ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

অনলাইন অপপ্রচার বন্ধে হাইকোর্টে রিট: বিবাদী স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপিসহ ৮ কর্মকর্তা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার এবং সাইবার গুজব বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থমূলক রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিল (এনএলসি)-এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকুর আলী (জুনু) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করেন।

রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‍্যাবের মহাপরিচালক, ডিএমপি কমিশনার, সিআইডি প্রধান এবং সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের প্রধানকে বিবাদী (রেসপন্ডেন্ট) করা হয়েছে।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বেশ কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য এবং ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ জনমনে তীব্র বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, এসব বেআইনি সাইবার কার্যক্রম বন্ধে ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে জনস্বার্থ রক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টের সরাসরি আইনি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

রিটে যেসব সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে:

  • অপপ্রচারে লিপ্ত সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও পেজগুলোর কার্যক্রম অবিলম্বে তদন্ত করা।
  • সন্দেহভাজন পোর্টাল ও পেজগুলোর প্রকৃত মালিকানা, অর্থায়নের উৎস এবং সরকারি নিবন্ধন যাচাই করা।
  • ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারিত সমস্ত আইনবিরোধী ও মানহানিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ করা।
  • সাইবার নিরাপত্তা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ক্ষতিকর প্ল্যাটফর্ম, লিংক বা ইউআরএল সম্পূর্ণ ব্লক করে দেওয়া।

রিট দায়ের শেষে আবেদনকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকুর আলী (জুনু) সাংবাদিকদের বলেন, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা আমাদের গণতান্ত্রিক সংবিধানের অন্যতম মূল ভিত্তি। তবে মিথ্যা তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, সাইবার হয়রানি ও মানহানিকর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতাভুক্ত হতে পারে না। রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও সামগ্রিক জনস্বার্থ রক্ষায় কর্তৃপক্ষের এখন কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।’

শুনানির সপক্ষে রিট আবেদনের সাথে বিভিন্ন বিতর্কিত পোস্টের স্ক্রিনশট এবং পূর্বে কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিলকৃত চিঠির অনুলিপি সংযুক্ত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এই রিট আবেদনটির ওপর প্রাথমিক শুনানি হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

অনলাইন অপপ্রচার বন্ধে হাইকোর্টে রিট: বিবাদী স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপিসহ ৮ কর্মকর্তা

আপডেট সময় ১২:১৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার এবং সাইবার গুজব বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থমূলক রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিল (এনএলসি)-এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকুর আলী (জুনু) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করেন।

রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‍্যাবের মহাপরিচালক, ডিএমপি কমিশনার, সিআইডি প্রধান এবং সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের প্রধানকে বিবাদী (রেসপন্ডেন্ট) করা হয়েছে।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বেশ কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য এবং ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ জনমনে তীব্র বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, এসব বেআইনি সাইবার কার্যক্রম বন্ধে ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে জনস্বার্থ রক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টের সরাসরি আইনি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

রিটে যেসব সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে:

  • অপপ্রচারে লিপ্ত সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও পেজগুলোর কার্যক্রম অবিলম্বে তদন্ত করা।
  • সন্দেহভাজন পোর্টাল ও পেজগুলোর প্রকৃত মালিকানা, অর্থায়নের উৎস এবং সরকারি নিবন্ধন যাচাই করা।
  • ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারিত সমস্ত আইনবিরোধী ও মানহানিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ করা।
  • সাইবার নিরাপত্তা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ক্ষতিকর প্ল্যাটফর্ম, লিংক বা ইউআরএল সম্পূর্ণ ব্লক করে দেওয়া।

রিট দায়ের শেষে আবেদনকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকুর আলী (জুনু) সাংবাদিকদের বলেন, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা আমাদের গণতান্ত্রিক সংবিধানের অন্যতম মূল ভিত্তি। তবে মিথ্যা তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, সাইবার হয়রানি ও মানহানিকর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতাভুক্ত হতে পারে না। রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও সামগ্রিক জনস্বার্থ রক্ষায় কর্তৃপক্ষের এখন কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।’

শুনানির সপক্ষে রিট আবেদনের সাথে বিভিন্ন বিতর্কিত পোস্টের স্ক্রিনশট এবং পূর্বে কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিলকৃত চিঠির অনুলিপি সংযুক্ত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এই রিট আবেদনটির ওপর প্রাথমিক শুনানি হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।