বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত কোচিং কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সরাসরি পরিচালিত কোচিংয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত বাণিজ্যিক কোচিংও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচার শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী এতে স্বাক্ষর করেন।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের কোনো সদস্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বাণিজ্যিক কোচিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না। এর মধ্যে সরাসরি কোচিং সেন্টারের কার্যক্রমের পাশাপাশি অনলাইন বা অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত কোচিংও অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া কোচিং কার্যক্রমের বাণিজ্যিক প্রচারে কোনো বিচারকের নাম; পদবি; ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করা যাবে না। কোনো বিচারক এমন ব্যবহারের অনুমোদনও দিতে পারবেন না।
বিচারিক দায়িত্ব পালনের সুবাদে কোনো বিচারকের কাছে আসা গোপনীয়, অপ্রকাশিত বা দাপ্তরিক তথ্য কোচিং কার্যক্রমে ব্যবহার বা প্রকাশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, কোনো বিচারক বিচারিক দায়িত্ব পালনের সময় পাওয়া সংবেদনশীল বা অপ্রকাশিত তথ্য সরাসরি কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কোচিংয়ে প্রকাশ, সরবরাহ বা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার করতে পারবেন না।
বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত কোচিংয়ের জন্য শিক্ষাসামগ্রী প্রস্তুত, সম্পাদনা, প্রকাশ বা সরবরাহের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফলে কোনো বিচারক বাণিজ্যিক কোচিং কার্যক্রমকে সহায়তা করে এমন শিক্ষাসামগ্রী তৈরির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত হতে পারবেন না।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, বিচারকদের পেশাগত শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের দৃঢ় আস্থা অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিচারকদের বাণিজ্যিক কোচিং কার্যক্রম থেকে দূরে রাখার মাধ্যমে বিচারিক দায়িত্বের সঙ্গে ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক স্বার্থের সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো এবং বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও ভাবমূর্তি রক্ষা করাই নির্দেশনাটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
পরিপত্রে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে, এসব নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য শৃঙ্খলাসংক্রান্ত আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই নির্দেশনার ফলে জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের বাণিজ্যিক কোচিং, অনলাইন কোর্স এবং সংশ্লিষ্ট প্রচারমূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার সুযোগ আরও স্পষ্টভাবে সীমিত হলো। বিশেষ করে বিচারকের পরিচয়, বিচারিক দায়িত্ব থেকে পাওয়া তথ্য এবং পেশাগত মর্যাদা কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করার বিষয়টি নির্দেশনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
আইনবার্তা২৪ প্রতিবেদক 













