যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়ে বহাল রইল জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার। এর ফলে মার্কিন ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই দেশটির স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাবে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই ট্রাম্পের জারি করা অভিবাসনবিরোধী নির্বাহী আদেশটি বড় ধাক্কা খেল।
মার্কিন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বে আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারক ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটিকে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর পরিপন্থী বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, ১৮৫৭ সালের বর্ণবাদী ‘ড্রেড স্কট’ মামলার রক্তের সম্পর্কের নীতিকে পাশ কাটিয়ে চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে মার্কিন মাটিতে জন্ম নেওয়া সবার নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হয়েছিল। আদালত আজ সেই প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করল। মা-বাবার অভিবাসন মর্যাদা (অবৈধ বা সাময়িক ভিসা) যাই হোক না কেন, মার্কিন ভূখণ্ডে সন্তান জন্ম নিলে সে জন্মসূত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নাগরিক হবে। নির্বাহী আদেশ দিয়ে কোনো প্রেসিডেন্ট সংবিধান পরিবর্তন করতে পারেন না।
রায়ের পক্ষে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে যোগ দেন উদারপন্থী ও রক্ষণশীল মিলিয়ে ৫ জন বিচারক। বিপক্ষে ভিন্নমত দেন ৩ জন রক্ষণশীল বিচারক।
এই রায়কে “দেশের জন্য খুবই খারাপ” আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লিখেছেন, কোনো জটিল সংবিধান সংশোধনীর প্রয়োজন নেই; কংগ্রেসের উচিত অনতিবিলম্বে এই “অন্যায়” জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রথা বন্ধে নতুন আইন প্রণয়ন করা।
প্রতিনিধি সভার রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসনও রায়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এই নিয়মের চরম অপব্যবহার হচ্ছে।
আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন এই রায়কে এক “মহাবিজয়” হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রতিনিধি সভার ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিজ বলেন, ট্রাম্প ও তাঁর অভিবাসী-বিদ্বেষী সহযোগীদের অসাংবিধানিক আক্রমণ থেকে সংবিধান রক্ষা পেয়েছে এবং মার্কিন মূল আদর্শের জয় হয়েছে।
আইনবার্তা ডেস্ক 


















