ঢাকা ১২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট Logo ৩৫ বছর বয়সের পর আর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এটি ষষ্ঠ মামলার রায়।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বহুল আলোচিত এই মামলার রায়টি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করেছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি হাসানুল হক ইনু আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায়ের ঠিক আগে পুলিশ সদস্যরা তাঁর হাত ধরতে গেলে তিনি তাঁদের হাত ধরতে বারণ করেন।

মামলার একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ সুনির্দিষ্ট মোট আটটি অভিযোগ এনেছিল। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে আদালত ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ থেকে ইনুকে খালাস দেন। তবে ৩ নম্বর অভিযোগসহ বাকি তিনটি অভিযোগে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ইনুর বিরুদ্ধে আনা প্রধান প্রধান অভিযোগগুলো ছিল:

  • প্রথম অভিযোগ (খালাস): ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের ‘জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক’ অ্যাখ্যা দিয়ে বলপ্রয়োগের উসকানি ও হত্যার নির্দেশ দেওয়া।
  • দ্বিতীয় অভিযোগ (খালাস): ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪-দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ (দেখামাত্র গুলি) সিদ্ধান্তের সপক্ষে প্ররোচনা ও সহায়তা করা।
  • তৃতীয় অভিযোগ (প্রমাণিত ও দণ্ডিত): ছবি দেখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার তালিকা প্রণয়ন করা এবং তাঁদের অবৈধভাবে আটক ও নির্মম নির্যাতন করার জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে (এসপি) মুঠোফোনে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া।

ট্রাইব্যুনাল তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতন চালাতে উসকানি ও নির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে আসামি মানবতাবিরোধী অপরাধের প্ররোচকের ভূমিকা পালন করেছেন, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০৩:১৭:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এটি ষষ্ঠ মামলার রায়।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বহুল আলোচিত এই মামলার রায়টি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করেছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি হাসানুল হক ইনু আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায়ের ঠিক আগে পুলিশ সদস্যরা তাঁর হাত ধরতে গেলে তিনি তাঁদের হাত ধরতে বারণ করেন।

মামলার একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ সুনির্দিষ্ট মোট আটটি অভিযোগ এনেছিল। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে আদালত ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ থেকে ইনুকে খালাস দেন। তবে ৩ নম্বর অভিযোগসহ বাকি তিনটি অভিযোগে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ইনুর বিরুদ্ধে আনা প্রধান প্রধান অভিযোগগুলো ছিল:

  • প্রথম অভিযোগ (খালাস): ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের ‘জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক’ অ্যাখ্যা দিয়ে বলপ্রয়োগের উসকানি ও হত্যার নির্দেশ দেওয়া।
  • দ্বিতীয় অভিযোগ (খালাস): ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪-দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ (দেখামাত্র গুলি) সিদ্ধান্তের সপক্ষে প্ররোচনা ও সহায়তা করা।
  • তৃতীয় অভিযোগ (প্রমাণিত ও দণ্ডিত): ছবি দেখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার তালিকা প্রণয়ন করা এবং তাঁদের অবৈধভাবে আটক ও নির্মম নির্যাতন করার জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে (এসপি) মুঠোফোনে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া।

ট্রাইব্যুনাল তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতন চালাতে উসকানি ও নির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে আসামি মানবতাবিরোধী অপরাধের প্ররোচকের ভূমিকা পালন করেছেন, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।