ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট

দণ্ডিতদের তথ্য সংবলিত অনলাইন ডেটাবেস কেন নয়: হাইকোর্টের রুল

ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত আসামিদের তথ্য নিয়ে একটি ‘সর্বজনীন প্রবেশযোগ্য অনলাইন ডেটাবেস’ (পাবলিকলি অ্যাক্সেসিবল অনলাইন ডেটাবেস) কেন তৈরি করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রবিবার (৯ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার। নিজ উদ্যোগে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন বলে তিনি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

অনলাইন ডেটাবেসের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার বলেন, “দেশে অপরাধপ্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। দণ্ডিত আসামিদের তথ্য সংবলিত একটি সর্বজনীন অনলাইন ডেটাবেস থাকলে সামাজিকভাবে বয়কট ও সমালোচনার ভয়ে মানুষ যেকোনো অপরাধে জড়ানোর আগে বারবার চিন্তা করবে। এতে অপরাধের মাত্রা ও সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “কর্মসংস্থানে নিয়োগ, গৃহকর্মী বা প্রতিষ্ঠানের কর্মী নির্বাচন এবং পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অতীত বা বর্তমান অপরাধের ইতিহাস সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে। ফলে সাধারণ মানুষের মৌলিক ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষা পাবে।”

বাংলাদেশে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় কোনো অপরাধীর শাস্তির রেকর্ড বা প্রাক-পরিচয় যাচাইয়ের জন্য একক কোনো কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু নেই। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সর্বজনীন ডেটাবেস তৈরি হলে তা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। তবে একই সাথে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং সাজা ভোগের পর অপরাধীর স্বাভাবিক সামাজিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ

দণ্ডিতদের তথ্য সংবলিত অনলাইন ডেটাবেস কেন নয়: হাইকোর্টের রুল

আপডেট সময় ০৪:৫৭:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত আসামিদের তথ্য নিয়ে একটি ‘সর্বজনীন প্রবেশযোগ্য অনলাইন ডেটাবেস’ (পাবলিকলি অ্যাক্সেসিবল অনলাইন ডেটাবেস) কেন তৈরি করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রবিবার (৯ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার। নিজ উদ্যোগে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন বলে তিনি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

অনলাইন ডেটাবেসের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার বলেন, “দেশে অপরাধপ্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। দণ্ডিত আসামিদের তথ্য সংবলিত একটি সর্বজনীন অনলাইন ডেটাবেস থাকলে সামাজিকভাবে বয়কট ও সমালোচনার ভয়ে মানুষ যেকোনো অপরাধে জড়ানোর আগে বারবার চিন্তা করবে। এতে অপরাধের মাত্রা ও সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “কর্মসংস্থানে নিয়োগ, গৃহকর্মী বা প্রতিষ্ঠানের কর্মী নির্বাচন এবং পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অতীত বা বর্তমান অপরাধের ইতিহাস সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে। ফলে সাধারণ মানুষের মৌলিক ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষা পাবে।”

বাংলাদেশে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় কোনো অপরাধীর শাস্তির রেকর্ড বা প্রাক-পরিচয় যাচাইয়ের জন্য একক কোনো কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু নেই। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সর্বজনীন ডেটাবেস তৈরি হলে তা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। তবে একই সাথে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং সাজা ভোগের পর অপরাধীর স্বাভাবিক সামাজিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতাও বিবেচনায় রাখতে হবে।