দেশে বর্তমানে ৪৬ লাখের বেশি বিচারাধীন মামলা রয়েছে জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এই বিপুল মামলাজট নিরসন এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত আইনি সেবা পৌঁছাতে বিচার বিভাগের সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সম্প্রতি প্রণীত ‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বাস্তবায়নের নানাদিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ বছরের এপ্রিলে প্রণীত এই নতুন আইনটি ২০১২ সালের পূর্ববর্তী আইনকে প্রতিস্থাপন করেছে। নতুন আইনের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:
সমন্বিত কাঠামো: মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান—এই দুই অপরাধকে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলা: সাইবারভিত্তিক অপরাধ, আন্তর্জাতিক লেনদেন ও ডিজিটাল প্রমাণের আইনি ও প্রক্রিয়াগত দিক নিয়ে দিকনির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে।
সংজ্ঞা ও বিচারপ্রক্রিয়া: তদন্ত, মামলা পরিচালনা, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
পরামর্শ সভা থেকে বিচার বিভাগকে আরও কার্যকর করতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।
১. নতুন আইনের আলোকে উপযুক্ত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন।
২. বিচারক ও প্রসিকিউটরদের জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি।
৩. আন্তঃদেশীয় অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার।
৪. ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সার্বিক সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণ।
আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েসের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলগে এবং প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা মাহদি হাসান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত আঞ্চলিক উদ্যোগের আওতায় আয়োজিত এই সভার সুপারিশগুলো ২০২৬ সালের নতুন আইনটির মাঠপর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়নে নীতিগত ভূমিকা রাখবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 













