ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

আইনি জিজ্ঞাসা ও পরামর্শ

সমস্যা: বরিশাল থেকে সালমা আকতার জানতে চেয়েছেন-

আরিফ ও সালমার বিবাহিত জীবন ৫ বছরের। তাঁদের ৩ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক বনিবনা না হওয়ায় আরিফ স্ত্রীকে না জানিয়ে এবং শালিসি পরিষদকে কোনো নোটিশ না দিয়েই মৌখিকভাবে “তিন তালাক” দিয়ে সালমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

এরপর আরিফ দ্বিতীয় বিয়ে করার ঘোষণা দেয় এবং সন্তানের খোরপোষ (ভরণপোষণ) দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

সালমার প্রশ্ন: ১. শুধু মৌখিকভাবে ‘তিন তালাক’ বললেই কি আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হয়ে যায়? ২. সন্তানকে কাছে রাখার আইনি অধিকার কার (হেফাজত বা জিম্মাদারি) এবং সন্তানের ভরণপোষণ আরিফ দিতে বাধ্য কি না? ৩. সালমা কি নিজের দেনমোহর ও খোরপোষ আদায়ের জন্য কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে?

আইনি সমাধান:

. বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হওয়া সংক্রান্ত সমাধান:

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা অনুযায়ী, কেবল মুখে ‘তালাক’ বললেই বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হয় না। তালাক দিতে চাইলে স্বামীকে লিখিতভাবে ইউপি চেয়ারম্যান/মেয়র/কাউন্সিলরকে নোটিশ দিতে হবে এবং তার একটি নকল (কপি) স্ত্রীকেও পাঠাতে হবে। নোটিশ পাওয়ার পর চেয়ারম্যান একটি শালিসি পরিষদ গঠন করবেন এবং ৯০ দিন সময় দেবেন আপস-রফার জন্য।

যেহেতু আরিফ কোনো আইনি নোটিশ দেয়নি, তাই আইনত তাদের বিবাহবিচ্ছেদ এখনো কার্যকর হয়নি। সালমা এখনো আরিফের বৈধ স্ত্রী। যদি আরিফ নোটিশ ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করে, তবে তা আইনত অপরাধ (৮ ধারা অনুযায়ী ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে)।

. সন্তানের জিম্মাদারি (Custody) খোরপোষের সমাধান:

সন্তানের জিম্মাদারি (Custody): মুসলিম আইন অনুযায়ী, সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে, শিশু বয়সে মায়ের কাছেই থাকবে। মেয়েসন্তানের ক্ষেত্রে মা বয়ঃসন্ধিকাল হওয়া পর্যন্ত তাকে কাছে রাখার অধিকার পান। তাই ৩ বছরের কন্যাসন্তান সম্পূর্ণভাবে সালমার কাছেই থাকবে।

সন্তানের খোরপোষ (Maintenance): বাবার আর্থিক অবস্থা যেমনই হোক, সন্তানের ভরণপোষণ (খাবার, পোশাক, চিকিৎসা, শিক্ষা) দেওয়া বাবার আইনি বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। বাবা সন্তানকে নিজের কাছে না রাখলেও খোরপোষ দিতে বাধ্য।

. দেনমোহর, ভরণপোষণ আইনি পদক্ষেপ:

সালমা তার অধিকার আদায়ের জন্য পারিবারিক আদালতে  মামলা দায়ের করতে পারবেন।

দেনমোহর : বিবাহকালে বা বিবাহের পর আরিফ যদি দেনমোহর পরিশোধ না করে থাকে, তবে সালমা পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে সম্পূর্ণ দেনমোহরের টাকা আদায়ের আবেদন করতে পারবেন।

স্ত্রীর খোরপোষ: যেহেতু আরিফ জোরপূর্বক সালমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় তালাকও দেয়নি, তাই এই সময়কালের জন্য সালমা নিজের খোরপোষ দাবি করতে পারবেন।

আইনি প্রতিকার: সালমা স্থানীয় সহকারী জজ আদালত (পারিবারিক আদালত)-এ গিয়ে একই সাথে ৩টি বিষয়ে মামলা করতে পারবেন: ১. দেনমোহর আদায়, ২. নিজের ও সন্তানের খোরপোষ আদায়, এবং ৩. সন্তানের জিম্মাদারি নিশ্চিতকরণ।

পরামর্শ: মুখে বলা তালাক আইনগতভাবে অকার্যকর। সালমা অবিলম্বে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করে দেনমোহর ও সন্তানের মাসিক খোরপোষ নির্ধারণের আবেদন করতে পারেন। আদালত আরিফকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেবেন; অনাদায়ে আরিফের সম্পত্তি ক্রোক বা তার কারাদণ্ডের আদেশ হতে পারে।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

