ঢাকা ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের আপিলের অনুমতি চেয়ে করা আবেদনের শুনানি চার সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

একই সঙ্গে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে মন্তব্য করায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলামকে সতর্ক করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী, ইমরান এ সিদ্দিকী, আইনজীবী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (নাজিব মোমেন) ও মীর ওসমান বিন নাসিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম।

অবকাশ শেষে হবে শুনানি

আদেশের পর আযাদের আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী বলেন, আপিল বিভাগের অবকাশকালীন ছুটি শেষে মামলাটি আবার শুনানির জন্য উঠবে। তখন মূল আপিল এবং আপিলের অনুমতি চেয়ে করা আবেদনের ওপর একসঙ্গে শুনানি হতে পারে।

আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শুরু হবে। ছুটি শেষে ২৫ অক্টোবর নিয়মিত আদালত বসবে।

আইনজীবী জানান, আযাদের মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের মেয়াদ আগামী ২২ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্যে সতর্কতা

বিচারাধীন বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে মন্তব্য করায় প্রধান কৌঁসুলিকে আদালত সতর্ক করেছেন বলে জানান আযাদের আইনজীবী।

প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলামও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত বিচারাধীন বিষয়ে অগ্রিম মন্তব্য না করতে বলেছেন। ভবিষ্যতে তারা এ বিষয়ে অগ্রিম মন্তব্য করবেন না।

৪ হাজার ৯১৫ দিনের বিলম্ব মার্জনা চেয়ে আপিল

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রায় ১৩ বছর আগের রায়ের বিরুদ্ধে গত ৬ জুলাই আপিল করেন আবুল কালাম আযাদ।

আপিলে তিনি ৪ হাজার ৯১৫ দিনের বিলম্ব মার্জনা চেয়েছেন। একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার আবেদন করেন।

গত ১৭ আগস্ট আপিল ও সাজা স্থগিতের আবেদনটি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আযাদের আপিল খারিজের আবেদন করা হয়।

পরে মঙ্গলবার বিষয়টি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। শুনানি শেষে আদালত চার সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতবি করেন।

আত্মসমর্পণের সুযোগ নিয়ে প্রসিকিউশনের আপত্তি

এর আগে সোমবার এক ব্রিফিংয়ে প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, আপিল দায়েরের শর্তে আবুল কালাম আযাদকে আত্মসমর্পণের যে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তা আইনসম্মত নয়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে। নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ওই আইনের বিধান অতিক্রম করে কোনো সুযোগ দেওয়ার এখতিয়ার সরকারের নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

আবুল কালাম আযাদের মামলাটি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রায় ১৩ বছর পর তার আপিলের সুযোগ এবং দীর্ঘ বিলম্ব মার্জনার প্রশ্নটি এখন আপিল বিভাগের বিবেচনায় রয়েছে। আদালতের চার সপ্তাহের মুলতবি আদেশে মূলত আপিলের গ্রহণযোগ্যতা ও বিলম্বের কারণ খতিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারাধীন বিষয়ে গণমাধ্যমে অগ্রিম মন্তব্য না করার বিষয়ে আদালতের সতর্কতা বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও বিচারাধীন মামলায় জনমত প্রভাবিত না করার নীতির গুরুত্বও তুলে ধরে। এখন পরবর্তী শুনানিতে আপিলের অনুমতি এবং মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের বিষয়ে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তই হবে মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি

আপডেট সময় ০২:২৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের আপিলের অনুমতি চেয়ে করা আবেদনের শুনানি চার সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

একই সঙ্গে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে মন্তব্য করায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলামকে সতর্ক করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী, ইমরান এ সিদ্দিকী, আইনজীবী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (নাজিব মোমেন) ও মীর ওসমান বিন নাসিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম।

অবকাশ শেষে হবে শুনানি

আদেশের পর আযাদের আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী বলেন, আপিল বিভাগের অবকাশকালীন ছুটি শেষে মামলাটি আবার শুনানির জন্য উঠবে। তখন মূল আপিল এবং আপিলের অনুমতি চেয়ে করা আবেদনের ওপর একসঙ্গে শুনানি হতে পারে।

আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শুরু হবে। ছুটি শেষে ২৫ অক্টোবর নিয়মিত আদালত বসবে।

আইনজীবী জানান, আযাদের মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের মেয়াদ আগামী ২২ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্যে সতর্কতা

বিচারাধীন বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে মন্তব্য করায় প্রধান কৌঁসুলিকে আদালত সতর্ক করেছেন বলে জানান আযাদের আইনজীবী।

প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলামও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত বিচারাধীন বিষয়ে অগ্রিম মন্তব্য না করতে বলেছেন। ভবিষ্যতে তারা এ বিষয়ে অগ্রিম মন্তব্য করবেন না।

৪ হাজার ৯১৫ দিনের বিলম্ব মার্জনা চেয়ে আপিল

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রায় ১৩ বছর আগের রায়ের বিরুদ্ধে গত ৬ জুলাই আপিল করেন আবুল কালাম আযাদ।

আপিলে তিনি ৪ হাজার ৯১৫ দিনের বিলম্ব মার্জনা চেয়েছেন। একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার আবেদন করেন।

গত ১৭ আগস্ট আপিল ও সাজা স্থগিতের আবেদনটি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আযাদের আপিল খারিজের আবেদন করা হয়।

পরে মঙ্গলবার বিষয়টি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। শুনানি শেষে আদালত চার সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতবি করেন।

আত্মসমর্পণের সুযোগ নিয়ে প্রসিকিউশনের আপত্তি

এর আগে সোমবার এক ব্রিফিংয়ে প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, আপিল দায়েরের শর্তে আবুল কালাম আযাদকে আত্মসমর্পণের যে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তা আইনসম্মত নয়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে। নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ওই আইনের বিধান অতিক্রম করে কোনো সুযোগ দেওয়ার এখতিয়ার সরকারের নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

আবুল কালাম আযাদের মামলাটি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রায় ১৩ বছর পর তার আপিলের সুযোগ এবং দীর্ঘ বিলম্ব মার্জনার প্রশ্নটি এখন আপিল বিভাগের বিবেচনায় রয়েছে। আদালতের চার সপ্তাহের মুলতবি আদেশে মূলত আপিলের গ্রহণযোগ্যতা ও বিলম্বের কারণ খতিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারাধীন বিষয়ে গণমাধ্যমে অগ্রিম মন্তব্য না করার বিষয়ে আদালতের সতর্কতা বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও বিচারাধীন মামলায় জনমত প্রভাবিত না করার নীতির গুরুত্বও তুলে ধরে। এখন পরবর্তী শুনানিতে আপিলের অনুমতি এবং মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের বিষয়ে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তই হবে মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।