ঢাকা ১১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট Logo ৩৫ বছর বয়সের পর আর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

যৌথ খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন কর নিয়ে জটিলতা নিরসন

যৌথ মালিকানাধীন খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের ক্ষেত্রে ভূমির মালিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও আইনি জটিলতা নিরসনে নতুন স্পষ্টীকরণ ও জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরমেন্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়।

‘ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী—উত্তরাধিকার সূত্রে বা কেনাবেচার মাধ্যমে ভূমির মালিকানা একাধিক ব্যক্তির হাতে গেলে এবং তারা পৃথক নামজারি (মিউটেশন) না করালে, পুরো জমিটি একটি যৌথ খতিয়ান হিসেবে গণ্য করা হয়।

এতদিন অনলাইন ও ম্যানুয়াল ব্যবস্থায় পুরো খতিয়ানের খাজনা একসঙ্গে দেওয়ার নিয়ম ছিল। ফলে যৌথ খতিয়ানের একজন মালিক তাঁর অংশের খাজনা দিতে চাইলেও তা পারতেন না, কারণ অন্য শরিকরা খাজনা দিতে আগ্রহী ছিলেন না বা রাজি হতেন না। আবার একা পুরো যৌথ খতিয়ানের খাজনা শোধ করাও কোনো একক মালিকের জন্য যুক্তিযুক্ত ছিল না। এতে সাধারণ জমি মালিকরা চরম হয়রানির মুখে পড়ছিলেন।

জমির দলিল আসল না নকল? জাল দলিল চেনার ৮ উপায়

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ৬টি জরুরি নির্দেশ:

১. খাজনা পরিশোধ ছাড়াই বণ্টননামা রেজিস্ট্রি: অনিবার্য কারণে পুরো যৌথ খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন কর একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব না হলে, খাজনা প্রদান বা দাখিলা দেখানো ছাড়াই আদালতের মাধ্যম কিংবা রেজিস্টার্ড বণ্টননামা দলিল সম্পাদন করা যাবে।

২. খাজনা ছাড়াই নামজারির আবেদন: বণ্টননামার ভিত্তিতে যৌথ মালিকানার যেকোনো এক বা একাধিক শরিক আগের খতিয়ানের খাজনা পরিশোধ ছাড়াই একক বা পৃথক খতিয়ান তৈরির (নামজারি) জন্য আবেদন করতে পারবেন।

৩. এসি ল্যান্ডের আবেদন মঞ্জুর: সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড মালিকানার সঠিকতা খতিয়ে দেখে আগের বকেয়া খাজনার দাখিলা ছাড়াই নতুন নামজারির আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।

৪. নতুন খতিয়ান সৃজনের পর বকেয়া পরিশোধ: নামজারি মঞ্জুর হওয়ার পর নতুন খতিয়ানের মালিক তাঁর হিস্যা অনুযায়ী পূর্বের যৌথ খতিয়ানের প্রযোজ্য বকেয়া ও হাল দাবি পরিশোধ করে নতুন দাখিলা সংগ্রহ করবেন।

৫. বণ্টননামা ছাড়া একক খাজনা দেওয়া যাবে না: যৌথ খতিয়ান থেকে বণ্টননামার মাধ্যমে আলাদা নামজারি না করা পর্যন্ত কোনো মালিক এককভাবে কেবল তাঁর অংশের খাজনা দিতে পারবেন না।

৬. অনলাইন সিস্টেমে পরিবর্তন: এই নতুন নিয়ম কার্যকরের জন্য সফটওয়্যার ও অনলাইন ভূমিসেবা সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও মডিউল যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশনার ফলে যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তির শরিকদের এখন থেকে অন্য সহ-শরিকদের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে থাকতে হবে না। আইনসম্মত বণ্টননামা দলিলের মাধ্যমে নিজেদের অংশ আলাদা করে নতুন নামজারি করে নেওয়ার এবং বকেয়া খাজনা শোধ করে জমি হস্তান্তর বা ব্যবহারের আইনি সুযোগ তৈরি হলো। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ

