ঢাকা ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

এআই দিয়ে রায় লেখা অনুচিত : প্রধান বিচারপতি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে বিচারিক রায় লেখা অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি দিয়ে অন্য যেকোনো কাজ করা সম্ভব হলেও কোনো অবস্থাতেই রায় লেখা যাবে না।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অসীম উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই দিকই রয়েছে। তাই আমাদের জানতে হবে আমরা কতটা এবং কীভাবে এর প্রয়োগ করব।” প্রযুক্তির ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি ব্রিটেনের একটি মামলার উদাহরণ দেন। তিনি জানান, সেখানে এআইয়ের ভুল ও ভুয়া মামলার রেফারেন্সের ওপর ভিত্তি করে একটি রায় দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে গবেষণায় ভুয়া প্রমাণিত হলে আদালত চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। প্রধান বিচারপতি সতর্ক করে বলেন, “এআইয়ের মূল ঝুঁকি হলো এটি সঠিকভাবে যাচাই না করে ব্যবহার করা অত্যন্ত কঠিন।”

নিজের ২৩ বছরের বিচারিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, রায় লেখার ক্ষেত্রে তিনটি মৌলিক বিষয় অপরিহার্য—

মামলার ঘটনা (Facts): মামলার মূল বিষয়বস্তু ও ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা।

প্রযোজ্য আইন (Law): সেই নির্দিষ্ট ঘটনার ওপর সঠিক আইন, ধারা বা উপধারা প্রয়োগ করা।

বিবেক ও নৈতিকতা (Ethics): সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুহূর্তে বিচারকের নিজস্ব বিবেক বা নৈতিক বোধ ব্যবহার করা।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, মানুষের এই বিবেক বা স্বপ্রণোদিত চিন্তাশক্তি কখনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মানুষ যেদিন তার নিজস্ব চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলবে, সেদিন সে মানসিকভাবে ছোট হয়ে যাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনোভা শেলী।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

এআই দিয়ে রায় লেখা অনুচিত : প্রধান বিচারপতি

আপডেট সময় ০৫:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে বিচারিক রায় লেখা অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি দিয়ে অন্য যেকোনো কাজ করা সম্ভব হলেও কোনো অবস্থাতেই রায় লেখা যাবে না।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অসীম উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই দিকই রয়েছে। তাই আমাদের জানতে হবে আমরা কতটা এবং কীভাবে এর প্রয়োগ করব।” প্রযুক্তির ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি ব্রিটেনের একটি মামলার উদাহরণ দেন। তিনি জানান, সেখানে এআইয়ের ভুল ও ভুয়া মামলার রেফারেন্সের ওপর ভিত্তি করে একটি রায় দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে গবেষণায় ভুয়া প্রমাণিত হলে আদালত চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। প্রধান বিচারপতি সতর্ক করে বলেন, “এআইয়ের মূল ঝুঁকি হলো এটি সঠিকভাবে যাচাই না করে ব্যবহার করা অত্যন্ত কঠিন।”

নিজের ২৩ বছরের বিচারিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, রায় লেখার ক্ষেত্রে তিনটি মৌলিক বিষয় অপরিহার্য—

মামলার ঘটনা (Facts): মামলার মূল বিষয়বস্তু ও ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা।

প্রযোজ্য আইন (Law): সেই নির্দিষ্ট ঘটনার ওপর সঠিক আইন, ধারা বা উপধারা প্রয়োগ করা।

বিবেক ও নৈতিকতা (Ethics): সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুহূর্তে বিচারকের নিজস্ব বিবেক বা নৈতিক বোধ ব্যবহার করা।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, মানুষের এই বিবেক বা স্বপ্রণোদিত চিন্তাশক্তি কখনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মানুষ যেদিন তার নিজস্ব চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলবে, সেদিন সে মানসিকভাবে ছোট হয়ে যাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনোভা শেলী।