আইনি জিজ্ঞাসা ও পরামর্শ

আপডেট সময় ০৩:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

সমস্যা: বরিশাল থেকে সালমা আকতার জানতে চেয়েছেন-

আরিফ ও সালমার বিবাহিত জীবন ৫ বছরের। তাঁদের ৩ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক বনিবনা না হওয়ায় আরিফ স্ত্রীকে না জানিয়ে এবং শালিসি পরিষদকে কোনো নোটিশ না দিয়েই মৌখিকভাবে “তিন তালাক” দিয়ে সালমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

এরপর আরিফ দ্বিতীয় বিয়ে করার ঘোষণা দেয় এবং সন্তানের খোরপোষ (ভরণপোষণ) দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

সালমার প্রশ্ন: ১. শুধু মৌখিকভাবে ‘তিন তালাক’ বললেই কি আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হয়ে যায়? ২. সন্তানকে কাছে রাখার আইনি অধিকার কার (হেফাজত বা জিম্মাদারি) এবং সন্তানের ভরণপোষণ আরিফ দিতে বাধ্য কি না? ৩. সালমা কি নিজের দেনমোহর ও খোরপোষ আদায়ের জন্য কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে?

আইনি সমাধান:

. বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হওয়া সংক্রান্ত সমাধান:

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা অনুযায়ী, কেবল মুখে ‘তালাক’ বললেই বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হয় না। তালাক দিতে চাইলে স্বামীকে লিখিতভাবে ইউপি চেয়ারম্যান/মেয়র/কাউন্সিলরকে নোটিশ দিতে হবে এবং তার একটি নকল (কপি) স্ত্রীকেও পাঠাতে হবে। নোটিশ পাওয়ার পর চেয়ারম্যান একটি শালিসি পরিষদ গঠন করবেন এবং ৯০ দিন সময় দেবেন আপস-রফার জন্য।

যেহেতু আরিফ কোনো আইনি নোটিশ দেয়নি, তাই আইনত তাদের বিবাহবিচ্ছেদ এখনো কার্যকর হয়নি। সালমা এখনো আরিফের বৈধ স্ত্রী। যদি আরিফ নোটিশ ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করে, তবে তা আইনত অপরাধ (৮ ধারা অনুযায়ী ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে)।

. সন্তানের জিম্মাদারি (Custody) খোরপোষের সমাধান:

সন্তানের জিম্মাদারি (Custody): মুসলিম আইন অনুযায়ী, সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে, শিশু বয়সে মায়ের কাছেই থাকবে। মেয়েসন্তানের ক্ষেত্রে মা বয়ঃসন্ধিকাল হওয়া পর্যন্ত তাকে কাছে রাখার অধিকার পান। তাই ৩ বছরের কন্যাসন্তান সম্পূর্ণভাবে সালমার কাছেই থাকবে।

সন্তানের খোরপোষ (Maintenance): বাবার আর্থিক অবস্থা যেমনই হোক, সন্তানের ভরণপোষণ (খাবার, পোশাক, চিকিৎসা, শিক্ষা) দেওয়া বাবার আইনি বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। বাবা সন্তানকে নিজের কাছে না রাখলেও খোরপোষ দিতে বাধ্য।

. দেনমোহর, ভরণপোষণ আইনি পদক্ষেপ:

সালমা তার অধিকার আদায়ের জন্য পারিবারিক আদালতে  মামলা দায়ের করতে পারবেন।

দেনমোহর : বিবাহকালে বা বিবাহের পর আরিফ যদি দেনমোহর পরিশোধ না করে থাকে, তবে সালমা পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে সম্পূর্ণ দেনমোহরের টাকা আদায়ের আবেদন করতে পারবেন।

স্ত্রীর খোরপোষ: যেহেতু আরিফ জোরপূর্বক সালমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় তালাকও দেয়নি, তাই এই সময়কালের জন্য সালমা নিজের খোরপোষ দাবি করতে পারবেন।

আইনি প্রতিকার: সালমা স্থানীয় সহকারী জজ আদালত (পারিবারিক আদালত)-এ গিয়ে একই সাথে ৩টি বিষয়ে মামলা করতে পারবেন: ১. দেনমোহর আদায়, ২. নিজের ও সন্তানের খোরপোষ আদায়, এবং ৩. সন্তানের জিম্মাদারি নিশ্চিতকরণ।

পরামর্শ: মুখে বলা তালাক আইনগতভাবে অকার্যকর। সালমা অবিলম্বে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করে দেনমোহর ও সন্তানের মাসিক খোরপোষ নির্ধারণের আবেদন করতে পারেন। আদালত আরিফকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেবেন; অনাদায়ে আরিফের সম্পত্তি ক্রোক বা তার কারাদণ্ডের আদেশ হতে পারে।