যৌথ খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন কর নিয়ে জটিলতা নিরসন

আপডেট সময় ০৫:২১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যৌথ মালিকানাধীন খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের ক্ষেত্রে ভূমির মালিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও আইনি জটিলতা নিরসনে নতুন স্পষ্টীকরণ ও জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরমেন্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়।

‘ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী—উত্তরাধিকার সূত্রে বা কেনাবেচার মাধ্যমে ভূমির মালিকানা একাধিক ব্যক্তির হাতে গেলে এবং তারা পৃথক নামজারি (মিউটেশন) না করালে, পুরো জমিটি একটি যৌথ খতিয়ান হিসেবে গণ্য করা হয়।

এতদিন অনলাইন ও ম্যানুয়াল ব্যবস্থায় পুরো খতিয়ানের খাজনা একসঙ্গে দেওয়ার নিয়ম ছিল। ফলে যৌথ খতিয়ানের একজন মালিক তাঁর অংশের খাজনা দিতে চাইলেও তা পারতেন না, কারণ অন্য শরিকরা খাজনা দিতে আগ্রহী ছিলেন না বা রাজি হতেন না। আবার একা পুরো যৌথ খতিয়ানের খাজনা শোধ করাও কোনো একক মালিকের জন্য যুক্তিযুক্ত ছিল না। এতে সাধারণ জমি মালিকরা চরম হয়রানির মুখে পড়ছিলেন।

জমির দলিল আসল না নকল? জাল দলিল চেনার ৮ উপায়

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ৬টি জরুরি নির্দেশ:

১. খাজনা পরিশোধ ছাড়াই বণ্টননামা রেজিস্ট্রি: অনিবার্য কারণে পুরো যৌথ খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন কর একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব না হলে, খাজনা প্রদান বা দাখিলা দেখানো ছাড়াই আদালতের মাধ্যম কিংবা রেজিস্টার্ড বণ্টননামা দলিল সম্পাদন করা যাবে।

২. খাজনা ছাড়াই নামজারির আবেদন: বণ্টননামার ভিত্তিতে যৌথ মালিকানার যেকোনো এক বা একাধিক শরিক আগের খতিয়ানের খাজনা পরিশোধ ছাড়াই একক বা পৃথক খতিয়ান তৈরির (নামজারি) জন্য আবেদন করতে পারবেন।

৩. এসি ল্যান্ডের আবেদন মঞ্জুর: সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড মালিকানার সঠিকতা খতিয়ে দেখে আগের বকেয়া খাজনার দাখিলা ছাড়াই নতুন নামজারির আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।

৪. নতুন খতিয়ান সৃজনের পর বকেয়া পরিশোধ: নামজারি মঞ্জুর হওয়ার পর নতুন খতিয়ানের মালিক তাঁর হিস্যা অনুযায়ী পূর্বের যৌথ খতিয়ানের প্রযোজ্য বকেয়া ও হাল দাবি পরিশোধ করে নতুন দাখিলা সংগ্রহ করবেন।

৫. বণ্টননামা ছাড়া একক খাজনা দেওয়া যাবে না: যৌথ খতিয়ান থেকে বণ্টননামার মাধ্যমে আলাদা নামজারি না করা পর্যন্ত কোনো মালিক এককভাবে কেবল তাঁর অংশের খাজনা দিতে পারবেন না।

৬. অনলাইন সিস্টেমে পরিবর্তন: এই নতুন নিয়ম কার্যকরের জন্য সফটওয়্যার ও অনলাইন ভূমিসেবা সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও মডিউল যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশনার ফলে যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তির শরিকদের এখন থেকে অন্য সহ-শরিকদের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে থাকতে হবে না। আইনসম্মত বণ্টননামা দলিলের মাধ্যমে নিজেদের অংশ আলাদা করে নতুন নামজারি করে নেওয়ার এবং বকেয়া খাজনা শোধ করে জমি হস্তান্তর বা ব্যবহারের আইনি সুযোগ তৈরি হলো। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।