ্ট ও পরিশ্রমের পর সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

চাকরি পাওয়ার সময় আমার স্বামী আমাকে সহযোগিতা করার জন্য প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু চাকরি পাওয়ার পর থেকেই আমাদের দাম্পত্য জীবনে শুরু হয়েছে অশান্তি।

আমার স্বামীও একজন স্কুলশিক্ষক। এখন তাঁর দাবি—যেহেতু তিনি আমার চাকরির পেছনে টাকা খরচ করেছেন, তাই আমার পুরো বেতনের ওপর তাঁর অধিকার রয়েছে। তিনি চান, আমার ইচ্ছামতো নয়, তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমার বেতনের সব টাকা সংসারে ব্যয় করতে হবে।

আমি যদি নিজের কোনো প্রয়োজনের জন্য তাঁর কাছে টাকা চাই, তিনি রাগ করে বলেন—

নিজে চাকরি করো, আবার আমার কাছ থেকে টাকা চাও কেন?”

আমি নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছি। তাই জানতে চাই—

🔹 আমার উপার্জিত অর্থ কি সম্পূর্ণ আমার নিজের?

🔹 চাকরি করি বলে কি স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার হারিয়েছি?

🔹 স্বামী কি আইনত আমার বেতনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন?

⚖️ আইন কী বলছে?

না। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী, স্ত্রী চাকরিজীবী বা স্বাবলম্বী হলেই তিনি স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার হারান না।

একই সঙ্গে স্ত্রীর উপার্জিত অর্থ সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব সম্পত্তি। স্বামী আইনগতভাবে সেই অর্থের ওপর জোরপূর্বক মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না।

📖 বিস্তারিত ব্যাখ্যা

💰 স্ত্রীর উপার্জিত অর্থ কার?

একজন নারী চাকরি, ব্যবসা বা অন্য কোনো বৈধ উপায়ে যে অর্থ উপার্জন করেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব সম্পত্তি।

তিনি চাইলে—

✔️ নিজের প্রয়োজনেই ব্যয় করতে পারবেন।

✔️ ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে পারবেন।

✔️ পরিবারের জন্য খরচ করতে পারবেন।

✔️ অথবা নিজের ইচ্ছামতো অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।

এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সম্পূর্ণ তাঁর নিজের।

👨‍⚖️ ভরণপোষণের দায়িত্ব কার?

মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী, বৈধ দাম্পত্য সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় এবং স্ত্রী কোনো বৈধ কারণ ছাড়া স্বামীর সংসার ত্যাগ না করলে, স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর।

এই দায়িত্বের মধ্যে সাধারণত অন্তর্ভুক্ত—

🍚 খাদ্য

👗 বস্ত্র

🏠 বাসস্থান

💊 চিকিৎসা

এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য জীবনযাপনের ব্যয়।

অতএব, স্ত্রী চাকরি করেন—এই একটি কারণেই স্বামী ভরণপোষণের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পান না।

⚖️ আদালত কী বিবেচনা করেন?

যদি ভরণপোষণ নিয়ে বিরোধ আদালতে যায়, তাহলে আদালত সাধারণত বিবেচনা করেন—

✔️ স্বামীর আয় ও আর্থিক সামর্থ্য

✔️ স্ত্রীর নিজস্ব আয়

✔️ উভয়ের সামাজিক অবস্থান

✔️ সংসারের বাস্তব ব্যয়

✔️ পারিবারিক প্রয়োজন

অর্থাৎ, স্ত্রীর আয় আদালতের বিবেচ্য হতে পারে; তবে এটি ভরণপোষণের অধিকার বাতিল করে না।

কোন ক্ষেত্রে স্ত্রী ভরণপোষণের অধিকার হারাতে পারেন?

সাধারণভাবে, কোনো বৈধ ও যৌক্তিক কারণ ছাড়া যদি স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতে বা বৈবাহিক দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকৃতি জানান, তাহলে ভরণপোষণের অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

তবে নিচের পরিস্থিতিতে স্ত্রী আলাদা থাকলেও ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন—

✅ স্বামীর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন

✅ নিরাপত্তাহীনতা

✅ দ্বিতীয় বিয়ে

✅ গুরুতর পারিবারিক সমস্যা

✅ অন্য কোনো আইনসম্মত ও যৌক্তিক কারণ

🏛 উচ্চ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

📖 ১. জামিলা খাতুন বনাম রুস্তম আলী

➡️ আদালত বলেন, প্রয়োজন হলে স্ত্রী অতীতের (বকেয়া) ভরণপোষণও দাবি করতে পারেন।

📖 ২. সিরাজুল ইসলাম বনাম হেলেনা বেগম

➡️ পারিবারিক আদালত বকেয়া ভরণপোষণের ডিক্রি দিতে পারেন।

📖 ৩. হালিমা মতিয়ার বনাম শেখ মতিয়ার রহমান

➡️ বিবাহ বহাল থাকা পর্যন্ত স্বামী ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। তালাক হলেও ইদ্দতকাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব বহাল থাকে।

দিলরুবার ক্ষেত্রে আইন কী বলছে?

দিলরুবার স্বামী চাকরি পাওয়ার সময় অর্থ ব্যয় করেছেন—এটি একটি পারিবারিক সহযোগিতা হতে পারে।

কিন্তু এই কারণে স্ত্রীর বেতনের ওপর তাঁর কোনো আইনি মালিকানা সৃষ্টি হয় না।

একইভাবে, স্ত্রী চাকরিজীবী হওয়ায় স্বামী তাঁর ভরণপোষণের দায়িত্ব থেকেও মুক্তি পান না।

যদি স্বামী জোরপূর্বক স্ত্রীর বেতন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেন বা ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করেন, তবে তা আইনসম্মত নয়।

💡 করণীয়

✔️ প্রথমে শান্তভাবে পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করুন।

✔️ প্রয়োজনে স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

✔️ সমাধান না হলে পারিবারিক আদালতের আশ্রয় নিন।

✔️ প্রয়োজন হলে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করুন।

📌 মনে রাখুন

স্ত্রীর উপার্জিত অর্থ তাঁর নিজের সম্পত্তি। চাকরিজীবী হওয়া মাত্রই তিনি স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণের অধিকার হারান না। আইন দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে, কিন্তু এক পক্ষের আয়ের ওপর অন্য পক্ষের জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণকে সমর্থন করে না।

আপনারও কি কোনো আইনি জিজ্ঞাসা আছে?

আপনার নাম, ঠিকানা ও প্রশ্নটি স্পষ্ট করে লিখে পাঠিয়ে দিন আমাদের ইমেইলে: ainbarta02@gmail.com। উত্তর দেবে আইনবার্তা২৪-এর আইন বিশেষজ্ঞ প্যানেল।

আইনবার্তা২৪ — সহজ ভাষায় আইনি সমাধান।

Tag :

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

আইনি জিজ্ঞাসা ও সমাধান

আপডেট সময় ০৮:২৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

স্ত্রী চাকরিজীবী হলেই কি স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণের অধিকার হারান?

📝 পাঠকের প্রশ্ন

দিলরুবা (ছদ্মনাম), যশোর থেকে লিখেছেন

আমি একটি এমপিওভুক্ত কলেজে বাংলা বিষয়ের শিক্ষিকা। শিক্ষকতা ছিল আমার স্বপ্ন। অনেক কষ্ট ও পরিশ্রমের পর সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

চাকরি পাওয়ার সময় আমার স্বামী আমাকে সহযোগিতা করার জন্য প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু চাকরি পাওয়ার পর থেকেই আমাদের দাম্পত্য জীবনে শুরু হয়েছে অশান্তি।

আমার স্বামীও একজন স্কুলশিক্ষক। এখন তাঁর দাবি—যেহেতু তিনি আমার চাকরির পেছনে টাকা খরচ করেছেন, তাই আমার পুরো বেতনের ওপর তাঁর অধিকার রয়েছে। তিনি চান, আমার ইচ্ছামতো নয়, তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমার বেতনের সব টাকা সংসারে ব্যয় করতে হবে।

আমি যদি নিজের কোনো প্রয়োজনের জন্য তাঁর কাছে টাকা চাই, তিনি রাগ করে বলেন—

নিজে চাকরি করো, আবার আমার কাছ থেকে টাকা চাও কেন?”

আমি নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছি। তাই জানতে চাই—

🔹 আমার উপার্জিত অর্থ কি সম্পূর্ণ আমার নিজের?

🔹 চাকরি করি বলে কি স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার হারিয়েছি?

🔹 স্বামী কি আইনত আমার বেতনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন?

⚖️ আইন কী বলছে?

না। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী, স্ত্রী চাকরিজীবী বা স্বাবলম্বী হলেই তিনি স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার হারান না।

একই সঙ্গে স্ত্রীর উপার্জিত অর্থ সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব সম্পত্তি। স্বামী আইনগতভাবে সেই অর্থের ওপর জোরপূর্বক মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না।

📖 বিস্তারিত ব্যাখ্যা

💰 স্ত্রীর উপার্জিত অর্থ কার?

একজন নারী চাকরি, ব্যবসা বা অন্য কোনো বৈধ উপায়ে যে অর্থ উপার্জন করেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব সম্পত্তি।

তিনি চাইলে—

✔️ নিজের প্রয়োজনেই ব্যয় করতে পারবেন।

✔️ ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে পারবেন।

✔️ পরিবারের জন্য খরচ করতে পারবেন।

✔️ অথবা নিজের ইচ্ছামতো অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।

এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সম্পূর্ণ তাঁর নিজের।

👨‍⚖️ ভরণপোষণের দায়িত্ব কার?

মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী, বৈধ দাম্পত্য সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় এবং স্ত্রী কোনো বৈধ কারণ ছাড়া স্বামীর সংসার ত্যাগ না করলে, স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর।

এই দায়িত্বের মধ্যে সাধারণত অন্তর্ভুক্ত—

🍚 খাদ্য

👗 বস্ত্র

🏠 বাসস্থান

💊 চিকিৎসা

এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য জীবনযাপনের ব্যয়।

অতএব, স্ত্রী চাকরি করেন—এই একটি কারণেই স্বামী ভরণপোষণের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পান না।

⚖️ আদালত কী বিবেচনা করেন?

যদি ভরণপোষণ নিয়ে বিরোধ আদালতে যায়, তাহলে আদালত সাধারণত বিবেচনা করেন—

✔️ স্বামীর আয় ও আর্থিক সামর্থ্য

✔️ স্ত্রীর নিজস্ব আয়

✔️ উভয়ের সামাজিক অবস্থান

✔️ সংসারের বাস্তব ব্যয়

✔️ পারিবারিক প্রয়োজন

অর্থাৎ, স্ত্রীর আয় আদালতের বিবেচ্য হতে পারে; তবে এটি ভরণপোষণের অধিকার বাতিল করে না।

কোন ক্ষেত্রে স্ত্রী ভরণপোষণের অধিকার হারাতে পারেন?

সাধারণভাবে, কোনো বৈধ ও যৌক্তিক কারণ ছাড়া যদি স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতে বা বৈবাহিক দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকৃতি জানান, তাহলে ভরণপোষণের অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

তবে নিচের পরিস্থিতিতে স্ত্রী আলাদা থাকলেও ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন—

✅ স্বামীর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন

✅ নিরাপত্তাহীনতা

✅ দ্বিতীয় বিয়ে

✅ গুরুতর পারিবারিক সমস্যা

✅ অন্য কোনো আইনসম্মত ও যৌক্তিক কারণ

🏛 উচ্চ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

📖 ১. জামিলা খাতুন বনাম রুস্তম আলী

➡️ আদালত বলেন, প্রয়োজন হলে স্ত্রী অতীতের (বকেয়া) ভরণপোষণও দাবি করতে পারেন।

📖 ২. সিরাজুল ইসলাম বনাম হেলেনা বেগম

➡️ পারিবারিক আদালত বকেয়া ভরণপোষণের ডিক্রি দিতে পারেন।

📖 ৩. হালিমা মতিয়ার বনাম শেখ মতিয়ার রহমান

➡️ বিবাহ বহাল থাকা পর্যন্ত স্বামী ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। তালাক হলেও ইদ্দতকাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব বহাল থাকে।

দিলরুবার ক্ষেত্রে আইন কী বলছে?

দিলরুবার স্বামী চাকরি পাওয়ার সময় অর্থ ব্যয় করেছেন—এটি একটি পারিবারিক সহযোগিতা হতে পারে।

কিন্তু এই কারণে স্ত্রীর বেতনের ওপর তাঁর কোনো আইনি মালিকানা সৃষ্টি হয় না।

একইভাবে, স্ত্রী চাকরিজীবী হওয়ায় স্বামী তাঁর ভরণপোষণের দায়িত্ব থেকেও মুক্তি পান না।

যদি স্বামী জোরপূর্বক স্ত্রীর বেতন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেন বা ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করেন, তবে তা আইনসম্মত নয়।

💡 করণীয়

✔️ প্রথমে শান্তভাবে পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করুন।

✔️ প্রয়োজনে স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

✔️ সমাধান না হলে পারিবারিক আদালতের আশ্রয় নিন।

✔️ প্রয়োজন হলে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করুন।

📌 মনে রাখুন

স্ত্রীর উপার্জিত অর্থ তাঁর নিজের সম্পত্তি। চাকরিজীবী হওয়া মাত্রই তিনি স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণের অধিকার হারান না। আইন দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে, কিন্তু এক পক্ষের আয়ের ওপর অন্য পক্ষের জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণকে সমর্থন করে না।

আপনারও কি কোনো আইনি জিজ্ঞাসা আছে?

আপনার নাম, ঠিকানা ও প্রশ্নটি স্পষ্ট করে লিখে পাঠিয়ে দিন আমাদের ইমেইলে: ainbarta02@gmail.com। উত্তর দেবে আইনবার্তা২৪-এর আইন বিশেষজ্ঞ প্যানেল।

আইনবার্তা২৪ — সহজ ভাষায় আইনি সমাধান।