ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

সরকারি সম্পত্তি আত্মসাত: সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ২৭ কাঠা সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুস সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

আজ সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৯ আগস্ট মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। আসামিপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, এদিন সকালে কারাগারে থাকা সালাম মুর্শেদীসহ অন্যান্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা বাকি আসামিরাও আদালতে হাজিরা দেন। আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বোরহান উদ্দীন এবং শাহীনুর ইসলামসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতি (ডিসচার্জ) চেয়ে শুনানি করেন। তবে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

সালাম মুর্শেদী ছাড়া এই মামলার অন্য প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, হুমায়ুন খাদেম (সাবেক চেয়ারম্যান, রাজউক), এম আজিজুল হক (প্রকৌশলী), লে. কর্নেল (অব.) এম নুরুল হক (সাবেক সদস্য, এস্টেট, রাজউক),আবদুর রহমান ভূঁঞা (সাবেক পরিচালক, রাজউক),মো. আজহারুল ইসলাম (সাবেক উপ-পরিচালক, এস্টেট), মো. হাবিব উল্লাহ (সাবেক তত্ত্বাবধায়ক),আবদুস সোবহান (সাবেক সহকারী সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়), মো. মাহবুবুল হক (সাবেক শাখা সহকারী), মীর মোহাম্মদ হাসান ও তার ভাই মীর মো. নুরুল আফছার (কক্সবাজারের বাসিন্দা)

মামলার অভিযোগ যা বলা হয়েছে

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তারা অসৎ উদ্দেশ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে ‘খ’ তালিকাভুক্ত গুলশান আবাসিক এলাকার সিইএন (ডি) ২৭ নং প্লটটি (হোল্ডিং নং-২৯, রোড নং-১০৪) পরিত্যক্ত সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও কোনো অবমুক্তকরণ ছাড়াই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা রেকর্ড তৈরি করেন।

পরবর্তীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই প্লটের হস্তান্তর অনুমতি ও নামজারি অনুমোদন দিয়ে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অবৈধ সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়। এই অপরাধে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই মামলায় গত ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সাবেক সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী সালাম মুর্শেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

সরকারি সম্পত্তি আত্মসাত: সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

আপডেট সময় ০৪:০৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ২৭ কাঠা সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুস সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

আজ সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৯ আগস্ট মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। আসামিপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, এদিন সকালে কারাগারে থাকা সালাম মুর্শেদীসহ অন্যান্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা বাকি আসামিরাও আদালতে হাজিরা দেন। আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বোরহান উদ্দীন এবং শাহীনুর ইসলামসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতি (ডিসচার্জ) চেয়ে শুনানি করেন। তবে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

সালাম মুর্শেদী ছাড়া এই মামলার অন্য প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, হুমায়ুন খাদেম (সাবেক চেয়ারম্যান, রাজউক), এম আজিজুল হক (প্রকৌশলী), লে. কর্নেল (অব.) এম নুরুল হক (সাবেক সদস্য, এস্টেট, রাজউক),আবদুর রহমান ভূঁঞা (সাবেক পরিচালক, রাজউক),মো. আজহারুল ইসলাম (সাবেক উপ-পরিচালক, এস্টেট), মো. হাবিব উল্লাহ (সাবেক তত্ত্বাবধায়ক),আবদুস সোবহান (সাবেক সহকারী সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়), মো. মাহবুবুল হক (সাবেক শাখা সহকারী), মীর মোহাম্মদ হাসান ও তার ভাই মীর মো. নুরুল আফছার (কক্সবাজারের বাসিন্দা)

মামলার অভিযোগ যা বলা হয়েছে

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তারা অসৎ উদ্দেশ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে ‘খ’ তালিকাভুক্ত গুলশান আবাসিক এলাকার সিইএন (ডি) ২৭ নং প্লটটি (হোল্ডিং নং-২৯, রোড নং-১০৪) পরিত্যক্ত সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও কোনো অবমুক্তকরণ ছাড়াই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা রেকর্ড তৈরি করেন।

পরবর্তীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই প্লটের হস্তান্তর অনুমতি ও নামজারি অনুমোদন দিয়ে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অবৈধ সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়। এই অপরাধে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই মামলায় গত ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সাবেক সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী সালাম মুর্শেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।