ঢাকা ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা: হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) আবেদন এবং আসামির আপিলের শুনানি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাইকোর্টে শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানির কার্যক্রম শুরু হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। শুনানিকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইনজীবী রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নির্মম ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সবশেষ ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ শিশুটি মারা যায়।

ওই মামলায় মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান ২০২৫ সালের ১৭ মে প্রধান আসামি—আছিয়ার বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। রায়ে অপর তিন আসামি—আছিয়ার বোনের জামাই সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়। বিচারিক আদালতের রায়ের পর নিয়মানুযায়ী, মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের একাধিক নির্মম ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন।

এই বিশেষ বেঞ্চে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিমও গঠন করা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে গঠিত এই টিমে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ কবির। এছাড়া সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাহবুবা তাসনিম আঁখি, মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল, আশরাফুল আলম, রোহানী সিদ্দীকা ও আল আমীন সিদ্দিকী।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা: হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু

আপডেট সময় ০৩:২৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) আবেদন এবং আসামির আপিলের শুনানি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাইকোর্টে শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানির কার্যক্রম শুরু হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। শুনানিকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইনজীবী রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নির্মম ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সবশেষ ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ শিশুটি মারা যায়।

ওই মামলায় মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান ২০২৫ সালের ১৭ মে প্রধান আসামি—আছিয়ার বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। রায়ে অপর তিন আসামি—আছিয়ার বোনের জামাই সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়। বিচারিক আদালতের রায়ের পর নিয়মানুযায়ী, মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের একাধিক নির্মম ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন।

এই বিশেষ বেঞ্চে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিমও গঠন করা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে গঠিত এই টিমে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ কবির। এছাড়া সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাহবুবা তাসনিম আঁখি, মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল, আশরাফুল আলম, রোহানী সিদ্দীকা ও আল আমীন সিদ্দিকী।