ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাবার আহাজারি: ‘ঋণ শোধ হলো না, বুক খালি হয়ে গেল’ Logo টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি: ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে মামলা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত জনসন অ্যান্ড জনসনের Logo বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড Logo বেরোবি’র সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহর জামিননামা মঞ্জুর, মুক্তিতে বাধা নেই Logo টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক: উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo বিকাশ, নগদ ও রকেটের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল Logo সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই করেই সিদ্ধান্ত: আইনমন্ত্রী Logo সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনি ভিত্তি দেখছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সাবেক রাষ্ট্রপতিকে কি গ্রেপ্তার করা সম্ভব? সাংবিধানিক দায়মুক্তি ও আইনি বিতর্কের ব্যবচ্ছেদ

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি: আলোচনায় যাঁরা

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী এবং জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর চর্চা চলছে। সংক্ষেপে পরিস্থিতিটি নিচে তুলে ধরা হলো:

মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদটি শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলীয় প্রার্থীরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

রাজনৈতিক অঙ্গন ও দলের নীতিনির্ধারণী মহলে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে:

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: বিএনপির মহাসচিব হিসেবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়ার দৌড়ে তাঁর নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই জ্যেষ্ঠ নেতার নামও রাজনৈতিক মহলে আলোচিত।

ড. মঈন খান: স্থায়ী কমিটির এই বিজ্ঞ সদস্যকে নিয়েও আলোচনা চলছে।

নজরুল ইসলাম খান: সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন স্থায়ী কমিটির এই জ্যেষ্ঠ নেতাও।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে তাঁর নামও উঠে এসেছে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ আলতাফ হোসেন চৌধুরী: বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও তালিকায় রয়েছে।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তাই এমন কাউকেই বেছে নেওয়া উচিত যিনি পরীক্ষিত, দলের প্রতি বিশ্বস্ত এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের অনুসারী। পাশাপাশি, রাজনৈতিক নৈতিকতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ বজায় রাখতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকেই এই পদে কাউকে আসীন করার পক্ষে জোর দিচ্ছেন দলীয় নেতারা।

স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জানান, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নেবে দল। বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে প্রার্থীও অবশ্যই দলীয় হবেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় রাজনৈতিক বলয়ের বাইরের কোনো অরাজনৈতিক ব্যক্তির রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ও সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন স্থায়ী কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন।

 

Tag :

বাবার আহাজারি: ‘ঋণ শোধ হলো না, বুক খালি হয়ে গেল’

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি: আলোচনায় যাঁরা

আপডেট সময় ১১:৩৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী এবং জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর চর্চা চলছে। সংক্ষেপে পরিস্থিতিটি নিচে তুলে ধরা হলো:

মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদটি শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলীয় প্রার্থীরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

রাজনৈতিক অঙ্গন ও দলের নীতিনির্ধারণী মহলে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে:

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: বিএনপির মহাসচিব হিসেবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়ার দৌড়ে তাঁর নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই জ্যেষ্ঠ নেতার নামও রাজনৈতিক মহলে আলোচিত।

ড. মঈন খান: স্থায়ী কমিটির এই বিজ্ঞ সদস্যকে নিয়েও আলোচনা চলছে।

নজরুল ইসলাম খান: সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন স্থায়ী কমিটির এই জ্যেষ্ঠ নেতাও।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে তাঁর নামও উঠে এসেছে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ আলতাফ হোসেন চৌধুরী: বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও তালিকায় রয়েছে।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তাই এমন কাউকেই বেছে নেওয়া উচিত যিনি পরীক্ষিত, দলের প্রতি বিশ্বস্ত এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের অনুসারী। পাশাপাশি, রাজনৈতিক নৈতিকতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ বজায় রাখতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকেই এই পদে কাউকে আসীন করার পক্ষে জোর দিচ্ছেন দলীয় নেতারা।

স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জানান, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নেবে দল। বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে প্রার্থীও অবশ্যই দলীয় হবেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় রাজনৈতিক বলয়ের বাইরের কোনো অরাজনৈতিক ব্যক্তির রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ও সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন স্থায়ী কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন।