নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে দায়ের করা কোনো মামলার বিচারকাজ নির্ধারিত ১৮০ দিনের (৬ মাস) মধ্যে সম্পন্ন না হলেও সেই মামলা বাতিল বা বন্ধ হয়ে যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আইনে উল্লেখিত এই সময়সীমাটি বিচারকদের জন্য একটি ‘দিকনির্দেশনা মাত্র’, এটি বাধ্যতামূলক কোনো আইনি শর্ত নয়।
রায়ের মূল বিষয়সমূহ: নির্ধারিত ৬ মাসের মধ্যে বিচারকাজ শেষ না হলে কোনো মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর বা বাতিল হয়ে যাওয়ার সুযোগ আইনে নেই। ২০০৮ সালে ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজধানীর শ্যামপুর থানায় মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে পাভেলের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বিচার শেষ না হওয়ার যুক্তি দেখিয়ে ২০১১ সালে বিচার প্রক্রিয়া বাতিল ও স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আসামি পাভেল। দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট সেই রিট ও জারি করা রুল খারিজ করে রায় দেন, যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।
শুনানিতে হাইকোর্ট বলেন, নির্ধারিত সময়ে বিচার শেষ না হলে বিচার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে—এমন কোনো কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতার কথা আইনে বলা হয়নি। এছাড়া রিট আবেদনকারী আসামি আদালতের কাছে তথ্য গোপন করেছিলেন এবং তার দাবির কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না।
এই রায়ের মাধ্যমে ওই মামলার বিচারিক কার্যক্রমে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্বের স্থগিতাদেশ উঠে গেছে, ফলে নিম্ন আদালতে আসামির বিরুদ্ধে বিচারকাজ পুনরায় চালু হতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
আদালত প্রতিবেদক 













