ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

প্যাডেল রিকশা বন্ধ ও ব্যাটারিচালিত রিকশার নীতিমালার দাবিতে আইনি নোটিশ

দেশের সড়ক ব্যবস্থা থেকে প্যাডেলচালিত রিকশা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে নিরাপদ ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমোদন ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রাইভেট কার চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় প্রান্তিক নাগরিকরা চরম প্রতিকূল পরিবেশে প্যাডেল রিকশা টানার মতো কঠোর কায়িক শ্রমে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে তাদের শরীরে দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা ও অকাল বার্ধক্য দেখা দিচ্ছে। এটি দারিদ্র্যের শৃঙ্খলে আবদ্ধ এক ধরনের ‘আধুনিক দাসত্ব’। সংবিধানের ৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় সরকারকে অবিলম্বে প্যাডেল রিকশা বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও স্থানীয় চাহিদার নিরিখে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে পরিবহন ব্যবস্থার এক মানবিক ও স্বাভাবিক আধুনিক রূপ বলে অভিহিত করা হয়েছে। নোটিশে গতি, ব্রেকিং সিস্টেম, ব্যাটারির মান ও নিরাপদ চার্জিং সুবিধাসহ সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে অনুমোদন দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এতে বলা হয়, এই রিকশায় বিদ্যুৎ ব্যবহার রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষম বণ্টন ও অর্থনৈতিক গতিশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দেশের মাত্র ১ শতাংশেরও কম মানুষ প্রাইভেট কার ব্যবহার করলেও তা সড়কের বড় অংশ দখল করে রাখছে এবং বায়ুদূষণ ঘটাচ্ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও জ্বালানি ভর্তুকির ওপর চাপ বাড়ছে। তাই সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষায় প্রাইভেট কারের ওপর উচ্চহারে পরিবেশ কর ধার্যসহ কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি করা হয়েছে।

নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্যাডেল রিকশা বন্ধ, ব্যাটারিচালিত রিকশার নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

প্যাডেল রিকশা বন্ধ ও ব্যাটারিচালিত রিকশার নীতিমালার দাবিতে আইনি নোটিশ

আপডেট সময় ০৪:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের সড়ক ব্যবস্থা থেকে প্যাডেলচালিত রিকশা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে নিরাপদ ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমোদন ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রাইভেট কার চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় প্রান্তিক নাগরিকরা চরম প্রতিকূল পরিবেশে প্যাডেল রিকশা টানার মতো কঠোর কায়িক শ্রমে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে তাদের শরীরে দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা ও অকাল বার্ধক্য দেখা দিচ্ছে। এটি দারিদ্র্যের শৃঙ্খলে আবদ্ধ এক ধরনের ‘আধুনিক দাসত্ব’। সংবিধানের ৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় সরকারকে অবিলম্বে প্যাডেল রিকশা বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও স্থানীয় চাহিদার নিরিখে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে পরিবহন ব্যবস্থার এক মানবিক ও স্বাভাবিক আধুনিক রূপ বলে অভিহিত করা হয়েছে। নোটিশে গতি, ব্রেকিং সিস্টেম, ব্যাটারির মান ও নিরাপদ চার্জিং সুবিধাসহ সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে অনুমোদন দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এতে বলা হয়, এই রিকশায় বিদ্যুৎ ব্যবহার রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষম বণ্টন ও অর্থনৈতিক গতিশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দেশের মাত্র ১ শতাংশেরও কম মানুষ প্রাইভেট কার ব্যবহার করলেও তা সড়কের বড় অংশ দখল করে রাখছে এবং বায়ুদূষণ ঘটাচ্ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও জ্বালানি ভর্তুকির ওপর চাপ বাড়ছে। তাই সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষায় প্রাইভেট কারের ওপর উচ্চহারে পরিবেশ কর ধার্যসহ কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি করা হয়েছে।

নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্যাডেল রিকশা বন্ধ, ব্যাটারিচালিত রিকশার নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।