ঢাকা ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

শিশু আয়াত হত্যা মামলা: আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড, 

চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড এলাকায় ৫ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং লাশ কেটে ছয় টুকরো করার লোমহর্ষক ও আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি মো. আবীর আলীকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালত আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর কড়া পুলিশি পাহারায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবীরকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

অপরাধের প্রমাণ ও আদালতের রায়

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জালাল উদ্দিন এবং সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোহাম্মদ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মোট ৩৩ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

  • রায়: প্রধান আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড (অনাদায়ে ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড)।

  • ভিত্তি: আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, আলামত উদ্ধার এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: ‘এই ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম এবং সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী। আসামি ভারতীয় টেলিভিশন শো “ক্রাইম পেট্রোল” দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই নৃশংস অপরাধ ঘটিয়েছে।’

মুক্তিপণ থেকে লাশ ছয় টুকরো: সেই লোমহর্ষক ঘটনা

পুলিশ ও আদালত সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার ৫ বছরের শিশুকন্যা আয়াত নিখোঁজ হয়। তদন্তে নেমে পিবিআই জানতে পারে, আয়াতদের বাসার ভাড়াটে মো. আবীর আলীই ছিল এই ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড। ২০২২ সালের ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

  • হত্যার কারণ: মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করেছিল আবীর। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সে আয়াতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

  • লাশ গুমের চেষ্টা: অপরাধের আলামত ও লাশ সম্পূর্ণ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মরদেহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছয়টি খণ্ড করে আবীর। এরপর খণ্ডিত অংশগুলো চট্টগ্রামের আকমল আলী রোডের স্লুইসগেট সংলগ্ন সাগরপাড় এবং পতেঙ্গার আউটার রিং রোড সংলগ্ন খালের পাশে ফেলে দেয়।

মামলার বর্তমান অবস্থা

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দেন। অভিযোগপত্রে মো. আবীর এবং তার এক কিশোর বন্ধুকে (১৭) অভিযুক্ত করা হয়।

  • সহযোগী আসামির বিচার: সহযোগী বন্ধুটি আইনানুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার অংশটি আলাদাভাবে বর্তমানে শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আইনজীবীদের মন্তব্য: টেলিভিশনের ক্রাইম শো দেখে যেভাবে ৫ বছরের একটি শিশুকে নির্মমভাবে কেটে টুকরো করা হয়েছে, এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি কঠোর বার্তা যাবে এবং দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ভিকটিম আয়াতের পরিবার কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পেল।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

শিশু আয়াত হত্যা মামলা: আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড, 

আপডেট সময় ১২:১৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড এলাকায় ৫ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং লাশ কেটে ছয় টুকরো করার লোমহর্ষক ও আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি মো. আবীর আলীকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালত আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর কড়া পুলিশি পাহারায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবীরকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

অপরাধের প্রমাণ ও আদালতের রায়

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জালাল উদ্দিন এবং সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোহাম্মদ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মোট ৩৩ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

  • রায়: প্রধান আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড (অনাদায়ে ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড)।

  • ভিত্তি: আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, আলামত উদ্ধার এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: ‘এই ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম এবং সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী। আসামি ভারতীয় টেলিভিশন শো “ক্রাইম পেট্রোল” দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই নৃশংস অপরাধ ঘটিয়েছে।’

মুক্তিপণ থেকে লাশ ছয় টুকরো: সেই লোমহর্ষক ঘটনা

পুলিশ ও আদালত সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার ৫ বছরের শিশুকন্যা আয়াত নিখোঁজ হয়। তদন্তে নেমে পিবিআই জানতে পারে, আয়াতদের বাসার ভাড়াটে মো. আবীর আলীই ছিল এই ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড। ২০২২ সালের ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

  • হত্যার কারণ: মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করেছিল আবীর। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সে আয়াতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

  • লাশ গুমের চেষ্টা: অপরাধের আলামত ও লাশ সম্পূর্ণ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মরদেহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছয়টি খণ্ড করে আবীর। এরপর খণ্ডিত অংশগুলো চট্টগ্রামের আকমল আলী রোডের স্লুইসগেট সংলগ্ন সাগরপাড় এবং পতেঙ্গার আউটার রিং রোড সংলগ্ন খালের পাশে ফেলে দেয়।

মামলার বর্তমান অবস্থা

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দেন। অভিযোগপত্রে মো. আবীর এবং তার এক কিশোর বন্ধুকে (১৭) অভিযুক্ত করা হয়।

  • সহযোগী আসামির বিচার: সহযোগী বন্ধুটি আইনানুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার অংশটি আলাদাভাবে বর্তমানে শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আইনজীবীদের মন্তব্য: টেলিভিশনের ক্রাইম শো দেখে যেভাবে ৫ বছরের একটি শিশুকে নির্মমভাবে কেটে টুকরো করা হয়েছে, এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি কঠোর বার্তা যাবে এবং দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ভিকটিম আয়াতের পরিবার কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পেল।