মাত্র সাত বছর বয়সে যৌন নির্যাতনের শিকার এক শিশুর সাহসিকতার প্রশংসা করে আবেগঘন একটি চিঠি লিখেছেন ভারতের এক বিচারক। চিঠিতে শিশুটিকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, তাকে নির্যাতনকারী ব্যক্তি আর কখনো কারাগারের বাইরে বের হতে পারবে না।
সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টের একটি আদেশের মাধ্যমে বিচারকের লেখা ওই চিঠির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মামলার বিচার শেষে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুকে ১০ লাখ ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
‘সবচেয়ে সাহসী ছোট্ট মেয়ে’
বিচারক রজনী রাঙ্গা রায়ের আনুষ্ঠানিক আইনি ভাষার পাশাপাশি শিশুটিকে উদ্দেশ করে একটি ব্যক্তিগত চিঠি লেখেন। সেখানে তিনি শিশুটিকে আদালতের দেখা ‘সবচেয়ে সাহসী ছোট্ট মেয়ে’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
চিঠিতে বিচারক জানান, নির্যাতনের পরও শিশুটি নীরব থাকেনি। সে সাহস করে তার মাকে বিষয়টি জানিয়েছে এবং আদালতে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে।
বিচারক শিশুটির একটি বক্তব্যও চিঠিতে উল্লেখ করেন। শিশুটি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ‘আঙ্কেল’ হিসেবে উল্লেখ করে তাকে বৃদ্ধ হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার কথা বলেছিল।
বিচারক লেখেন, আদালত শিশুটির সেই কথা শুনেছে এবং আদালতের দেওয়া সাজা তার সেই আকাঙ্ক্ষারই জবাব। অভিযুক্ত ব্যক্তি জীবনের বাকি সময় কারাগারেই কাটাবে এবং আর কোনো শিশুর ক্ষতি করার সুযোগ পাবে না—এমন আশ্বাসও দেওয়া হয় চিঠিতে।
চিঠিটি ক্ষতিপূরণের অর্থের সঙ্গে শিশুর কাছে পৌঁছানোর নির্দেশ
দিল্লি হাইকোর্ট গত ১১ জুলাই দেওয়া রায়ের সঙ্গে বিচারকের লেখা চিঠিটিকে শিশুটির জন্য একটি ‘উৎসাহের বার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
একই আদেশে আদালত আসামির জামিন এবং সাজা স্থগিতের আবেদন খারিজ করে দেন। পাশাপাশি দিল্লি স্টেট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটি চিঠিটি ছাপিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থের সঙ্গে শিশুটির কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিচারকের লেখা চিঠিটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই শিশুটির প্রতি বিচারকের সংবেদনশীল আচরণকে বিচারব্যবস্থার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
তবে একই সঙ্গে ভারতে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। সরকারি অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতে পকসো আইনের আওতায় ৬৯ হাজারের বেশি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। শিশু অধিকারকর্মীদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী শিশুর পরিচিত বা বিশ্বাসভাজন ব্যক্তিরাই এসব অপরাধে জড়িত থাকে।
শিশুটির সাহসিকতাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাকে মানসিকভাবে শক্ত থাকার বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারকের এই উদ্যোগকে সংশ্লিষ্টরা একটি মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সূত্র: বিবিসি
আইনবার্তা২৪ ডেস্ক 













