বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা রয়েছে। এর আগে গত ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে সাইফুর রহমানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করবে প্রসিকিউশন।
এর আগে সাবেক সেনাকর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলমান গুমের মামলায় সাক্ষ্য দেন তাঁর সাবেক দেহরক্ষী ও সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েস। তাঁর সাক্ষ্যে ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনাসংক্রান্ত তথ্য উঠে আসে।
ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষ্যে ইমরুল কায়েস দাবি করেন, ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার আগে ঢাকার মহাখালী এলাকায় পরিচালিত একটি অভিযানে জিয়াউল আহসানের সঙ্গে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
প্রসিকিউশনের দাবি, সাক্ষ্য ও তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতেই সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়া হয়।
২০১২ সালে গুম হন ইলিয়াস আলী
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালক আনসার আলী নিখোঁজ হন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের আর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ইলিয়াস আলী সিলেট-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর নিখোঁজের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত গুমের ঘটনাগুলোর একটি।
মামলার বর্তমান অবস্থান
ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা। সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে বর্তমানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হলে আদালত পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন।
আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বা কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধী প্রমাণিত হয়েছেন—এমন নয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগের পরই আদালত অপরাধের দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
আইনবার্তা২৪ প্রতিবেদক 














